খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

পাবনা সদর উপজেলায় কিশোরী রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে রিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Feb2

আধুনিক ও সেবাবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চসিক কাজ করছে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
আধুনিক ও সেবাবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চসিক কাজ করছে: মেয়র

নগরবাসীর জন্য আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার কাজীর হাট আধুনিক কিচেন মার্কেট নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, “একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নগর গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “কাজীর হাটে আধুনিক কিচেন মার্কেট নির্মিত হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।”

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসেবামূলক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দেশের প্রথম ‘চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ এবং ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্টেশন চালুর ফলে সামুদ্রিক গবেষণা, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং নীল অর্থনীতির বিকাশে দেশের সক্ষমতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (SIO)। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সিস্টেমের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট থেকে রিয়েল-টাইম ডাটা সংগ্রহ করা যাবে। এতে চীনের HY-2B, HY-2C, FY সিরিজসহ একাধিক স্যাটেলাইট, যুক্তরাষ্ট্রের NOAA ও MODIS এবং ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন আবহাওয়া ও আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট থেকেও তথ্য পাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কেন্দ্রের মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, ক্লোরোফিল ঘনত্ব, স্রোতের গতিপথ, বায়ুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ নির্ধারণ, অফশোর গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এ প্রকল্প নাবিক, জাহাজ ও মৎস্যজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকলেও যে উদ্দেশ্যের জন্য এটি স্থাপন করা আছে আমরা সে উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। প্রয়োজনে আমরা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করব।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, এটি বাংলাদেশের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এই প্রকল্প শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ডাটা অ্যানালাইসিস, এআই ও মেশিন লার্নিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে সহায়তা করবে।

এর আগে, ২০১৯ সালে চবি ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয়। ২০২০ সালে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালে স্টেশন স্থাপনের চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, চবি উপ-উপাচার্যরাসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলার মি. লি শেওপেং, সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল প্রফেসর ড. ফু বিনসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনে এবার নারী আমানতকারীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনে এবার নারী আমানতকারীরা

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করা সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এবার নারী আমানতকারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এই আন্দোলনে এতদিন শুধুমাত্র পুরুষ আমানতকারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও মঙ্গলবার (৯ জুন) এতে শতাধিক নারী আমানতকারীও অংশ নিয়েছেন।

এদিন সকাল ১০টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী আমানতকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা রাষ্ট্রের স্বার্থে লুটেরাদের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে এসেছেন। ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও ভেঙে পড়বে। তাই, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে পুরুষ আমানতকারীদের পাশাপাশি তারাও রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে একজন নারী আমানতকারী জানান, ইসলামী ব্যাংক ইসলামী শরিয়াহ আইন মেনে পরিচালিত হয়। এই ব্যাংকে টাকা রেখে মুসলিম হিসেবে আমরা সুদমুক্ত মুনাফা করতে পারি। এই ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের আমানত নিরাপদ রাখার মতো দেশে আর কোনো বিশ্বস্ত ব্যাংক থাকবে না। তাই, নিজেদের আমানতের নিরাপত্তা দিতে আমরা এই ব্যাংকটিকে লুটেরাদের হাত থেকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছি।

আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা ব্যাংকটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুকের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে, গত ১ জুন (সোমবার) সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।