খুঁজুন
শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। আগামী এক বছরের জন্যে এই পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষারিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৭ (১) অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে এক বছর মেয়াদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি সিডিএর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগপ্রত্যাশী ছিলাম। দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। আমি এর সর্বোচ্চ প্রতিদান দেব। আমার দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

একইসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ সকল উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানান।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের দ্বীপ উপিজেলা সন্দ্বীপে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন।

Feb2

স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

সকাল সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘কোতোয়ালি মার্কেট, কোতোয়ালি মার্কেট’ বলে যাত্রী ডাকছে এক শিশু। তার নাম সাকিব। নগরের নিউ মার্কেট-নতুন ব্রিজ সড়কে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সে। সাকিবের বয়স এখন ৯। ৯ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক সাকিব জানায়, তার বাবা কোথায় আছেন কিংবা কী করেন, সে কিছুই জানে না। ছোটোবেলা থেকে বাবাকে কখনও দেখেনি। মা আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। মায়ের আয়েই সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মা কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সাকিব বলে, পরিবারের খরচ চালাতে ছোটোবেলা থেকেই কাজ করছি। আগে টেম্পো ও মাহিন্দ্রা গাড়িতে হেলপার হিসেবে কাজ করেছি। পরে নিউ মার্কেট থেকে নতুন ব্রিজ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া তোলার কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রায় ১০০ টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে নিজের খরচের পাশাপাশি মাকেও সাহায্য করি। অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে ঘরে খাবার জুটবে না।

নগরের আগ্রাবাদ কদমতলী এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৩ বছর বয়সী রবিউল নামের আরেক শিশু শ্রমিক। সে জানায়, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক সময় সে স্কুলে পড়ত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

রবিউল বলে, ‘তখন (দুই বছর আগে) থেকেই এই ওয়ার্কশপে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাস শেষে যে টাকা পাই, তা মায়ের হাতে তুলে দিই। ওই টাকা দিয়ে সংসার চলে, বাবার ওষুধও কিনতে হয়। আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বড় কিছু হওয়ার। এখনও বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখলে খারাপ লাগে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগে, হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস (১২ জুন) উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাকিব ও রবিউলের মতো কয়েকজন শিশু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুশ্রম এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, অটোগ্যারেজ, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শিশু কাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকালে যখন স্কুলের ঘণ্টা বাজে, তখন বিভিন্ন গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, পরিবহন খাত ও ইটভাটায় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শত শত শিশু। তাদের কারও হাতে বই-খাতা নেই; আছে রেঞ্চ, হাতুড়ি কিংবা অন্যান্য শ্রমের সরঞ্জাম। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার কারণে দিন দিন শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে পড়ছে তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমে যুক্ত থাকার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে প্রায় ১২ লাখ অতিরিক্ত শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘শিশুশ্রম শুধু শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। সরকার শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরাও শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি মনে করি, সরকার ও এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কিছুটা কমলেও কর্মরত শিশুর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শিশুদের ভারী কাজ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা জরুরি, যাতে তারা কাজের পরিবর্তে স্কুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাইল্ড হেল্পলাইনের (১০৯৮) ব্যবহার সহজলভ্য করতে হবে।’

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ জোরদার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষ করে পরিবহন খাত, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, শুঁটকিপল্লি ও ইটভাটায় শিশুদের শ্রমিক হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় অনেকেই শোষণের শিকার হচ্ছে। আবার অনেক পরিবার অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের কাজে পাঠিয়ে দেয়। ফলে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু সুরক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

৩ লাল কার্ডের ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
৩ লাল কার্ডের ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। এই প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শুরু করল তারা। ৯ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। শুরুর ম্যাচেই ৩টি লাল কার্ডের ব্যবহার করেছেন রেফারি। দুই দলের ফুটবলারই লাল কার্ড দেখেছেন।

শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক ছিল মেক্সিকো। তাতে প্রথমার্ধেই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হয়। তৃতীয় মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন রাউল হিমিনেজ। তার বা পায়ের জোড়ালো শট ঠেকিয়ে দেন আফ্রিকান গোলকিপার রোনেন উইলিয়ামস।

তবে গোল পেতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি মেক্সিকোকে। মিনিট ছয়েক পরই লিড এনে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ১৯তম মিনিটে তার সামনে সুযোগ এসেছিল ব্যবধান দ্বিগুণ করার। তবে এবার অন টার্গেটে রাখতে পারেননি। বারের সামান্য উপর দিয়ে বল চলে যায়।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারো জোড়ালো আক্রমণ করে মেক্সিকো। এবার সুযোগ নষ্ট করেন ব্রায়ান গুটিয়েরেজ। তাতে ব্যবধান আর বাড়েনি। ১-০ গোলের লিড নিয়েই মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দেখা যায় লাল কার্ড। আসরের প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করেন তিনি।

৬৬তম মিনিটে মাঠে নামেন গিলবার্তো মোরা। তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তরুণ এই খেলোয়াড় ভাগ্য সঙ্গে করে মাঠে নিয়ে আসেন! ৬৭তম মিনিটেই আবার গোল পায় তার দল। এবার রাউল হিমিনেজ গোল করলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় মেক্সিকোর।

৮৪ মিনিটে আরেকটি লাল কার্ড দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার আক্রমণ করতে গিয়ে মেক্সিকোর খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে। এরপর যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখেছেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস।

যেসব পণ্য ও সেবার দাম কমতে পারে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
যেসব পণ্য ও সেবার দাম কমতে পারে

শুল্ক ও করে ছাড় দেওয়ায় বেশ কিছু পণ্য ও সেবার দাম কমতে পারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে।

কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর পুরোপুরি মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এছাড়া কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার হওয়া ‘ব্লাড টিউবিং সেট ফর হেমোডায়ালাইসিসের’ আমদানি পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ আগাম কর পুরোপুরি অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমবে।

আমদানি করা হার্টের রিং বা স্টেন্ট এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহের ক্ষেত্রে যোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাটের পুরোটা অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি হার্টের রিং বা স্টেন্টের মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। চোখের প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম করতে পারে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে জুয়েলারি সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরি হিসেবে ২,৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইলেক্ট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানি এবং ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন ক্ষেত্রে উৎসে কর হার ৫ শতাংশ পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাবও করেছেন অর্থমন্ত্রী।

কম্পিউটারের প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি এবং কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে নতুন অর্থবছরের ক্ষেত্রে।

স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার নামতে পারে ১ শতাংশে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছে থেকে বিদ্যুৎ কেনার ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

মোবাইলের ৩০০ টাকা সিমট্যাক্স প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবে দিতে হবে দামের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসএসডি আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ব্যতীত সমুদয় রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে।

পয়েন্ট অব সেলস বা পজ মেশিন আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ শতাংশ আগাম কর শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব এসেছে।

সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথাও রয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

রি-ফ্র্যাক্টরি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বল ক্লেসহ ৫টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিটারজেন্ট উৎপাদনকারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল লিনিয়ার অ্যালকাইল বেনজিন আমদানির ক্ষেত্রে মাত্র ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

দেশীয় ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ৫টি কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে রেয়াতি সুবিধাসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

টায়ার-টিউব উৎপাদনকারী শিল্পের ২টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও আছে।

স্থানীয় স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদন শিল্পের ২টি কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ হতে পারে।

স্থানীয় কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে কফি এক্সট্র্যাক্ট, এসেন্স ও প্রিপারেশন বাল্কে আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সৌর বিদ্যুৎখাতের উপকরণসমূহ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।