খুঁজুন
, ,

বিদ্রোহী কবি নজরুলের প্রতিটি কবিতা ও গান আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 5:16 pm
বিদ্রোহী কবি নজরুলের প্রতিটি কবিতা ও গান আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নতুন প্রেরণা জোগাচ্ছে। এই প্রেরণা নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিদ্রোহী কবির প্রতিটি কবিতা ও গান আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা হয়েছে।

‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬-২০২৭) পালন উপলক্ষে আজ ২ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি একযোগে দেশের ৬৪ জেলা ও বাছাইকৃত ৭৪ উপজেলায় নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ৩ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি, সাম্যের কবি ও মানবতার কবি। আজ থেকে এক’শ বছর পূর্বে কবি কাজী নজরুল চট্টগ্রাম এসেছিলেন। এখানে তাঁর অনেক স্মৃতি রয়েছে। তিনি সবসময় অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদী ছিলেন। বিদ্রোহী কবির এই স্মৃতি, আদর্শ ও উদ্দেশ্য বুকে ধারণ করে আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ছিলেন সাম্য, মানবতা, প্রেম ও বিদ্রোহের কবি। তাঁর সহিত্যকর্ম আজও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষকে প্রেরণা যোগায় এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামের বর্ণাঢ্য জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবতাবাদী দর্শন নিয়ে আলোচনা আলোচনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মাঝে বিদ্রোহী কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নজরুল বর্ষ উদ্বোধন পরবর্তী আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ আল-ফোরকান, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক ও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম। মূখ্য আলোচক ছিলেন লেখক, অনুবাদক ও নজরুল গবেষক আলমগীর মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোঃ ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাতসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিকর্মীগণ, নজরুল গবেষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 6:19 pm
কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক দর্শন ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সকল পর্যায়েই তার প্রভাব অপরিসীম।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।

তিনি বলেন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ।

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের।

তিনি বলেন, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।

তিনি বলেন, শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু হয়েছে।

তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাগণ, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণ যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন।

তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।

নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।

এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুল প্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।

পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।

পরীক্ষা অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, মেধা বিকাশের ক্ষেত্র: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 6:05 pm
পরীক্ষা অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, মেধা বিকাশের ক্ষেত্র: ডিসি জাহিদ

পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র। তাই পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীরা যেন অসদুপায়ের চিন্তা না করে নিজেদের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে উত্তরপত্রে লিখতে শেখে—এমন পরীক্ষা-সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া।

বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামে ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উত্তরপত্রে লিখে আসে।”

পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরীক্ষার খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। একই সঙ্গে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।”

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। কোনো কোনো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করত। এ ধরনের বিতর্ক ও বৈষম্যের ধারণা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 5:59 pm
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমেছে। এবার প্রতি কেজিতে কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমেছে ৩৫৭ টাকা। এর আগে গত মাসে কমেছিল ৫৫ টাকা। এখন নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার পর থেকেই বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে।

বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা।

সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। অভিযোগ আছে, প্রতি সিলিন্ডারে বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা।

সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।

এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।