খুঁজুন
, ,

স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 12 June, 2026, 10:05 am
স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

সকাল সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘কোতোয়ালি মার্কেট, কোতোয়ালি মার্কেট’ বলে যাত্রী ডাকছে এক শিশু। তার নাম সাকিব। নগরের নিউ মার্কেট-নতুন ব্রিজ সড়কে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সে। সাকিবের বয়স এখন ৯। ৯ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক সাকিব জানায়, তার বাবা কোথায় আছেন কিংবা কী করেন, সে কিছুই জানে না। ছোটোবেলা থেকে বাবাকে কখনও দেখেনি। মা আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। মায়ের আয়েই সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মা কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সাকিব বলে, পরিবারের খরচ চালাতে ছোটোবেলা থেকেই কাজ করছি। আগে টেম্পো ও মাহিন্দ্রা গাড়িতে হেলপার হিসেবে কাজ করেছি। পরে নিউ মার্কেট থেকে নতুন ব্রিজ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া তোলার কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রায় ১০০ টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে নিজের খরচের পাশাপাশি মাকেও সাহায্য করি। অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে ঘরে খাবার জুটবে না।

নগরের আগ্রাবাদ কদমতলী এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৩ বছর বয়সী রবিউল নামের আরেক শিশু শ্রমিক। সে জানায়, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক সময় সে স্কুলে পড়ত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

রবিউল বলে, ‘তখন (দুই বছর আগে) থেকেই এই ওয়ার্কশপে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাস শেষে যে টাকা পাই, তা মায়ের হাতে তুলে দিই। ওই টাকা দিয়ে সংসার চলে, বাবার ওষুধও কিনতে হয়। আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বড় কিছু হওয়ার। এখনও বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখলে খারাপ লাগে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগে, হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস (১২ জুন) উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাকিব ও রবিউলের মতো কয়েকজন শিশু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুশ্রম এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, অটোগ্যারেজ, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শিশু কাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকালে যখন স্কুলের ঘণ্টা বাজে, তখন বিভিন্ন গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, পরিবহন খাত ও ইটভাটায় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শত শত শিশু। তাদের কারও হাতে বই-খাতা নেই; আছে রেঞ্চ, হাতুড়ি কিংবা অন্যান্য শ্রমের সরঞ্জাম। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার কারণে দিন দিন শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে পড়ছে তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমে যুক্ত থাকার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে প্রায় ১২ লাখ অতিরিক্ত শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘শিশুশ্রম শুধু শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। সরকার শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরাও শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি মনে করি, সরকার ও এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কিছুটা কমলেও কর্মরত শিশুর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শিশুদের ভারী কাজ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা জরুরি, যাতে তারা কাজের পরিবর্তে স্কুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাইল্ড হেল্পলাইনের (১০৯৮) ব্যবহার সহজলভ্য করতে হবে।’

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ জোরদার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষ করে পরিবহন খাত, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, শুঁটকিপল্লি ও ইটভাটায় শিশুদের শ্রমিক হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় অনেকেই শোষণের শিকার হচ্ছে। আবার অনেক পরিবার অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের কাজে পাঠিয়ে দেয়। ফলে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু সুরক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

Feb2
Feb2

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 9:54 am
বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশে বসবাসরত ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে, তাদের ফেরত নেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

বুধবার (২৯ জুলাই) আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানান, পারস্পরিক চুক্তির আওতায় মিয়ানমার মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ৫০০০ রোহিঙ্গাকে প্রাথমিকভাবে ফেরত নিতে সম্মতি দিয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার মিয়ানমারের এ পদক্ষেপকে এই সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই বলে-ওদের পাঠিয়ে দাও। কোথায় পাঠাবো? মিয়ানমার আগে এদের ফেরত নিতে চাইতো না। এ কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্কে মূল্য অনেক, এখন তারা আমাদের দেশ থেকে প্রথমে ৫ হাজার জনকে ফেরাতে রাজি হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার থেকে সংঘাতের কারণে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকেই মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

এ সময় আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করা ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে।

এর কিছুদিন আগেই মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কার্যালয়ের সামনে ১০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা সমবেত হন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ তাদের সবাইকে কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাংয়ে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে।

তিনি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে মালয়েশিয়া।

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:12 pm
প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর চট্টগ্রাম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল, সুশৃঙ্খল ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। সারাদেশে একই সময়ে শুরু হতে যাওয়া এ জাতীয় আয়োজনকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তাই এর সফল আয়োজনের দায়িত্ব আমাদের সকলের।

বুধবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এতে সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং আবু সুফিয়ান বক্তব্য রাখেন। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজন সফল করতে এখন থেকেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর সড়কের যেসব স্থানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, চসিকের পক্ষ থেকে সেসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখ ও অন্যান্য স্থানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যেসব কাজ প্রয়োজন, সেগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। লালখান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুলের গাছ লাগানো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি সড়কে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত স্টিল স্ট্রাকচার ও অন্যান্য স্থাপনা দ্রুত অপসারণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও সড়কের ওপর থাকা বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা অপসারণ না করলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মেয়র বলেন, এটি শিশু কিশোর ও তরুণদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজন। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৭৮টি স্কুল, ২৮টি কলেজ ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদক ও অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। তাই প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে ক্রীড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চসিক, সিডিএ, শিক্ষা বিভাগ, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:09 pm
অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম আয়োজিত  সুফী কনফারেন্স আগামী আগস্ট মাসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে, এ উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতি সভা সংগঠনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মুহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্তোরায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দিক নির্দেশনামূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস এম বরকত আকাশ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা, হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা, যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে একটি গোলটেবিল আলোচনা ও আগামী অক্টোবরে রাজধানীতে সুফী কনফারেন্সের বিভিন্ন দিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহবান জানানো হয়।