চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৬৫টি মামলা
২৪ ঘন্টা ডট নিউজ:::চট্টগ্রাম মহানগরীতে অভিযান পরিচালনা করেছেন ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় আইন অমান্য করায় বিভিন্ন আইনে ৬৫টি মামলায় ১ লাখ ৭১হাজার ৫শত টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মহানগরীতে জেলা প্রশাসনের ১০জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০টি পৃথক আদালত পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বাজার মনিটরিং, নদীর ঘাট, জেটিতে সীমিত চলাচল, স্বপ্রণোদিত লকডাউনের আড়ালে অননুমোদিত দোকান বন্ধ রাখা, আড্ডা বন্ধ, বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ, ওএমএস চাল বিক্রিতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। এসময় আইন অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিক সাজা প্রদান করেন আদালত।
পূর্ব নির্দেশিত ১৫নং, ১২নং, ১৪ নং ঘাট ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত চায়নিজ বন্দরে চলাচল সীমিত ছিলো। তবে সমুদ্র সৈকতে স্পীডবোটের ঘাটে মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে আগত জাহাজের কর্মচারীরা স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করেন বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ।
তিনি বলেন, স্থানীয় সুপারভাইজাররা যাতে তাদেরকে বাজার জাহাজে পৌঁছে দেন সেই ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীক গ্রুপের জাহাজকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর ও ডিজি শিপিং কর্পোরেশনকে অবহিত করা হয়েছে। অভিযানে ৮ টি মামলায় ৩০হাজার ১শত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পল
খুলশী, বাকলিয়া ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫টি মামলায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনীক। তিনি বলেন, মুরাদপুর এবং দামপাড়া এলাকায় টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বিক্রিতে দিন দিন জনসমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় এবং সুষ্ঠু বন্টনে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালী,সদরঘাট ও ডবলমুরিং থানাধীন এলাকায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ ও বাজার মনিটরিং এর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন। এ আদালত ৭টি মামলায় ৬৯হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকায় অাদালত পরিচালনা করে ৬টি মামলায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় খুলশী এবং বায়েজিদ এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় ১ টি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া আকবরশাহ, পাহাড়তলী ও হালিশহরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম ৮ টি মামলায় ৩হাজার ৮শত টাকা, চকবাজার, চান্দগাঁও, বায়েজিদ এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার ২ টি মামলায় আড়াই হাজার টাকা, কোতোয়ালী ও সদরঘাট এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী ১২টি মামলায় ১৬হাজার ৩শত টাকা জরিমানা করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান জানান, হালিশহর,আকবর শাহ ও পাহাড়তলী এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যতীত অন্যান্য দোকান খোলা রাখায় ১১ টি মামলায় ১৩হাজার ৮শত টাকা এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবুবক্কর সিদ্দিক চকবাজার ও বাকলিয়া এলাকায় ৫ টি মামলায় সাড় ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন