খুঁজুন
রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
মিরসরাইয়ে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রেনের গার্ড ও রেলকর্মীদের তৎপরতায় জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার রেলওয়ের ৬৬/৩ কিলোমিটার পয়েন্টের একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং গেইটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সিলেটগামী ৭১৯ আপ পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেনটির ইনচার্জ গার্ড শহিদুল ইসলাম রাসু এবং কন্ট্রাক্টর গার্ড মিজানুর রহমান চৌধুরী ট্রেনে থাকা অন্যান্য রেলকর্মীদের সহযোগিতায় দ্রুত ইমারজেন্সি ব্রেক প্রয়োগ করেন। তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করছে।

Feb2

আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা ইনশাল্লাহ অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি মাঠে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষায়-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে না পারলে আগামী দিনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসন, শোষণ শুধু দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারী কেড়ে নেয়নি বরং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতন শিক্ষা ব্যবস্থাকেও প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত করে দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার অবশ্যই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।

তিনি বলেন, দেশের আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। এইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কমবেশি ৪০ লাখের মতন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ইতোমধ্যে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন পর্যায়ক্রমিকভাবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা সংকট এবং প্রতিবন্ধকতা নিরশন এবং শহর কিংবা গ্রামের যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী তাদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অবাধ প্রসার ও ব্যবহার বর্তমানে মানুষের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অটোমেশন এবং এআই চালিত প্রযুক্তির কারণে হয়ত অনেক পুরোনো পেশায় কর্মসংস্থান যেমন ঝুঁকিতে পড়েছেন কিংবা অবলুপ্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ নতুন নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়ত সৃষ্টি হয়েছে।

সুতরাং প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় সার্টিফিকেশন সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে দক্ষতা ভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তারেক রহমান বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন্সিক সায়েন্স প্রোগ্রামিং ডিজিটাল এন্টারপ্রেনরশিপ ডিজিটাল কমিউনিকেশন কগনিটিভ এম্পাওয়ারমেন্ট প্রেজেন্টেশন স্কিল লিডারশিপ এবং ফাইনান্সিয়াল লিটারেসির মতন সফট স্কিলের বিষয়গুলো ছাড়া শিক্ষা কারিকুলাম মনে হয় পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠতে পারেন না। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, মেটেরিয়াল সায়েন্স ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং কিংবা জেনারেশনস টেকনোলজি আগামী দিনগুলোতে এইসব বিষয়গুলি সম্পর্কে উদাসীন থাকলে কর্মে সাফল্য অর্জন অসম্ভব হতে পারে। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চস্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে বাস্তব ভিত্তিক বহুমুখী কর্মমুখী এবং প্রযুক্তি নির্ভর করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই সময়ে শিক্ষা কারিকুলামের পরিমার্জন এবং সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি উপলব্ধি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে শ্রম উপযোগী আধুনিক এবং বাস্তমুখী করার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আজকের এই অনুষ্ঠান তারই বাস্তব প্রতিফলন।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয় বরং বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভরশীল রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিমূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তি নির্ভর এবং কর্মুক্তি করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর কিংবা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমি লিংকে জবাবদিহিমূলক করার সম্ভবতা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই চলমান সময় শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি তবে আমাদের সামনে যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বসে আছে তাদেরকে যখন পাই এ বিষয়টি আমি চেষ্টা করি উল্লেখ করতে সেটি কি একজন মানবিক মানুষ হয়ে উঠার জন্য নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভরতা দক্ষতা এবং মডেনাইজেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা এবং মানবিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ এই সব বিষয়গুলোর প্রতি আরও অধিক গুরুত্ব দিবেন। যত্নশীল থাকবেন।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অনেককে বেকার থাকতে হয় দুঃখজনকভাবে। এর কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন সর্বোচ্চ অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করলেও ব্যবহারিক প্রায়োগিক কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ।

সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনা করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায়। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থী অবস্থাতে কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষাজীবন শেষে থাকে যা আমরা প্রত্যাশা কর হয়ত ইনশআল্লাহ তাকে বেকার থাকতে হবে না। এছাড়া সরকার ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করারও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া মালিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে অনেক আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে একজন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে বরং নিজেই একজন উদ্যোক্ততা হিসেবে এন্ট্রপ্রেনার হিসেবে আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে বলেও জানান তিনি।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

এর আগে, গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ (রোববার) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানের পর থেকেই এ প্রস্তুতি শুরু হয়। অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

রেওয়াজ অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর দিন প্রথমে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন কত কার্যদিবস পর্যন্ত চলবে তা চূড়ান্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট ২০২৬-২৭ উপস্থাপন করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বাজেটের আকার হবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থের বড় একটা অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর, ভ্যাট ও শুল্ক থেকে। এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

পর্যাপ্ত নয় ভর্তুকি

বাজেটে সরকারের ব্যয়ের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ অন্যতম। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি তেল-গ্যাস আমদানি, সারসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন উপকরণ আমদানি ও সহায়তা, রপ্তানিতে নগদ সহায়তা, রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতে এসব ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার আমদানিতে। দেশে শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই ভর্তুকি খুবই জরুরি।

তবে দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চাইছে দেশের বাজেট ঘাটতি কমানো হোক এবং ভর্তুকি তুলে দেওয়া হোক। সরকার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই ঋণ কর্মসূচি যদিও এখন চলবে না বলে জানা যায়। তবে বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দিয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পরিকল্পনা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এ ছাড়া গ্যাস আমদানির (এলএনজি) জন্য রাখা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। গ্যাস আমদানির এই অর্থ অন্যান্য ভর্তুকির নামে রাখা অর্থ থেকে ব্যয় হবে। অন্যান্য খাতে রাখা হয়েছে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সার আমদানিতে রাখা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সারের এই অর্থ কৃষি খাতের জন্য রাখা ১৭ হাজার কোটি টাকা ও বাকিটা অন্যান্য খাত থেকে খরচ হবে। আগামী বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দও চলতি বছরের সমান।

অর্থ বিভাগের বাজেট পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ, এলএনজি ও কৃষি ভর্তুকি বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে আগামী অর্থবছর।

খাদ্যে ভর্তুকি কমছে

দেশে বাজেটে বরাদ্দ করা ভর্তুকির বড় অংশ খরচ হয় ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য বিতরণের জন্য। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের মূল বাজেটে এ খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে খাদ্যে ভর্তুকি কমিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ছে: দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় দুটি খাতের একটি রেমিট্যান্স। হুন্ডি ঠেকাতে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা চালু রয়েছে। এই খাতে প্রণোদনা ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জন্য মূল ও সংশোধিত উভয় বাজেটেই ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

রপ্তানি প্রণোদনা অপরিবর্তিত থাকছে

বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দিতে বাজেটে ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটের সমান।