খুঁজুন
, ,

শহীদ ওয়াসিম আকরামকে শ্রদ্ধা জানালেন ইশরাক-নাছির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 1:27 pm
শহীদ ওয়াসিম আকরামকে শ্রদ্ধা জানালেন ইশরাক-নাছির

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকায় ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন তারা। এ সময় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন উপস্থিত সবাই।

কবর জিয়ারত শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, মাঠের একজন কর্মী হিসেবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের সব গুম-খুনের বিচার আমি চাই। আওয়ামী লীগের সময় যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তার বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে ছয়জন শহীদ হয়েছিলেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মাইলফলক। আবু সাঈদ, ওয়াসিমরা আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন—জুলাই থেকে আর ফেরার পথ নেই।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি হয়েছিল জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। শহীদ ওয়াসিমসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।

নাছির বলেন, আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা। প্রত্যেক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা গেলে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ (এনডিসি), পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওয়াসিম আকরামের বাবা, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগানে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Feb2
Feb2

আবু সাঈদ এই আন্দোলনের শহীদদের ইমাম: নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 3:07 pm
আবু সাঈদ এই আন্দোলনের শহীদদের ইমাম: নাহিদ ইসলাম

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। কোটা সংস্কারের দাবিতে চলছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। উত্তপ্ত সেই সময়ে রংপুরে আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার মৃত্যু মুহূর্তেই বদলে দেয় আন্দোলনের গতিপথ। একটি প্রাণহানি পরিণত হয় গণপ্রতিরোধের প্রতীকে। সে সময়ের সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতাদের মতে, শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুতেই জুলাই আন্দোলন আরও গতি পায়।

সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা আবু সাঈদ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে কখনো পিছিয়ে যাননি তিনি। জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার আত্মত্যাগ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতাদের মতে, আবু সাঈদের মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ দেয়। তার রক্ত মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের নতুন শক্তি জাগিয়ে তোলে। নীরব দর্শক হয়ে থাকা অসংখ্য মানুষও নেমে আসেন রাজপথে।

ইতিহাসের পাতায় ১৬ জুলাই তাই শুধু একটি তারিখ নয়; এটি একটি মোড় বদলের দিন। আবু সাঈদকে জুলাইয়ের শহিদদের অগ্রগামী প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক সমন্বয়করা বলেন, তার আত্মত্যাগ জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ করবে।

এ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ মাঠ ছাড়ে নাই। সে কিন্তু কথা রাখছে। তো এইটা পরবর্তীতে সবাইকেই অনুপ্রাণিত করছে। একজন ছাত্র আবু সাঈদ যদি এভাবে মারা যেতে পারে, বুলেটের সামনে দাঁড়াতে পারে ন্যায়বিচারের জন্য… বিবেকের তাড়না সবাইকে তখন মাঠে নামতে বাধ্য করেছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ তো এই আন্দোলনের মনে করি শহীদদের ইমাম বা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব… এক প্রকার স্পিরিচুয়াল নেতৃত্ব কিন্তু আবু সাঈদ হয়ে উঠেছিল এবং আবু সাঈদ রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিল। ফলে আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিল।’

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘দুই হাত পেতে দিয়ে, প্রসারিত করে দিয়ে, আবু সাঈদ গুলি বুকে ধারণ করছে। এই দৃশ্য বাংলাদেশের আপামর জনতাকে বিশেষত তরুণদেরকে সেই আন্দোলনে জীবন দেয়ার জন্য আগ্রহী করে তুলেছিল, উদগ্রীব করে তুলেছিল এবং মানুষেরা সেই সাহস নিয়ে, সেই প্রেরণা নিয়ে শহীদ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শহীদ হওয়া এবং এই ১৬ তারিখে জুলাই শহীদ দিবস, সেটার মধ্য দিয়ে আবু সাঈদকে স্মরণে রাখা, সেটা বাংলাদেশের মানুষ যতদিন বাংলাদেশ আছে ততদিন পর্যন্তই স্মরণে রাখবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিচার নিশ্চিত যদি আমরা করতে না পারি তাহলে এই বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর পরিণতি আমাদেরকে আজ হোক কাল হোক ভোগ করতেই হবে।’

ভরণপোষণ শিশুর আইনগত অধিকার, মা-বাবার তালাকের ওপর নির্ভরশীল নয় : হাইকোর্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 1:09 pm
ভরণপোষণ শিশুর আইনগত অধিকার, মা-বাবার তালাকের ওপর নির্ভরশীল নয় : হাইকোর্ট

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনোভাবেই মা-বাবার তালাক সংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।

সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমান এর একক বেঞ্চ এ রায় দেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

মামলার পটভূমি

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে পক্ষদ্বয়ের বিবাহ হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যা সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা দায়ের করা হয়। স্বামী দাবি করেন যে তিনি পূর্বেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। কিন্তু ফ্যামিলি কোর্টে তিনি আইন অনুযায়ী সেই তালাক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করে দাবি করেন যে তালাক কার্যকর হয়েছে এবং সেই মামলার অজুহাতে ভরণপোষণের ডিক্রির এক্সিকিউশন স্থগিত করার আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদনটি খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

রায়ে যা বললেন হাইকোর্ট

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শুধুমাত্র একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে- এই কারণে পূর্বে প্রদত্ত চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।

আদালত আরও বলেন, যে তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর নয়, সেই তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই। এমন তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং ভরণপোষণ বা দেনমোহরের ডিক্রি বাস্তবায়নের পথে কোনো আইনি বাধাও সৃষ্টি করতে পারে না।

ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ার পুনর্ব্যক্ত

রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং বৈবাহিক অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের।

নাবালক সন্তানের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ সম্পর্কে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

হাইকোর্ট বলেন, একজন নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না। একজন পিতা কেবল তালাক সংক্রান্ত বিরোধের অজুহাতে তাঁর সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

রায়ে আরও বলা হয়, এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা। তারা নতুন করে তালাক বৈধ কি না কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না-এসব প্রশ্ন বিচার করতে পারে না। ডিক্রির বাইরে গিয়ে নতুন বিরোধ নিষ্পত্তি করার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই।

অকার্যকর তালাক নতুন তালাকের পথে বাধা নয়

আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি পূর্বে দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয় এবং স্বামী সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তাহলে আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দেওয়ার সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা পূর্বে প্রদত্ত ডিক্রির অধীনে সৃষ্ট দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তাঁকে মুক্তি দেয় না।

চূড়ান্ত আদেশ

হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। একই সঙ্গে আদালত স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সকল বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।

রায়ের তাৎপর্য

এই রায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে—তালাকের আইনগত কার্যকারিতা অবশ্যই আইন অনুযায়ী প্রমাণিত হতে হবে; নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন অধিকার; এবং নতুন মামলা দায়ের করে কোনো চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। ফলে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নারী ও শিশুর আইনগত অধিকার সুরক্ষায় এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

আদালতে স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্ত্রীর পক্ষে শুনানী করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, এই রায়টি পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী বা নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন আইনগত অধিকার এবং বিবাহ, তালাক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের। আমার মতে, এই রায় নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 11:18 am
আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস

আজ ১৬ জুলাই, ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। একই দিনে চট্টগ্রাম ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকজন নিহত হন।

এই দিনটি উপলক্ষে সারা দেশে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও গুলি চালায়। এতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিনে চট্টগ্রামে সংঘর্ষে কলেজশিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ এবং ফার্নিচার কর্মচারী মো. ফারুক নিহত হন। রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষে প্রাণ হারান হকার মো. শাহজাহান ও সাবুজ আলী। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ওই দিন অন্তত ছয়জন নিহত হন।

ঘটনার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি জেলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

১৬ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতির প্রতিরোধের প্রতীক। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

গত বছর থেকে ১৬ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন হিসেবে ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে।