খুঁজুন
, ,

‘চাঁদ না দেওয়ায়’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, মালামাল লুট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 September, 2026, 9:47 am
‘চাঁদ না দেওয়ায়’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, মালামাল লুট

চাঁদা না দেয়ায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।

হামলাকারীরা স্টুডিওতে থাকা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্টুডিওটির কর্মকর্তারা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকা আসেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সব খোঁজ-খবর নিয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন সালমান মুক্তাদির।

তিনি দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হামলায় স্টুডিওতে থাকা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি বলে জানা গেছে।

ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য কাজের উপকরণ রাখা ছিল। সেগুলো নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেননি তিনি।

সালমান বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটা মামলা করতে হবে, ফরমালিটির জন্য। ক্লায়েন্টদের ডেলিভারি ধরলে, ওরা তো ওদের জিনিসপত্র এখানে রেখে গেছে। ওদের বিভিন্ন ফুটেজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো শুট এখানে করা হয়। একটা শুটে কত খরচ, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্ট যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে- এটা চোখ বন্ধ করেও একটা ধারণা করা যায়।’

 

তবে আর্থিক হিসাব-নিকাশের বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক বলতে চাননি তিনি।

অন্য একটি ফেসবুক লাইভে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও খুব কমই ছিল এবং হামলায় সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’ তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক লাইভে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশ্যে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ হামলায় কর্মীরা ভেঙে পড়লেও তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তাকে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাজ করা অনেক তরুণ-তরুণীকে তিনি ভাই-বোনের মতো পেয়েছেন। স্টুডিওটি তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল। হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’

হামলার ঘটনায় নিজের স্ত্রী, সহকর্মী ও স্টুডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, স্টুডিওটি নির্মাণের সময় তার স্ত্রী প্রতিদিন সেখানে এসে কাজ তদারকি করতেন। সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে নিরাপত্তার কাজও করেছেন।

সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, এই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’ তিনি কর্মীদেরও স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।’

আরেক ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ করে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে হামলায় কারা জড়িত ছিল এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে- এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

Feb2
Feb2

৩৫ কাঠা জমির বিরোধ থেকেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 September, 2026, 5:48 pm
৩৫ কাঠা জমির বিরোধ থেকেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত টিনশেড স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ৩৫ কাঠা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের একদল লোক রাতে বিতর্কিত জমিটি দখলে নিতে যায়। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত স্থাপনাসহ সেখানে থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়।

তিনি জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তিনজনকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

সালমান মুক্তাদির এখনো ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই মামলা হতে পারে।

সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সালমান নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি।

তিনি বলেন, ‘যদি তার কাছে কেউ চাঁদা না চেয়ে থাকে এবং তিনি বলেন, কেউ চাইলে তিনি দিয়ে দিতেন, তাহলে তিনি কীভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলে ঢালাও অভিযোগ করতে পারেন?’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সালমানের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তিনি মামলা করতে পারেন। ‘তিনি যদি সুনির্দিষ্ট মামলা করেন, আমরা তদন্ত করতে পারব।’

জাসদ কার্যালয়ে অভিযান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নাশকতার পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়ো হয়েছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

অভিযানে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২৭ জনকে এখনো হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কেউ নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যালয়ে আলোচনা করতে চাইলে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে ওই সমাবেশের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি।

শাহআলী থানার ওসি প্রত্যাহার

মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের ওই ঘটনায় কেন্দ্রটির একটি ক্লিনিক ও দীর্ঘদিনের শিশু টিকাদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘তারা যে-ই হোক এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, আমরা সেটা বিবেচনায় নেব না।’

ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্য

এক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি জোটের দাবি মেনে নিলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন বক্তব্য ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’।

পুলিশের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনিক কারণ বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হতে পারে। তবে বদলিই শেষ ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 September, 2026, 5:35 pm
পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে: ডিসি জাহিদ

পরিকল্পনা ও গবেষণার ঘাটতি, পর্যটকবান্ধব সেবার অভাব এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারায় বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেছেন, এ খাতের বিকাশে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার চিন্তা থেকে বেরিয়ে পর্যটকের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সেবার মানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। চট্টগ্রামের সমুদ্র, পাহাড় ও ঐতিহ্যকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে।

আজ রোববার বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে সকালে নগরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগামীর পর্যটন’।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটন বাংলাদেশের জন্য অমিত সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র। কিন্তু আমরা সেই সম্ভাবনাকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছি না।’

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমুদ্র, পাহাড় ও লেকের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এসব প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় ও কৃষির পাশাপাশি পর্যটনও দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠতে পারে।

পর্যটন খাতে গবেষণা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন শ্রেণির পর্যটককে আকৃষ্ট করা হবে, তাঁদের চাহিদা কী এবং কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে।

পর্যটকের নিরাপত্তাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খাদ্যনিরাপত্তা, চলাচল, আবাসন ও সেবার মানকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তাঁর মতে, পর্যটকের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টির পরিবর্তে তাৎক্ষণিক মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতাও বদলাতে হবে।

দেশের তরুণদের পর্যটন খাতে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির বড় সুযোগ রয়েছে। এ জন্য সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, ট্যুর অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মীদের তালিকা জেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যটকদের সঙ্গে আচরণ, স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্যনিরাপত্তা ও সেবার মান বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে নগরটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পর্যটকবান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যাশার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

আলোচনা সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা যোবাইদা আক্তারসহ সরকারি কর্মকর্তা, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে: পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 September, 2026, 1:37 pm
জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে: পুলিশ

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে গভীর রাতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউগিনি প্রপার্টিসে ভাংচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান তিনি।

মো. মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, গতকাল রাতের ঘটনায় কিছু লোক দলবদ্ধভাবে এসে এখানে ভাঙচুর করেছে। এই ভাঙচুরের ঘটনায় ইমিডিয়েটলি আমাদের পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর তদন্ত, ইন্সপেক্টর অপারেশন এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তারা দ্রুত এখানে এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তারা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। রাতেই অপারেশন চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনজনকে আমরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ চলমান রয়েছে। আমরাদের আরও টিম কাজ করছে। আমরা আশা করি এই ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনতে পারব।’

আপনার কি মনে হচ্ছে না রাজধানীটা একটা লুটের এবং দখলের শহরে পরিণত হয়েছে? নিউগিনি, রাড্ডা হাসপাতাল, মোহাম্মদপুর… একের পর এক চলছেই। এমন এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানকার যে ঘটনা, আমি এই ঘটনাটায় আমাদের পুরো টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি, তদন্ত করেছি। আমরা প্রতিটি ঘটনা ঘটলেই সেটা ইমিডিয়েটলি সেটা ডিটেকশন করেছি।’

হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো বিষয়টাই আন্ডার ইনভেস্টিগেশনে আছি। দলবদ্ধভাবে লোকজন এসেছে, সে কারণে আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। তিনজনের একজনের নাম হচ্ছে মামুন, তার বাড়ি গফরগাঁও। সে ভাসানটেক বস্তিতে থাকে। একজনের নাম আসলাম, তার বাড়ি টাঙ্গাইল। সে অটো চালায়। আরেকজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি, তার নাম মুন্না। সে ভাসানটেক বস্তিতে থাকে।’

হামলার কারণ জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে, হয়তো আরও তথ্য পেলে আপনাদেরকে সুস্পষ্ট করে বলতে পারবো।’

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কি তথ্য পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যেটা, এটা হচ্ছে একটা হাউজিং বিজনেস এবং এখানে এতগুলো লোক একসাথে আসা, দলবদ্ধভাবে এসেছে এবং রাতের বেলা। সে কারণে হয়তো জমিকে কেন্দ্র করে, জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে। এটি যেহেতু ইনভেস্টিগেশনে আছে, আইনগত প্রক্রিয়া আমাদের গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। আমরা আন্ডার ইনভেস্টিগেশনে আছি, ইনভেস্টিগেশনটা আমরা শেষ হলেই জানতে পারব।’

বিবাদটা কার সাথে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে সেটা এখনই বলতে পারছি না।’

চাঁদার দাবিটা কি সালমান মুক্তাদিরের কাছ চাওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে এই মুহূর্তে নেই, কোনো চাঁদা বা কোনোকিছুর নিয়ে। আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটা জমিকে কেন্দ্র করে বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে হয়তো হতে পারে। আমরা প্রপার ইনভেস্টিগেশন করলেই জানতে পারব।’