খুঁজুন
শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রয়লার, ডিম ও মাছের বাজারে প্রভাব পড়েনি বাজেটের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ব্রয়লার, ডিম ও মাছের বাজারে প্রভাব পড়েনি বাজেটের

গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) বাজেট-পরবর্তী দিনে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। দাম আগের মতোই রয়েছে। ঈদের পর থেকেই ব্রয়লার ১৬০ টাকা কেজি, ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা।

আজ (শুক্রবার) সকালে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার, পাহাড়তলীবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিক্রেতারা জানান, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি এমন কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি, যা তাৎক্ষণিকভাবে বাজারদর বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে এসব পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়, সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ টাকা, ডজন প্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

অন্যদিকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজেট ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

পাহাড়তলী বাজারের মুরগি বিক্রেতা বলেন, ‘বাজেটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো কিছুর দাম বাড়েনি। তাই বিক্রয়মূল্যও আগের মতোই রাখা হয়েছে। ঈদের পর ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি করেছি। আজকেও সেই দাম রয়েছে। বাজেটে দাম বাড়েনি।’

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃতের উপরেও দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বায়লা ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

রিয়াজ উদ্দিন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সোনা মিয়া বলেন, ‘ঈদের পর মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আজকে এক কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছি। তেলাপিয়া ২৩০ টাকা। সব মাছ আগের মতোই আছে। মাছের বাজারে বাজেটের প্রভাব পড়েনি। পাইকারি বাজারে না বাড়লে খুচরা বাজারেও কম। আর মাছের বাজার নিয়মিত ভাবে ২০-৩০ টাকা দাম ওঠানামা করে।’

চাকরিজীবী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঈদের পর থেকে মাছ ও মুরগি বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাজারে আজকে বাজেটের প্রভাব পড়েনি। মাছ ও মুরগির দাম আগের মতোই আছে।’

ডিম ব্যবসায়ী আবদুল বলেন, ‘ব্রয়লার সাদা ডিম ডজন ১১০ টাকা, ব্রাউন রঙের ডিম ১২০ টাকা বিক্রি করছি। গতকালও একই দামে বিক্রি করেছি। বাজেটের প্রভাব পড়েনি। সরকার তো এখানে দাম বাড়ার মতো কর বাড়ায়নি। যদি বাড়ে তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাড়তে পারে।’

Feb2

বাজারে স্বস্তি নেই, অপরিবর্তিত নিত্যপণ্যের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বাজারে স্বস্তি নেই, অপরিবর্তিত নিত্যপণ্যের দাম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুনসহ অধিকাংশ পণ্যই আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি বাজেট ঘোষণার আগেই হয়েছে এবং এর সঙ্গে বাজেটের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

আজ (শুক্রবার) সকালে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার ও কাজিরদেউরি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তেলের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেশি করে বিক্রি হচ্ছে।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মালেক বলেন, ‘বাজেটের কারণে বাজারে এখনো কোনো প্রভাব দেখিনি। বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের মতোই আছে। শুধু সয়াবিন তেলের দাম কোম্পানি বাড়িয়ে দিয়েছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

একই বাজারের আরেক বিক্রেতা মো. রহিম মিয়া বলেন, ‘তেলের নতুন সরবরাহ বেশি দামে এসেছে। কেন দাম বাড়ানো হয়েছে সেটা আমরা জানি না। কোম্পানি যে দামে দিচ্ছে, সে অনুযায়ী বিক্রি করছি। বাজেটের সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।’

অন্যদিকে তেলের বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। জামালখানের বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নিত্যপণ্যের মধ্যে তেল এমন একটি জিনিস, যা প্রতিদিনই লাগে। কয়েক টাকা বাড়লেও মাস শেষে বড় চাপ পড়ে। তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।’

একই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা উম্মে আমরিন বলেন, ‘অন্যান্য পণ্যের দাম না বাড়লেও তেলের দাম বারবার বাড়ছে। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারকে এই পণ্যের বাজারে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বাজেটের প্রভাব বাজারে কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরও ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা এবং ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মাছের বাজারেও আগের দামের ধারাবাহিকতা রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়েনি।

পিছিয়ে পড়েও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
পিছিয়ে পড়েও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

ফ্রি-কিক থেকে জোরাল হেডে গোল করেই বাঁধানহারা উল্লাসে মেতে উঠলেন তমাস সৌচেক। চেকিয়ার তারকা মিডফিল্ডার ছুটে গেলেন কর্নার স্ট্যান্ডের দিকে। কিন্তু সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকা সহকারি রেফারি তখন পতাকা উঁচিয়ে ধরে আছেন। অফ সাইড! সেটির রেশ থাকতে থাকতেই পুরো উল্টো গেল ছবি। অন্য প্রান্তে দারুণ এক দলীয় গোলে এগিয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল ব্যবধান।

২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তেজনায় ঠাসা দ্বিতীয়ার্ধে বল জালে ঢুকল চারবার। গোল হলো তিনটি। গতিময় ফুটবলের প্রদর্শনীতে চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ব আসরে শুভ সূচনা করল দক্ষিণ কোরিয়া।

মেক্সিকোর গুয়াদালহারার সাপোপানে খেলার ধারার অনেকটা বিপরীতে গোল করে চেকিয়াকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লাজিস্লাভ ক্রেইচি। কিন্তু মোহনীয় এক গোলে এশিয়া টাইগারদের সমতায় ফেরান হং ইন-বম। পরে তার পাস থেকেই গোল করেন ওহ হিউন-গিউ। সেটিই হয়ে থাকে জয়সূচক গোল।

২০১০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে পারল দক্ষিণ কোরিয়া।

কোরিয়ানদের বড় ভরসা, দেশের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের জন্য যার প্রয়োজন আর মোটে দুটি গোল, সেই সন হিউং-মিন একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করেন। এক পর্যায়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হয়নি দলকে।

স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

সকাল সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘কোতোয়ালি মার্কেট, কোতোয়ালি মার্কেট’ বলে যাত্রী ডাকছে এক শিশু। তার নাম সাকিব। নগরের নিউ মার্কেট-নতুন ব্রিজ সড়কে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সে। সাকিবের বয়স এখন ৯। ৯ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক সাকিব জানায়, তার বাবা কোথায় আছেন কিংবা কী করেন, সে কিছুই জানে না। ছোটোবেলা থেকে বাবাকে কখনও দেখেনি। মা আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। মায়ের আয়েই সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মা কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সাকিব বলে, পরিবারের খরচ চালাতে ছোটোবেলা থেকেই কাজ করছি। আগে টেম্পো ও মাহিন্দ্রা গাড়িতে হেলপার হিসেবে কাজ করেছি। পরে নিউ মার্কেট থেকে নতুন ব্রিজ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া তোলার কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রায় ১০০ টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে নিজের খরচের পাশাপাশি মাকেও সাহায্য করি। অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে ঘরে খাবার জুটবে না।

নগরের আগ্রাবাদ কদমতলী এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৩ বছর বয়সী রবিউল নামের আরেক শিশু শ্রমিক। সে জানায়, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক সময় সে স্কুলে পড়ত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

রবিউল বলে, ‘তখন (দুই বছর আগে) থেকেই এই ওয়ার্কশপে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাস শেষে যে টাকা পাই, তা মায়ের হাতে তুলে দিই। ওই টাকা দিয়ে সংসার চলে, বাবার ওষুধও কিনতে হয়। আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বড় কিছু হওয়ার। এখনও বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখলে খারাপ লাগে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগে, হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস (১২ জুন) উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাকিব ও রবিউলের মতো কয়েকজন শিশু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুশ্রম এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, অটোগ্যারেজ, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শিশু কাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকালে যখন স্কুলের ঘণ্টা বাজে, তখন বিভিন্ন গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, পরিবহন খাত ও ইটভাটায় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শত শত শিশু। তাদের কারও হাতে বই-খাতা নেই; আছে রেঞ্চ, হাতুড়ি কিংবা অন্যান্য শ্রমের সরঞ্জাম। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার কারণে দিন দিন শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে পড়ছে তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমে যুক্ত থাকার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে প্রায় ১২ লাখ অতিরিক্ত শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘শিশুশ্রম শুধু শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। সরকার শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরাও শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি মনে করি, সরকার ও এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কিছুটা কমলেও কর্মরত শিশুর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শিশুদের ভারী কাজ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা জরুরি, যাতে তারা কাজের পরিবর্তে স্কুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাইল্ড হেল্পলাইনের (১০৯৮) ব্যবহার সহজলভ্য করতে হবে।’

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ জোরদার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষ করে পরিবহন খাত, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, শুঁটকিপল্লি ও ইটভাটায় শিশুদের শ্রমিক হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় অনেকেই শোষণের শিকার হচ্ছে। আবার অনেক পরিবার অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের কাজে পাঠিয়ে দেয়। ফলে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু সুরক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’