খুঁজুন
, ,

সাতকানিয়ায় আগুনে পুড়ল ঘর, ঘুমন্ত বৃদ্ধার মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 February, 2020, 10:38 am
সাতকানিয়ায় আগুনে পুড়ল ঘর, ঘুমন্ত বৃদ্ধার মৃত্যু

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে পুড়ল কাঁচা একটি বসতঘর। এ ঘটনায় আনোয়ারা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা গেছে।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ফলাইয়াবাদ গ্রামের মো. ইউনূসের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত আনোয়ারা ওই বাড়ির ফজল আহমেদের স্ত্রী।

ফায়ার সার্ভিসের নগরীর আগ্রাবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ফলাইয়াবাদ গ্রামের মো. ইউনূসের বাড়িতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোর ৪টা ৩২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

আগুনে কাঁচা বসতঘরটি পুড়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয় এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করার তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের বরাতে বলেন, বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন। তাছাড়া অগ্নিকাণ্ডের সময় বৃদ্ধা ঘুমে ছিলেন। যার কারণে আগুন লাগার পর সবাই ঘর থেকে বের হতে পারলেও তিনি দ্রুত বের হতে পারেননি। কাঁচা বসতঘরটিতেই আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়।

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা পরিদর্শক মাহবুব আলম।

Feb2
Feb2

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 2:23 pm
‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, তাহলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। সেই বিপ্লবের জন্য আমি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, পাপের পরিণতি পেতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একসময় সেই পাপই পচে গিয়ে ঝরে পড়ে। এখন সেই পাপে পচন ধরেছে। সরকার যদি তা বুঝতে পারে, তাহলে ভালো। না বুঝতে পারলে তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব কোনো বয়স মানে না। যেমন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই রাজপথে ছিল, তেমনি আগামী দিনেও সবাই এই আন্দোলনের অংশ হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম চলবে।

জেল-জুলুম ও ফাঁসির ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতির মুক্তির জন্য যদি ফাঁসির রশিও প্রয়োজন হয়, তবে সেটিকে ফুলের মালা হিসেবে গ্রহণ করব। ফাঁসির মঞ্চেও আমরা ভীত হব না, বরং বিজয়ের জয়ধ্বনি উচ্চারণ করবো।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারাও মজলুম ছিলেন। অথচ যেসব জুলুম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেছে, এখন আপনারা সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করছেন। ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ আপনাদের ফ্যাসিবাদী বলবেই। তাই ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিহার করুন। জনগণকে সম্মান করলে জনগণও আপনাদের ফুল দিয়ে বরণ করবে। আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলছি, বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা সহ্য করবো না।

শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের জনমত ও গণরায় মেনে নিন। ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে অপমান করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের রায়কে অস্বীকার করেছে, তাদের অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আপস করার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের লোভও দেখানো হচ্ছে। কিন্তু দেশবাসীকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, আপনাদের গণরায়ের পাহারাদারি আমরা করব, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহর সাহায্যে এই দাবি আমরা আদায় করেই ছাড়ব। কোনো কিছুর বিনিময়ে, এমনকি জীবনের বিনিময়েও আমরা এই দাবি থেকে সরে আসব না।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ছাত্র-শিক্ষক সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। গণরুম ও গেস্টরুমের সেই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বলব, যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। জনগণ যখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন দাম বাড়িয়ে সংকট দূর করা হয়। যদি দাম বাড়ানোর পর সংকট দূর করা যায়, তাহলে আগে কেন তা করা হয় না? এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ফ্যাসিবাদী চর্চা।

তিনি বলেন, অতীতে যারা জনগণের সম্পদ লুটপাট, চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের সেই প্রবৃত্তির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক নেতার বক্তব্যই তার প্রমাণ। এটি কার্যত একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি।

তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, জনগণের দুর্ভোগ, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদে জ্বলে উঠব। কোনো বাধা মানব না। আল্লাহ তাআলার ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা। বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে না : মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 2:08 pm
বিএনপি কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে না : মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বিএনপি একটি জনগণের দল ও জবাবদিহিতামূলক দল হওয়ায় কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে না।

তিনি বলেন, ‘সব অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় করেই প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর পরবর্তী ৫ আগস্ট আসার আগেই অঙ্গীকার অনুযায়ী এই সংস্কার কাজগুলো শুরু করেছে।’

বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নগরের নিউমার্কেট এলাকার রেলওয়ে স্টেশন কম্পাউন্ডে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘এই দেশকে আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরত আনার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন করা, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে এবং আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম সভা এরইমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সেই অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ যেভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেই আলোকেই সব সংস্কার বিএনপি বাস্তবায়ন করবে।’

শেষে তিনি চট্টগ্রাম বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে সব প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য জুলাই যোদ্ধা এবং সর্বস্তরের জনগণকে রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 12:38 pm
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ। আজকের দিন বাংলাদেশের যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন দেশ গড়তে নতুন যাত্রাপথ রচনা করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সম্বলিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে গুম, খুন, অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। দেড় দশকের নৃশংসতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলে।’

জুলাই জাদুঘরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকা জরুরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা সাহস, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা তৈরি করছে। এতে নিজেদের অজান্তেই পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, ২৪ গণঅভ্যুত্থান দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের মতো চব্বিশের শহিদদের কখনো ভুলবে না দেশের জনগণ।’

বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিচার হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি বিচার হওয়া জরুরি।’

জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আহতদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৫০ জুলাইযোদ্ধাদের বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৩ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। জুলাইযোদ্ধাদের সহায়তার বিষয়ে সরকার আন্তরিক।’

দেশ আর কখনো তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৩১ দফার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।’

এ সময় গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।