ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলগেটে বাস, মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইকে ধাক্কা, নিহত ২
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পাঁচটি বগির ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় মাহিন্দ্রার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। তারা দুজনই মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর দিকে একটি তেলবাহী ট্রেন যাচ্ছিল। ট্রেনটি খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় পেছনের পাঁচটি বগি কোনো এক কারণে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ার পর গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। তখন একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলো সেগুলোতে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ধাক্কায় বাসটিও রেললাইনের পাশের দিকে সরে যায়। দুর্ঘটনায় মাহিন্দ্রার চালকসহ সাতজন আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল মোল্লা বলেন, রাজবাড়ীগামী তেলবাহী ট্রেনটি রেলগেট পার হওয়ার আগেই পেছনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট অতিক্রম করায় গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক তখনই একটি বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলো সেগুলোতে ধাক্কা দেয়।
বাসের যাত্রী শরিফুল হোসেন বলেন, বাসটি ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়া যাচ্ছিল। খানখানাপুরে পৌঁছানোর পর একটি তেলবাহী ট্রেন চলে যায়। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দেন। বাসটি রেললাইন পার হওয়ার সময় হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা কয়েকটি বগির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে বাসটি রেললাইনের পাশের দিকে সরে যায়। আমরা বাসের ভেতরে ছিটকে পড়ি। কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা খান বলেন, বিচ্ছিন্ন বগির ধাক্কায় মাহিন্দ্রাটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে থামে। এতে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মাহিন্দ্রার চালক ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুতর আহত সাতজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান। দুর্ঘটনার বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকার দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুর থেকে একটি ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। সেটি এসে বিচ্ছিন্ন বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন সচল করা হবে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। কী কারণে তেলবাহী ট্রেনের পেছনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন