খুঁজুন
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাকের প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
তামাকের প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

রোববার (৩১ মে) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।

তারেক রহমান বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরো শক্তিশালী করতে সংশোধন আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটর্ফম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।’

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।’

Feb2

স্বজনদের মায়া ছেড়ে ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
স্বজনদের মায়া ছেড়ে ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা

শেষ হচ্ছে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি। প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটিয়ে এবার কর্মস্থলে ফেরার পালা। তাই স্বজনদের মায়া ছেড়ে ধীরে ধীরে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ।

যদিও এখনো ফিরতি যাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। রোববার (৩১ মে) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তবে ফিরতি যাত্রায় এখনো চাপ কম। অনেক পরিবারই গ্রামের বাড়িতে থেকে গেছে।

যাদের অফিস-আদালত খুলছে, জরুরি কাজ রয়েছে কিংবা কর্মস্থলে দ্রুত যোগ দেওয়া প্রয়োজন, মূলত তারাই আগে ঢাকায় ফিরছেন। ফলে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কর্মচাঞ্চল্য।

ঢাকায় ফেরা এক চাকরিজীবী বলেন, ‘কাল থেকে অফিস খোলা। তাই ঈদ আনন্দ শেষে স্বজনদের মায়া ছেড়ে চলে এলাম।’

এদিকে, আজও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। কমলাপুরে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ফেরার চেয়ে ছাড়ার সংখ্যাই বেশি।

অন্যদিকে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঘাটে ভিড়ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ। এসব লঞ্চে আসছেন আসছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ।

এবার ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় ঘাট এলাকায় তেমন কোনো ভোগান্তি বা দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। অনেকে আবার স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছেন।

যাত্রীরা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের তেমন বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও, গণপরিবহনে কিছুটা বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। তবে এবারের ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রা বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে অফিস-আদালত পুরোদমে শুরু হওয়ায় বিকেলের দিকে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে।

ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটির পর সোমবার (১ জুন) দেশের অফিস-আদালত আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি আর একদিন ভোগ করবেন চাকরিজীবীরা।

সোমবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে অফিস-আদালত চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঈদ শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ইতোমধ্যে আসা শুরু করেছেন। ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশিরভাগই আজকের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন। এ জন্য ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে কর্মজীবী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে আজও ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন অনেকে।

গত ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি শেষ হচ্ছে আগামীকাল রোববার (৩১ মে)। সারা দেশে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগে থেকেই ৬ দিন ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল সরকার।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্বাহী আদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়িয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য বেসরকারি চাকরিজীবীরা এই ছুটি ভোগ করেন। তবে, ঈদের ছুটির আগে ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস করেছেন চাকরিজীবীরা।

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি। ঈদুল আজহার আগে ২৬ ও ২৭ মে দুদিন ও পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তিনদিনসহ মোট পাঁচদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি ভোগ করেন চাকরিজীবীরা।

আগের অভিজ্ঞতার আলোকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গত ৭ মে ছুটি আরও একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। ওইদিন মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২৫ মে ছুটি ঘোষণা এবং এর আগে ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর, গত ২৪ মে সাত দিন ছুটি ও দুদিন অফিস খোলা রাখার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে টানা ৭ দিনের ছুটি পেয়ে যান চাকরিজীবীরা। টানা ছুটি শেষে আগামী সোমবার আবার নিয়মিত অফিস কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান: দলীয় নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান: দলীয় নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী

দলের নেতাকর্মীদের দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩০ মে) বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে দলটি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। আপনারা যারা বহুদিন যাবত দলের সঙ্গে জড়িত আছেন, আপনারা জানেন, শহীদ জিয়ার শাহাদতবরণের পর থেকে আমরা চেষ্টা করি এই দিনটিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এই দিনে বিভিন্ন জায়গায় অসহায় মানুষ যারা আছেন, অসুবিধায় যারা আছেন, আমাদের যতটুকু সম্ভব, তাদের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, দলের পক্ষ থেকে শুধু নয়, আপনাদের যাদের পক্ষে সম্ভব, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চেষ্টা করবেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আসুন, এটি আমরা শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করব, যাতে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। আজকের এই দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের সাফল্য।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক ও প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন ঢাকার ১৭টি স্পটে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টিঅ্যান্ডটি কলেজ মাঠে তার এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন স্পট ঘুরে নয়াপল্টনে আসার আগে খিলগাঁওয়ের জোড় পুকুর মাঠে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।