খুঁজুন
, ,

ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পরও সক্রিয় সাজ্জাদ বাহিনী, চিন্তায় পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 8:57 am
ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পরও সক্রিয় সাজ্জাদ বাহিনী, চিন্তায় পুলিশ

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও স্বস্তি মেলেনি পুলিশের। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর ধারণা করা হয়েছিল, চট্টগ্রামে এই বাহিনীর চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা কমবে। তবে সম্প্রতি হামজারবাগে একটি ভবনের গেটে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনায় সেই আশায় গুঁড়েবালি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন এই হামলার পেছনেও সাজ্জাদ বাহিনীর হাত রয়েছে। ফলে একের পর এক সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পরও বাহিনীটি কীভাবে সক্রিয় থাকছে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কপালে।

সবশেষ সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে হামজারবাগের রুনা টাওয়ারে গুলি ছোড়ার আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যবসায়ীর হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণের জন্য চাপ দেওয়া হয়। কথা না শুনলে লোক পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে দুই যুবক ভবনের গেটে গিয়ে পিস্তল দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি, এরপর স্থানীয় অস্ত্রধারীদের দিয়ে গুলি—এই কৌশল সাজ্জাদ বাহিনীর আগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে।

চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ জুলাই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ইমনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ইমন গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, সাজ্জাদ বাহিনীর মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও হামলার ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু হামজারবাগের গুলির ঘটনায় উল্টো নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কীভাবে একই কায়দায় হুমকি দিয়ে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটছে? বিদেশে থাকা সাজ্জাদ কীভাবে তার বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, কেন তার নেটওয়ার্ক ভাঙা যাচ্ছে না—এখন এসব প্রশ্নই সামনে এসেছে।

তবে কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও সাজ্জাদ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রায়হান আলমসহ কয়েকজন এখনো অধরা। ইমনের অনুপস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকাণ্ড রায়হানের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। ফলে ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি রায়হানকে গ্রেপ্তার করাও এখন পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাজ্জাদ বাহিনীর চাঁদাবাজির বেশিরভাগ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী ও প্রবাসী চাঁদার টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও এ ধরনের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র অনেক সময় পৌঁছায় না। আগে তৎপরতা থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একেবারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাজ্জাদ বাহিনী। ওই বছরের ২৯ আগস্ট বায়েজিদ বোস্তামী থানার অনন্যা আবাসিক ও কুয়াইশ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে মো. আনিস ও মাসুদ কায়সার নামে দুই যুবককে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক সপ্তাহ পর ২১ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকা ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

এরপর গত বছরের ২০ আগস্ট হাটহাজারীর উত্তর মেখল বড় দীঘির পাড় এলাকায় সুপার প্রপার্টিজ ও ইটভাটার মালিক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এর ১৫ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় সন্ত্রাসীরা বাড়িটি লক্ষ্য করে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এছাড়া গত ২ জানুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই দফা হামলা ও অস্ত্রের মহড়া চালানো হয়। ১৪ জুন পাঁচলাইশ এলাকায় চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলামের সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে টেবিলের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র রেখে হুমকি এবং মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে।

১৩ জুন নগরের বাকলিয়া এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না পেয়ে ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। এর এক মাস পর ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দীঘিরপাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মামলা হলে সেখানে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। সর্বশেষ ১০ আগস্ট রাতে মুরাদপুরের হামজারবাগ এলাকায় এক প্রবাসীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে তার বহুতল ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামজারবাগের ঘটনার পর সিএমপির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোস্তফা স্বপন বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তিগত তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ‘বড় সাজ্জাদ’ নামে পরিচিত। নব্বইয়ের দশক থেকে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে তার উত্থান। ২০০০ সালে চট্টগ্রামের আলোচিত এইট মার্ডার বা আট খুনের মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন তিনি। তবে বিদেশে অবস্থান করেও নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

Feb2
Feb2

সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার, আটক ১

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 8:44 am
সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার, আটক ১

সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম সামগ্রী উদ্ধার করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বুধবার (১২ আগস্ট) ভোররাত ৪টার দিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫টি বিস্ফোরকসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে আরিফের দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়ি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে।

আটককৃত আরিফ হোসেনের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্রে জানায়, আটককৃত আরিফ হোসেনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করছিল। পরে আরিফ সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় বাস থেকে নামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছে তল্লাশি করে ৫টি বিস্ফোরক, একটি ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়। পরে আরিফের দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরকসহ বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, হেমায়েতপুর থেকে এক ব্যক্তিকে ৫টি বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী ও ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 11 August, 2026, 8:59 pm
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে: মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জনে দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুধু সনদসর্বস্ব বা প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষার দিকে মনোযোগী হতে হবে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম হাটহাজারীর মীর নোয়াবুল হক মেমোরিয়াল হাই স্কুল-এ নবনির্মিত ‘মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন একাডেমিক ভবন’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মন্ত্রী, মেয়র ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। শুভ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের ফলক উন্মোচন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় পারদর্শী করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংস করেছে, বর্তমান সরকার তা সংস্কার করে একটি আধুনিক ও টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত ও শিক্ষিত জাতি গঠনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সফল হতে হলে নিজেদের এখন থেকেই যোগ্য ও মানসম্মত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বক্তব্য শেষে তিনি বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি (সমমান) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে আগামী এক বছরের সম্পূর্ণ শিক্ষা খরচ ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে প্রদানের ঘোষণা দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মন্ত্রী, চট্টগ্রামের মেয়র ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন হাটহাজারীর স্মৃতিচারণ করে আবেগময় কণ্ঠে বলেন, হাটহাজারীর মাটির সাথে আমার রক্তের ও আত্মার সম্পর্ক। আমি এই হাটহাজারী হাই স্কুলেই পড়াশোনা করেছি। মাইলের পর মাইল হেঁটে কষ্ট করে স্কুলে গিয়েছি ও ফিরেছি। কিন্তু আমাদের পড়াশোনার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মনোযোগ ছিল।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির বলেন, আপনারা আপনাদের সন্তানদের সৎ ও নীতিবান হিসেবে গড়ে তুলুন। তারা যেন কোনো প্রকার অন্যায় বা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে না পড়ে। সততার সাথে জীবনযাপন করলেই তারা জীবনে উন্নতি করতে পারবে এবং দেশের কল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে পারবে। সততা ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই সমাজের প্রকৃত আলো।

সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির দৃঢ়তার সাথে আরও বলেন, আমাদের সমাজে অন্যায় কাজের কোনো স্থান নেই। আপনারা যদি কোথাও কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি দেখতে পান, সরাসরি আমার কিংবা প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল-এর কাছে চলে আসবেন—আমরা তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন রেজা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ব্যারিস্টার ইসরাত নাজনীন নাছির, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর ইসলাম।

এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

১২ দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মুসলমানদের ঈমানী প্রেরণার উৎস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 11 August, 2026, 8:39 pm
১২ দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মুসলমানদের ঈমানী প্রেরণার উৎস

চট্টগ্রাম নগরীর (হাশেমী নগর) জালালাবাদস্থ দরবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফে হতে আন্জুমানে মুহিব্বানে রাসূল (দ.) গাউছিয়া জিলানী কমিটি ও গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় আসন্ন পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল শরীফকে স্বাগত জানিয়ে ও যুগশ্রেষ্ট ইসলামী স্কলার, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী (রহ.)’র প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ১২ দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) শীর্ষক সেমিনারের অর্ধশত বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মোটরগাড়ি শোভাযাত্রা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি, দরবারের অন্যতম সাজ্জাদানশীন কাযী মুহাম্মদ আবুল ফোরকান হাশেমীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি দরবার থেকে শুরু হয়ে অক্সিজেন – বায়েজীদ – নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখান প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ” ইমাম আল্লামা হাশেমী (রহ.)’র প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ১২ দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) সেমিনারের অর্ধশত বার্ষিকীতে ইমাম এর স্মরণঃ সেমিনারের প্রভাব ও আমাদের করণীয় ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা হয়।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ ইন্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশের আহ্বায়ক শাহাজাদা কাযী মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন হাশেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দরবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহজাদা কাযী মুহাম্মদ আবুল ফোরকান হাশেমী।

সংগঠনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক মাওলানা মনির আহমদ আনোয়ারীর সঞ্চালনায় উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা নুরুল আবছার আল কাদেরী, দরবারের সাজ্জাদনশীন পীরে তরীকত মাওলানা কাযী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন হাশেমী, বিশিষ্ট সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানা, মাওলানা ছৈয়দ মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম কাদেরী, মুহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া, মাওলানা হাফেজ আবুল হোসাইন, মাওলানা ছৈয়দুল হক ছৈয়দ, মাওলানা ফরিদুল আলম শাহ, মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিমুল, মাষ্টার আবু রায়হান চৌধুরী, মাষ্টার মহিউদ্দিন, কাযী মুহাম্মদ রোকনুজ্জামান,মুহাম্মাদ নুরুন নবী মেম্বার, মুহাম্মদ আবুল মনছুর, মাওলানা মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন সমরকন্দী, মুহাম্মদ জাবেদ হোসাইন, মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বরাত, মুহাম্মদ তারেক, মুহাম্মদ গরিবউল্লাহ, হাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস সওদাগর, মাষ্টার শাহ দেলোয়ার।

এছাড়াও সংগঠনের অংসখ্য নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন।