খুঁজুন
, ,

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 2:18 pm
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্থিরতা করার চেষ্টা করছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলেডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি চক্র কৌশলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে। তবে সরকার এই সংকট থেকে দেশ ও মানুষকে বের করে আনতে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতর থেকে দেশকে সফলভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে সরকার।

কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। বিগত দিনের অপরিকল্পিত প্ল্যান ও প্রজেক্টগুলো আমাদের জ্বালানি খাতকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সরকার এগুলো ঠিক করে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার কাজ করছে।

চিকিৎসকদের এই সমাবেশে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতি হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)।

রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে সরকার দেশে ১ লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এই স্বাস্থ্যকর্মীরা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন।

চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেহেতু সবকিছুকে প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পেশাজীবীদের রাজনীতি সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা অযৌক্তিক কিছু নয়। তবে এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।

সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার বিবেচনা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরতদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে দাবিগুলো এসেছে, তা অযৌক্তিক নয়। এগুলো সরকারের বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এর বাইরেও যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসকের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর কাউকে বিদেশমুখী হতে হবে না।

চিকিৎসক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়াতে পারে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 3:41 pm
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়াতে পারে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেলে এর দায় ভারত এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে এ সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। কিন্তু ভারত যদি ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করে, তাহলে তা পরস্পরবিরোধী অবস্থান হবে।

শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি স্পষ্ট করে যে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না, তাহলে বাংলাদেশ সেই অবস্থানকে স্বাগত জানাবে। তবে একই সঙ্গে একজন সাবেক স্বৈরশাসক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রশ্ন তোলেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে—এমন একজন রাজনৈতিক নেতাকে ভারত কীভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়িয়ে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির নেতারা দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসনে ছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতকে যা দিয়েছে, দেশটি তা চিরদিন মনে রাখবে। তার মতে, শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘পারস্পরিক প্রতিদান’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৭ বছরে ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 3:21 pm
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৭ বছরে ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণ।

শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ২০২১ সালে। ওই বছর ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। এরপর ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২২ সালে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তথ্যের মধ্যে প্রতিবেদনে অসামঞ্জস্য রয়েছে। সেখানে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন নিহতের কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ৪৮৭ জন। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ জন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। ১৬ হাজার ৬৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৬ হাজার ৩১৪টি, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়।

এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে ৩ হাজার ৫৪৮টি বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা। অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি বা ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের হিসাবেও পণ্যবাহী যানবাহন এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিসহ পণ্যবাহী যানবাহন ৬ হাজার ৪৮১টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ছিলেন ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনার জন্য, যা ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাসের চালক ২ হাজার ১৬৪টি বা ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ ছাড়া তিন চাকার যান ৭৩২টি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৪৩৮টি এবং বাইসাইকেল ও রিকশা ১২৩টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল। পথচারীর কারণে ঘটেছে ২৯৬টি দুর্ঘটনা।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এ ধরনের সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি বা ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি বা ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি বা ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণেরা ব্যবহার করেন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না মানা এবং সড়কে প্রতিযোগিতামূলকভাবে মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা তৈরি করছে। গতির মধ্যে রোমাঞ্চ খুঁজতে গিয়ে অনেক চালক নিজের পাশাপাশি পথচারী ও অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন।

অন্যদিকে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের একটি অংশ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় যানবাহন চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বেপরোয়া চালনার কারণেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি, যানজট এবং দ্রুত চলাচলের সুবিধার কারণে মানুষ মোটরসাইকেলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে প্রচারণা চালাতে হবে। মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

তিনি বলেন, শুধু মোটরসাইকেল চালকদের সচেতন করলেই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সড়কের অবকাঠামো, গণপরিবহন ব্যবস্থা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং ভারী যানবাহনের চালকদের প্রশিক্ষণ ও নজরদারি একসঙ্গে জোরদার করতে হবে। তা না হলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এই প্রবণতা থামানো কঠিন হবে।

সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি না থাকায় নাহিদের ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 12:51 pm
সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি না থাকায় নাহিদের ক্ষোভ

জুলাই জাদুঘরে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি-সংবলিত বিভিন্ন উপাদান সরিয়ে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত এক ব্রিফিংয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনোভাবেই দলীয় বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। এর পাশাপাশি জাদুঘরে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, ঢাকার বাইরের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং শহিদদের অবদান আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভবন দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ‘৩৬ জুলাই’ বলা হয়, ছাত্র-জনতা গণভবনে প্রবেশ করে এটিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে এবং সেখানে বিজয় উদযাপন করে। গত ১৬ বছর ধরে নির্যাতন, নির্মমতা, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এই গণভবন।

তিনি বলেন, এখান থেকেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন। মানুষের ওপর নির্যাতন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, অর্থনৈতিক লুটপাট ও দুর্নীতিসহ গত ১৬ বছরে দেশে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঙ্গে গণভবনের একটি প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে নির্যাতন, মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন ধারণকারী এই স্থানকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই জাদুঘরের কাজ অনেকটা শেষ হয়েছিল এবং এটি উদ্বোধনের উপযোগী হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আরও প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছে। জাদুঘরটি দ্রুত খুলে দেয়ার জন্য তারা সংসদে ও সংসদের বাইরে একাধিকবার কথা বলেছেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে তিনি সালাউদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছিলেন বলেও জানান।

এবারের পরিদর্শনে কিছু পরিবর্তন তার চোখে পড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম জানান, সীমান্ত হত্যা নিয়ে থাকা একটি অংশ এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতিচিত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের একটি তালিকা ছিল এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মরণে একটি ভাস্কর্যও ছিল। এসব উপাদান এখন আর সেখানে নেই।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাসের অংশ হলে সেটি কেন থাকবে না?’ গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্কের বিষয়টিও ইতিহাসের অংশ। কিন্তু জাদুঘরের বর্তমান উপস্থাপনায় সেই বিষয়টি যথেষ্টভাবে উঠে আসেনি।

তিনি বলেন, পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখলে এমন মনে হতে পারে যে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ ছিল কেবল দেশীয় একটি বিষয়। অথচ এর সঙ্গে বৈদেশিক শক্তিরও বিভিন্নভাবে সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্ত হত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের মতো বিষয়গুলোকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

তবে একই সঙ্গে জাদুঘরে বিএনপির নির্যাতনের ইতিহাস নিয়ে থাকা বিষয়বস্তু বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম। তার মতে, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গত ১৬ বছরে যে নির্যাতন হয়েছে, সেসব বিষয়বস্তুর পরিমাণ এবার বেড়েছে এবং এর সঙ্গে কিছুটা দলীয় বক্তব্য ও বয়ানও যুক্ত হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘর একটি চলমান ও পরিবর্তনশীল প্রতিষ্ঠান। সময়ের সঙ্গে এর প্রদর্শনী ও উপস্থাপনা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জাদুঘরের বর্তমান দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন এবং তাদের কাছে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও আরও বিস্তৃতির প্রয়োজন রয়েছে মনে করে তিনি বলেন, আন্দোলনের ঘটনাগুলো শুধু পরিচিত কয়েকটি মুখকে কেন্দ্র করে উপস্থাপন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ সময়রেখার মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, নির্যাতন, প্রতিরোধ এবং গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারের ধারাবাহিকতা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইভাবে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলায় যে আন্দোলন হয়েছে, সেখানকার নির্যাতন, প্রতিরোধ ও আন্দোলনের ঘটনাগুলোও জাদুঘরে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, এটা খুবই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। হয়তো পরিচিত মুখগুলো এখানে বারবার এসেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা এলাকার আন্দোলন ছিল না। ফলে এর ইতিহাসও দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানুষের অংশগ্রহণকে ধারণ করে উপস্থাপন করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যেন ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাসে পরিণত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি প্রকৃত ইতিহাসচর্চার জায়গা হওয়া উচিত এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এর আগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও দলীয়করণ হয়েছে। একেকটি সরকার ক্ষমতায় এসে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করেছে এবং ইতিহাসের উপস্থাপনাও পরিবর্তিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি না হোক। জাদুঘরের উপস্থাপনায় প্রকৃত ঘটনা ও সত্য যেন উঠে আসে এবং এর একটি জাতীয় চরিত্র থাকে।

জুলাই জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা ও জনবল নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরটি চালানোর জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত জনবল নেই। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দেয়ার মতো কাঠামোও বর্তমান ব্যবস্থায় নেই। বর্তমানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন জনবল রয়েছে এবং তাদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের দিয়েও জাদুঘর পরিচালনার কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ২০০ জন জনবল প্রয়োজন। পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে দর্শনার্থীদের ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। বিশেষ করে এই জাদুঘরের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাদুঘরের পরিচালন কাঠামো নিয়েও পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করা উচিত। কোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো বা সাধারণ শাখা জাদুঘরের মতো করে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেন এবং আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এমন ব্যক্তি, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের এই জাদুঘরের পরিচালনায় যুক্ত করা প্রয়োজন। এ জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের কথাও বলেন তিনি।

জাদুঘর প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে যেসব শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ কাজ করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার পক্ষে মত দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া এবং এর চেতনা ধারণ করা ব্যক্তিদের মাধ্যমে জাদুঘরের পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া উচিত।

শহিদ আবু সাঈদের ছবি জাদুঘরের একটি গ্যালারিতে না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অথচ জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট গ্যালারিতে তার ছবি নেই।

নাহিদ ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি জাদুঘরের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবু সাঈদকে নিয়ে তাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে এবং তাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি করা হচ্ছে, যা জাদুঘরে প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু আবু সাঈদ নন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যান্য শহিদের স্মৃতিও আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। শহিদদের পরিবারের পক্ষ থেকে জাদুঘরে বর্তমানে প্রদর্শিত স্মৃতিচিহ্নের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি স্মৃতিচিহ্ন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব স্মৃতিচিহ্ন কীভাবে আরও শৈল্পিক ও অর্থবহ উপায়ে প্রদর্শন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জাদুঘরের মূল ভবনের বাইরেও আরও কিছু পরিকল্পনা ছিল বলে জানান নাহিদ ইসলাম। পুরো ১৭ একর জায়গাকে ঘিরে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে আগের পরিকল্পনাগুলো বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে জাদুঘরের দায়িত্বশীলরা তাকে স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি বলে জানান তিনি।

দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরে প্রশিক্ষিত এক্সপ্লেইনার থাকা প্রয়োজন, যারা দর্শনার্থীদের প্রদর্শনীগুলোর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করবেন। অডিও গাইডসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুরও প্রয়োজন রয়েছে।

বিদেশের বিভিন্ন জাদুঘরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে চীনের জাদুঘরগুলোতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদর্শনীর বিষয়ে ব্যাখ্যা করার ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও অডিওর মাধ্যমে তথ্য শোনানো হয়, আবার কোথাও প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দর্শনার্থীদের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করেন। জুলাই জাদুঘরেও এ ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বা খারাপ এভাবে বিষয়টিকে দেখার সুযোগ নেই। দু’দেশের সম্পর্ক হওয়া উচিত মর্যাদাপূর্ণ ও সমতার ভিত্তিতে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য সরকার কিছু বিষয়ে আপস করছে।

তিনি বলেন, সরকারের এমন আপসকামী মনোভাবের কারণে দিল্লিতে সম্মেলন করে অতীতের স্বৈরাচারী শক্তিগুলো এখন হুংকার দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার শুধু একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আপসের কোনো সুযোগ নেই। আপস করে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই জাদুঘর শুধু একটি ভবন বা প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাই এর ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, জনবল, প্রদর্শনী এবং ইতিহাসের উপস্থাপনা সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। জাদুঘরটিকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রেখে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।