হাটহাজারীর স্টেশন কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, বন খেকো নামে খ্যাতি অর্জন
তিবেদক: চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের হাটহাজারী স্টেশন কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, সুফল বাগান সৃজনের টাকা আত্মসাৎ, বনের গাছ বিক্রি অবৈধ করাতকল থেকে মাসোহারা ও সহকর্মীদের জিম্মি করে রাখাসহ পাহাড় সম অভিযোগ উঠেছে।
উত্তর বন বিভাগের হাটহাজারী স্টেশন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বন খেকো হিসাবে হাটহাজারী জুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে ।
অবৈধ আয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উর্ধ্বতনদের দিয়ে সম্পর্ক ভালো রাখেন বলেই সহকর্মী কাউকে পাত্তাই দেয় না এই কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লুৎফর রহমান প্রায় দুই বছরের অধিক সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন হাটহাজারী স্টেশন অফিসে। তার পদবী স্টেশন অফিসার হলেও চলনে,বলনে তিনি যেন মস্ত বড় অফিসার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বন বিভাগে কর্মরত অনেকেই বলেন, তার দৈনিক আয় ৪০/৫০ হাজার টাকার অধিক।
বিভিন্ন গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে নিশ্চিত করেন তার সহকর্মীরাই।
সুত্র জানায়, কিছু অসাধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই লুৎফর রহমান এর চাঁদার ভাগ পায়। দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করলেও সেই টাকার ৫০/৬০ ভাগ চলে যায় উর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করতে।
অপর এক সুত্র জানায়, গত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই লুৎফুর রহমান আওয়ামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটানা কয়েকব বছর চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত থাকেন। ৫ আগস্টের পরেও রহস্য জনক কারণে লুৎফর রহমান রয়েছেন একই রেঞ্জে বহাল তবিয়তে। একটানা ১০/১১ বছর একই রেঞ্জে কর্মরত থাকার নজির বন বিভাগে না থাকলেও লুৎফুর রহমান এই নজির স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন অনেকে।
দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হওয়ার বিধান থাকলেও লুৎফুর রহমান টাকার কাছে তা অকার্যকর।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী , সরকার হাট , ঈছাপুর বাজার ,আমান বাজার সহ বিভিন্ন এলাকার গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গাছের বা ফার্নিচারের প্রতি গাড়ি হতে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন ফরেস্টর লুৎফুর রহমান। এছাড়া মাসোহারাও দিতে হয় প্রতি মাসে।
গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠের সুরে বলেন, বন বিভাগের যন্ত্রনায় ব্যবসা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এছাড়া রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, কাউখালী , ফটিকছড়ি সহ অন্যান্য এলাকা থেকেও যে সব গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি আসে তাদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করেন লুৎফুর রহমান ।
দৈনিক ২০টির অধিক গাড়ি থেকে হাটহাজারী বিটে চাঁদাবাজি হয় বলে নিশ্চিত করেন অনেকে।
এছাড়া রাঙ্গামাটি , কাউখালী রাঙ্গুনিয়া, খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ীরাও এই লুৎফর এর হাতে জিম্মি।
এলাকা সুত্রে জানাগেছে, হাটহাজারী থানা জুড়ে ২০ টিরও অধিক করাতকল রয়েছে। ২/৩ টি করাতকলের বৈধতা থাকলেও বাকী সব অবৈধ। এই অবৈধ প্রতি করাতকল থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা মাসোহারা আদায় করেন লুৎফর।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সুফল বাগান সৃজনের জন্য ২০ লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোন বাগান সৃজন না করে বরাদ্দের সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এলাকার কিছু চিহ্নিত বন খেকোদের নিয়ে বনের মুল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করছে দেদারসে। লুৎফর যেন বনের মালিক । করাতকল মালিক ও চিহ্নিত গাছ পাচারকারীদের নিয়ে প্রতিদিন গাছ কাটছে এমনটি জানালেন এলাকার সচেতন মহল।
এই বিষয়ে লুৎফর রহমান সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি উপরের সবাই কে ম্যানেজ করে কাজ করছি, নিউজ করে ও আমার কিছু করতে পারবেন না পারলে নিউজ করেন বলে লাইন কেটে দেন।
চলমান পর্ব …..


আপনার মতামত লিখুন