খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালা সারা বছর সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয় জোরদারে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

কমিটির সদস্যরা হলেন:

১। মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন — আহ্বায়ক

২। ব্রিগেড কমান্ডার, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী — সদস্য

৩। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চট্টগ্রাম ওয়াসা — সদস্য

৪। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন), চট্টগ্রাম — সদস্য

৫। জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম — সদস্য

৬। উপসচিব, সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা, স্থানীয় সরকার বিভাগ — সদস্য

৭। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ — সদস্য

৮। প্রকল্প পরিচালক, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী — সদস্য

৯। সদস্য (প্রকৌশল), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ — সদস্য

১০। সচিব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন — সদস্য

১১। প্রধান প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন — সদস্য

১২। প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন — সদস্য

১৩। চীফ হাইড্রোগ্রাফার, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ — সদস্য

১৪। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম — সদস্য

১৫। প্রকল্প পরিচালক, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ — সদস্য

১৬। মহাব্যবস্থাপক, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, চট্টগ্রাম — সদস্য

১৭। প্রকল্প পরিচালক, চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্প, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ — সদস্য

১৮। জনাব শাহরিয়ার খালেদ, খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন — সদস্য

১৯। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন — সদস্য সচিব

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। একই সাথে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের অগ্রগতি তদারকি করবে।

কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আহ্বান করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে। পাশাপাশি জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ প্রদান এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার প্রতিনিধিকে কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও থাকবে কমিটির।

Feb2

নিষেধাজ্ঞা শেষ, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
নিষেধাজ্ঞা শেষ, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে। দীর্ঘ দুই মাস পর জেলেরা ইলিশ ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণের জন্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস চাঁদপুরসহ ৬ জেলার ৫টি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিস বলছে, এবারের অভিযান প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে।

সরেজমিনে চাঁদপুরের জেলে পাড়াগুলোতে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে ইলিশ ধরার জাল সেলাই করা থেকে শুরু করে নৌকার ভাঙা অংশ মেরামত ও ইঞ্জিনসহ সবকিছু ঠিক করে নিয়েছেন জেলেরা। তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন। এখন মাছ পেলে সংসারের খরচ জোগাতে পারবেন, নয়তো দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।

সদর উপজেলার বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম বলেন, নৌকা-জাল মেরামত করতে ছোট নৌকা হওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন যদি ইলিশ পাওয়া যায়, ঋণ দেওয়া যাবে এবং সংসারও চলবে।

একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় ৭ জন কাজ করে। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তাতে সংসার চলে না।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছে; এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে, এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা হয়েছে, তেমনি জাতীয়ভাবে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ৪ মাস ৪০ কেজি করে চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এ বছরই প্রথম জাটকা প্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সমাবেশ-মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিলো ১১ দলীয় ঐক্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
সমাবেশ-মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিলো ১১ দলীয় ঐক্য

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কয়েক মাসব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকায় মহাসমাবেশ, বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

এর আগে বেলা ১১টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে বৈঠকে বসে লিয়াজোঁ কমিটি।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হবে। এরপর ১৩ জুন চট্টগ্রামে, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন ময়মনসিংহে, ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলাকে সম্পৃক্ত করা হবে।’

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে একটি মাত্র সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের পর জুন থেকে আবারও পুরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘১১ দলের বৈঠকে বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। সবশেষে আগামী অক্টোবরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করা হবে।’

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

তিনি বলেন, যেই কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যিনি যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিক প্রত্যেকেই যে যার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়-স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই- ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সবার।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।