খুঁজুন
বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

মিরসরাই প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৮৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। মিরসরাই আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন।

তিনি বাংলাদেশের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল তুহিন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Feb2

পশ্চিমাঞ্চল রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
পশ্চিমাঞ্চল রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

নিরাপদ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের অবকাঠামো পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম ধাপ)’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যার পুরো অর্থই সরকারি নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ রেলওয়ে বাস্তবায়ন করবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ২০৩১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- নির্ধারিত গতিতে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন এবং রেল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো।

ওই কর্মকর্তা জানান, পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল নেটওয়ার্কে ক্রমবর্ধমান পরিচালন চাপ এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডর।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এসএম শাকিল আখতার বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের রেললাইন আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে এখনো আধুনিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও কোচের সংকট রয়েছে। তাই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় গত একনেক সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নতুন লোকোমোটিভ, কোচ ও মালবাহী বগি সংগ্রহে নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ১ হাজার ৯৩০ দশমিক ৮৮ রুট কিলোমিটার এবং ২ হাজার ৫০৫ দশমিক ৫০ ট্র্যাক কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এসব রেলপথে নিয়মিত যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে এই নেটওয়ার্কের বড় অংশ ১ হাজার ৯৩০, ১ হাজার ৯৪৩, ১ হাজার ৯৬৮ ও ১ হাজার ৯৬৯ সালে স্থাপিত পুরোনো রেললাইন দিয়ে গড়ে ওঠায় অনেক অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

বেশ কিছু অংশে রেললাইনের ক্ষয়ের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে রেললাইনে ফাটল, ওয়েল্ডিং জয়েন্টে ত্রুটি এবং লাইন ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এতে নিরাপদ ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, রেললাইনের স্লিপার ও ব্যালাস্টের অবস্থাও উদ্বেগজনক। অনেক এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত ও অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ট্র্যাকের স্থিতিশীলতা ও সঠিক গেজ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যালাস্টেরও ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। এতে ট্র্যাকের ভারসাম্য ও গেজ সুরক্ষা দুর্বল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।

সৈয়দপুর-জয়দেবপুর করিডোরসহ কয়েকটি রেলপথ ২০০০ সালের শুরুর দিকে পুরোনো সরঞ্জাম দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে বেশি ট্রেন চলাচলের কারণে এসব লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এতে রেললাইন, স্লিপার ও ফিটিংসের কার্যকারিতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক এলাকায় ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে আনতে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ভবানীপুর থেকে এমজিএমসিএল পর্যন্ত ২১ দশমিক ৪৯২ কিলোমিটার রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন করা হবে। এছাড়া ৫০০ দশমিক ২ কিলোমিটার রেললাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আরও ৪৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার রেলপথের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন করা হবে। এর মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও মালবাহী পরিবহন সচল রাখতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেলপথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে জয়দেবপুর-ইব্রাহিমাবাদ, সয়দাবাদ-ঈশ্বরদী বাইপাস, ঈশ্বরদী বাইপাস-মালঞ্চি, ভেড়ামারা-ঈশ্বরদী বাইপাস, মালঞ্চি-সাহাগোলা, সাহাগোলা-সান্তাহার, সান্তাহার-জয়পুরহাট, জয়পুরহাট-বিরামপুর, বিরামপুর-পার্বতীপুর, আব্দুলপুর-রাজশাহী কোর্ট এবং ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথ।

প্রকল্প এলাকা রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের একাধিক জেলায় বিস্তৃত। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী ও কুষ্টিয়া।

দেশীয় পরিবহন উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকল্পটি আঞ্চলিক রেল সংযোগ জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল বেনাপোল, দর্শনা, রহনপুর, বিরল ও চিলাহাটির মতো প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে মালবাহী পরিবহনের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে। এসব বন্দরে নিয়মিত পাথর, বোল্ডারসহ ভারী মালামাল পরিবহন করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে- বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেলভিত্তিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির উদ্যোগগুলোও শক্তিশালী হবে।

প্রকল্পটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক (টিএআর), দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক), বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ফোরাম, বিমস্টেক এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগের মতো আঞ্চলিক সংযোগ কাঠামোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করেছে।

সক্রিয় হচ্ছে এল নিনো, এবারের বর্ষায় কম বৃষ্টির আভাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
সক্রিয় হচ্ছে এল নিনো, এবারের বর্ষায় কম বৃষ্টির আভাস

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও সক্রিয় হওয়ার পথে রয়েছে এল নিনো। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এল নিনো পরিস্থিতি গড়ে ওঠার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষাকালের আগমন বিলম্বিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং ভ্যাপসা গরম বাড়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার চলতি বছরের এপ্রিলে জানিয়েছে, মে-জুলাই মৌসুমে এল নিনো শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে এল নিনো সাউদার্ন অসকিলেশন (ইএনএসও) পূর্বাভাস কেন্দ্র আইআরআইয়ের মডেল অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন মৌসুমে এল নিনো পরিস্থিতির সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ এবং বছরের শেষভাগে তা ৮৮ থেকে ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফরকাস্টের সাম্প্রতিক মৌসুমি পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সংস্থাটির একাধিক মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে।

এল নিনো কি?
এল নিনো হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি দেখা দেয়। এর বিপরীত অবস্থাকে বলা হয় ‌‘লা নিনা’, যখন ওই অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এই দুই ঘটনা। এল নিনোর সময় অনেক অঞ্চলে খরা, তাপপ্রবাহ ও কম বৃষ্টিপাত দেখা যায়। অন্যদিকে লা নিনার সময় অনেক এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রবণতা বাড়ে।

বাংলাদেশে কী হবে?
এল নিনো সরাসরি বাংলাদেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করলেও এটি দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্তমানে এল নিনো কেবল সক্রিয় হওয়ার পথে রয়েছে। বিষয়টিকে আমাদের দেশে অনেকে অতিরঞ্জিতভাবে ‘সুপার এল নিনো’ বলে উল্লেখ করে। বাস্তবে এর প্রভাব টেলিকানেকশনের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করতে হয়।

তিনি বলেন, এল নিনো সক্রিয় হলে বর্ষাকালের আগমন কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। তবে এসব বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। জলবায়ু সবসময় নির্দিষ্টভাবে আচরণ করে না। তবে মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়া, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়া ও ভ্যাপসা গরম বাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ২০২৪ সালে এল নিনো সক্রিয় ছিল। সে সময় দেশে টানা ৩৫ দিন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। তবে ২৪ সালের বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তখন এল নিনো নিউট্রাল অবস্থায় চলে যাওয়ায় বর্ষায় আবার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল, দেশে ফ্ল্যাশ ফ্লাড কিংবা বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্ষা ও এল নিনোর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক এখনো সুস্পষ্ট নয়। এ ধরনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণাকে বলা হয় ‘কোরিলেশন’ বা ‘টেলিকানেকশন’। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেলে এবং ট্রেড উইন্ড বা বাণিজ্যিক বায়ুর গতিবেগ কমে গেলে দেশের বৃষ্টিপাতেও প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সাধারণভাবে এল নিনো সক্রিয় থাকলে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হতে পারে বা বর্ষার আগমন বিলম্বিত হতে পারে।

বর্ষায় ভ্যাপসা গরম
বর্ষাকালে সাধারণত বাতাসে জলীয়বাষ্প বা আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এ সময় ঘনঘন বৃষ্টি হলেও বাতাসে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ বের হতে বাধাগ্রস্ত হয় এবং মানুষ বেশি অস্বস্তি অনুভব করে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালের ভ্যাপসা গরমের পেছনে শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বড় ভূমিকা রাখে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, বর্ষাকালে মেঘ, বাতাসের গতিবেগ, সূর্যের তাপ, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যসহ বিভিন্ন উপাদান একসঙ্গে কাজ করে। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে এবং আর্দ্রতা বেশি হলে অস্বস্তি আরও বাড়ে। এ কারণে অনেক সময় তাপমাত্রা খুব বেশি না থাকলেও মানুষের কাছে গরম বেশি অনুভূত হয়।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্ষাকালের গরমে অস্বস্তি বেশি। মাঝেমধ্যে এটা মার্চ-এপ্রিলের চেয়েও কষ্টদায়ক হয়। কিন্তু আমাদের

দেশে একটা প্রশ্ন প্রায় ই উঠে ‘এবারের গরম জীবনে দেখিনি’। কিন্তু বর্ষার সময় বৃষ্টি কম থাকলে, গরমের এই অস্বস্তিটা স্বাভাবিক। এভাবেই হয়ে আসছে। তাই মানুষ আগের অভিজ্ঞতা ভুলে যায়।

কেমন যেতে পারে এবারের বর্ষা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের (মে-জুলাই) তিন মাসব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে তিন থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে যার মধ্যে এক-দুটি নিম্নচাপ/ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। জুন মাসের প্রথমার্ধে সারাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষাকাল) বিস্তার লাভ করতে পারে। এছাড়া দেশে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাসহ ৮-১০ দিন হালকা/মাঝারি যার মধ্যে দুই-তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি/বজ্রসহ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দিয়ে থাকি। আবহাওয়া ও ক্লাইমেটের প্যাটার্ন এখন চেঞ্জ হওয়ায় পূর্বাভাস পুরোপুরি নাও মিলতে পারে। তবে এবারের বর্ষায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অটিজমে আক্রান্তদের পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
অটিজমে আক্রান্তদের পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি নাগরিকের মতো অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।

‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার বিকল্প নেই। এই প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান’। অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও গুরুত্ব সহকারে পালন হচ্ছে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬’। সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’ এ দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু, ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, সহায়ক উপকরণ উদ্ভাবকসহ অটিজম বিষয়ে কর্মরত ব্যক্তি, সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনসমূহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অন্যতম জনবহুল দেশ। অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিশু/ব্যক্তি অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যার শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি বৈষ্যমহীন, মেধাভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক জনগণকেন্দ্রিক মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রতিবন্ধী বিষয়ক আইনগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মর্যাদাপূর্ণ, সহায়ক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার সীমাবদ্ধতা জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সামাজিক সক্ষমতা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মানোন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন যারা খেলাধুলায় আগ্রহী আমরা ইতোমধ্যেই তাদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আরও বেশিসংখ্যক ব্যক্তি যাতে প্যারা-অলিম্পিকে অংশ নিতে পারে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রয়াস, আন্তরিক সদিচ্ছা এবং মানবিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সব মানুষ, তাদের বৈশিষ্ট্য ও পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও, সমান সুযোগ, সম্মান এবং মর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী ‘১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষ্যে অটিজম বৈশিষ্টসম্পন্ন ব্যক্তি, তাদের বাবা-মা, স্বজন এবং পরিচর্যাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভ কামনা জানান এবং দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।