জমি বিক্রি করে উচ্চশিক্ষা, তবু মিলছে না চাকরি: রাষ্ট্রপতি
বাবা-মায়ের জমি বিক্রি করে অনেক তরুণ বিএ-এমএ পাস করছেন, অথচ শিক্ষাজীবন শেষ করেও চাকরি পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানমুখী ও সময়ের চাহিদাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, দেশ গঠনেও যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যুবসমাজ। এই জনমিতিক সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান কারিগর তরুণেরা। তাই তাদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং কর্মমুখী করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
নিজ এলাকার বেকার তরুণদের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেখানে গেলে অনেক তরুণকে বেকার অবস্থায় দেখা যায়। তাদের অধিকাংশই চাকরির জন্য আবেদন করছেন। এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ, ঋণ ও অন্যান্য কার্যক্রম সারা দেশে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএ পাস করেও অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করতে বাবা-মাকে জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স আয়—দুটিই বাড়বে। এ জন্য তরুণদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বড় কোম্পানিগুলোকে নয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও সহজ শর্তে ঋণ, মূলধন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। এতে তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এ সময় যুবকদের হতাশ না হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
জেআই/



আপনার মতামত লিখুন