মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক: মেয়র
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। তিনি নারী শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গড়ার কারিগর, অহিংস মতবাদের ধারক ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার মনীষী। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা তার অন্যতম কীর্তি। তিনি আমাদের ইতিহাসের এক অমর নাম। তাঁর মৌলিক চিন্তার ফসল আমাদের সাহিত্য অঙ্গনকে নতুন দিক নির্দেশনা প্রদান করে। আমাদের জাতিসত্তা বিনির্মাণে তার অবদান ইতিহাসের সোনালী পাতায় খচিত হয়ে থাকবে।
তিনি শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক ও খ্যাতিমান মনিষী মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অবিভক্ত বাংলা ও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রখ্যাত সাংবাদিক মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান চিরস্মরণীয়। তিনি কেবল একজন আলেম বা রাজনীতিবিদ ছিলেন না, বরং একাধারে প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও সমাজসেবক হিসেবে এই অঞ্চলের অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়কে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে আজীবন কাজ করে গেছেন। জাতীয় আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
মেয়র বলেন, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং এতিমখানাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনক ছিলেন তিনি। তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের সমাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, ইতিহাস এবং আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোত্তীর্ণ শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ রদ ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি একটি শিক্ষিত, জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সারাজীবনের ত্যাগ তিতিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে আছে।
এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও এস এম সালাউদ্দীনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, চবি অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির, চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বক্তব্য রাখেন কদম মোবারক মুসলিম এতিম খানার সিনিয়র সহ সভাপতি এস এম মোর্শেদ হোসেন, সহ সভাপতি হাফেজ আমান উল্লাহ, মুজিবুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সমম্পাদক প্রফেসর ডা. পারভেজ ইকবাল শরীফ, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আবছার চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক ড. মো. সানা উল্লাহ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন আলী নূর, প্রচার ও পাঠাগার সম্পাদক ওয়াকিল আহমদ সিকদার, সাধারণ সদস্য এডভোকেট মো. আকতার, আলহাজ্ব এমদাদুল আজিজ চৌধুরী, শাহ আলম চৌধুরী, হুমায়ুন খান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ. এম. এস ইসলামাবাদী (গাজী), মতোয়াল্লী সদস্য আজাদ উল্লাহ খান, দাতা সদস্য নুরুল আলম, সাধারণ সদস্য (প্রধান শিক্ষক) মো. আবু জহুর. কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বদিউল আলম রিজভী প্রমুখ।



আপনার মতামত লিখুন