খুঁজুন
, ,

শুভ নববর্ষ:স্বাগত ১৪২৭

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 April, 2020, 7:54 am
শুভ নববর্ষ:স্বাগত ১৪২৭

‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। আজ পহেলা বৈশাখ; নতুন বছরের প্রথম দিন। করোনাভাইরাসের প্রকোপে টালমাটাল বিশ্বে একটি নতুন বছরের শুভ সূচনা। শুভ নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৭।

বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও গর্বিত ঐতিহ্যের রূপময় ছটায় বৈশাখ পুরনো বছরের সব গ্লানি, অপ্রাপ্তি, বেদনা ভুলে নব আনন্দে জাগবে গোটা জাতি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবার ঘরে বসে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে’ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হবে।

সারাবিশ্বের মানুষ যখন করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত; তখন প্রকৃতি তার নিজস্ব গতিতে চলছে। করোনায় লকডাউনে চৈত্রের রুদ্র দিনের পরিসমাপ্তি শেষে আজ গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে সব বয়সের মানুষ। দেশের সব বয়সী মানুষের জীবনের অন্যতম আনন্দের এবং মহিমান্বিত দিন এই পহেলা বৈশাখ। আজ শুরু হবে আগামী দিনের পথচলা। করোনাভাইরাসে ছুটি এবং বাধ্যতামূলক ঘরে থাকার নির্দেশনার মধ্যেই ঘরোয়াভাবে পালিত হবে দিনটি। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। গতকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে; পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।

মূলত ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান শাসনামলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। তবে ষাটের দশকের শেষে থেকে রমনা বটমূলে ছায়ানট বর্ষবরণের আয়োজন করে।

দেশ স্বাধীনের পর মানুষের অসা¤প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-গণতন্ত্র বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও আসে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম শোভাযাত্রা। পরবর্তীতে সেখানে প্যাঁচা, হাতি ইত্যাদি জড়ানোর মধ্য দিয়ে বিজাতীয় অপসংস্কৃতি চর্চা শুরু হয়।

মানুষের যাপিত জীবনের বাস্তবতায় নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে। পহেলা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারা দেশ। বর্ষবরণের উৎসব আমেজে মুখরিত হয়ে উঠে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে দেশের মিলিত হয় তার সর্বজনীন এই অসা¤প্রদায়িক উৎসবে। দেশের পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকে লাখো মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই কোথাও কোনো আয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

করোনার কারণে ছায়ানটের রমনা বটমূলের ভোরের আয়োজন বন্ধ। রমনাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে কানেও আসবে না সুরের ঝঙ্কার। মানুষ ঘরবন্দি তবু থেমে থাকবে না উৎসব। অনলাইনে বর্ষবরণের কথা জানিয়েছেন ছায়ানটের সহ-সভাপতি শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন। তারা জানান, বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কারণে উৎসব করার চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংক্ষিপ্ত আকারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। যাতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন ছায়ানট সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুন।

অন্যদিকে জনসমাগম না করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’ প্রতিপাদ্য করে বর্ষবরণের আয়োজন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। প্রতিবারই মূল প্রতিপাদ্যের ওপর একটি পোস্টার বের করা হয় অনুষদ থেকে। এবার সেই পোস্টারটি ভার্চুয়ালি প্রকাশ করা হবে। জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা পোস্টার করি। এবারও করেছি। তবে সেটা প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যাসহ। প্রতিবার প্রতিপাদ্যটি আমরা নানা মোটিভের মাধ্যমে তুলে ধরি। এবার সেটি হবে না বলে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ থেকে ‘মানুষকে ধ্বংস করা যায় কিন্তু পরাজিত করা যায় না’- এ লাইন নেয়া হচ্ছে।

প্রতীকীভাবে পহেলা বৈশাখ পালনের পরিকল্পনা করছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। শিশুপার্কের সামনে সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ দীর্ঘদিন ধরে নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করলেও সংগঠনটির প্রধান ফকির আলমগীর জানান, এবার তারা ধারণ করে টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে অনুষ্ঠান করবেন।

‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। আজ পহেলা বৈশাখ; নতুন বছরের প্রথম দিন। করোনাভাইরাসের প্রকোপে টালমাটাল বিশ্বে একটি নতুন বছরের শুভ সূচনা। শুভ নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৭। বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও গর্বিত ঐতিহ্যের রূপময় ছটায় বৈশাখ পুরনো বছরের সব গ্লানি, অপ্রাপ্তি, বেদনা ভুলে নব আনন্দে জাগবে গোটা জাতি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবার ঘরে বসে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে’ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হবে।

সারাবিশ্বের মানুষ যখন করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত; তখন প্রকৃতি তার নিজস্ব গতিতে চলছে। করোনায় লকডাউনে চৈত্রের রুদ্র দিনের পরিসমাপ্তি শেষে আজ গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে সব বয়সের মানুষ। দেশের সব বয়সী মানুষের জীবনের অন্যতম আনন্দের এবং মহিমান্বিত দিন এই পহেলা বৈশাখ। আজ শুরু হবে আগামী দিনের পথচলা। করোনাভাইরাসে ছুটি এবং বাধ্যতামূলক ঘরে থাকার নির্দেশনার মধ্যেই ঘরোয়াভাবে পালিত হবে দিনটি। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। গতকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে; পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।

মূলত ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান শাসনামলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। তবে ষাটের দশকের শেষে থেকে রমনা বটমূলে ছায়ানট বর্ষবরণের আয়োজন করে।

দেশ স্বাধীনের পর মানুষের অসা¤প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-গণতন্ত্র বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও আসে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম শোভাযাত্রা। পরবর্তীতে সেখানে প্যাঁচা, হাতি ইত্যাদি জড়ানোর মধ্য দিয়ে বিজাতীয় অপসংস্কৃতি চর্চা শুরু হয়।

মানুষের যাপিত জীবনের বাস্তবতায় নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে। পহেলা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারা দেশ। বর্ষবরণের উৎসব আমেজে মুখরিত হয়ে উঠে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে দেশের মিলিত হয় তার সর্বজনীন এই অসা¤প্রদায়িক উৎসবে। দেশের পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকে লাখো মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই কোথাও কোনো আয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

করোনার কারণে ছায়ানটের রমনা বটমূলের ভোরের আয়োজন বন্ধ। রমনাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে কানেও আসবে না সুরের ঝঙ্কার। মানুষ ঘরবন্দি তবু থেমে থাকবে না উৎসব। অনলাইনে বর্ষবরণের কথা জানিয়েছেন ছায়ানটের সহ-সভাপতি শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন। তারা জানান, বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কারণে উৎসব করার চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংক্ষিপ্ত আকারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। যাতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন ছায়ানট সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুন।

অন্যদিকে জনসমাগম না করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’ প্রতিপাদ্য করে বর্ষবরণের আয়োজন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। প্রতিবারই মূল প্রতিপাদ্যের ওপর একটি পোস্টার বের করা হয় অনুষদ থেকে। এবার সেই পোস্টারটি ভার্চুয়ালি প্রকাশ করা হবে। জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা পোস্টার করি। এবারও করেছি। তবে সেটা প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যাসহ। প্রতিবার প্রতিপাদ্যটি আমরা নানা মোটিভের মাধ্যমে তুলে ধরি। এবার সেটি হবে না বলে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ থেকে ‘মানুষকে ধ্বংস করা যায় কিন্তু পরাজিত করা যায় না’- এ লাইন নেয়া হচ্ছে।

প্রতীকীভাবে পহেলা বৈশাখ পালনের পরিকল্পনা করছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। শিশুপার্কের সামনে সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ দীর্ঘদিন ধরে নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করলেও সংগঠনটির প্রধান ফকির আলমগীর জানান, এবার তারা ধারণ করে টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে অনুষ্ঠান করবেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, নতুন বছর মানেই এক নতুন সম্ভাবনা, নতুন আশায় পথ চলা। বুকভরা তেমনি প্রত্যাশা নিয়ে নতুন উদ্যমে ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি ঘরে বসেই দিবসটি পালন করবে।

 

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:57 am
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেবে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।

তিনি বলেন, আজ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাবে। এরপর থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করবে।

মো. সুবক্তগীন আরও বলেন, যে স্থানে রেললাইন পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল সেখানে ব্যালাস্ট ফেলে লাইন উঁচু করা হয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলে আর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম ও জানআলীহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন প্লাবিত হয়। রেললাইনের ওপর প্রায় দুই ফুট পানি জমে যাওয়ায় প্রথমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ট্রেনগুলোকে পেছনের স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পরদিন, ৮ জুলাই ভোরে রেলওয়ে জানায়, ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানির উচ্চতা না কমা পর্যন্ত কক্সবাজারমুখী ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে না। আটকে পড়া যাত্রীরা চাইলে চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে পারেন। আর যারা ঢাকায় ফিরতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের জন্য বিকেল ৪টায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

এরপর থেকেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পাঁচ দিন পর আজ আবার চালু হচ্ছে এ রুটের ট্রেন চলাচল।

চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:32 am
চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

দুই বছর আগেই স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশের দক্ষিণের জেলা ফেনী। ওই সময় সেখানকার বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এবার সেই কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো একযোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) থেকে বন্যাদুর্গত অঞ্চলে গিয়ে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তরুণরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনীর বন্যায় দেশবাসী সহায়তা করায় সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যার্তদের সহযোগিতায় জেলার প্রায় সব উপজেলায় পৃথক পৃথক ত্রাণ কর্মসূচি চলছে। স্বেচ্ছাসেবকরা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। বিভিন্ন টিমে ফেনী থেকে পাঠানো হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, ওষুধ ও পানিসহ বন্যার্তদের জন্য নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

রোববার (১২ জুলাই) ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারকে আর্থিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— তারুণ্যের বন্ধন, পরিবর্তন, এফবিডিএ, গ্রিন ফোকাস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, লাইফ ফর হিউম্যান ফেনী, মধুই ফাউন্ডেশন, পশ্চিম সুলাখালী যুব সমাজ কল্যাণ সংঘ (প্রত্যয় ব্লাড ডোনার ক্লাব), একতা সামাজিক সংগঠন, জি.ভা. সমাজকল্যাণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, যুবশক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (মুন্সীরহাট, ফুলগাজী), ইলামিত্র যুব মহিলা সমাজকল্যাণ সংস্থা, ফেনী, নেয়ামতপুর ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাব, রক্তকণিকা, আজগর, প্রত্যাশা ক্লাব (মুন্সীরহাট), আশার আলো ফাউন্ডেশন, রিভার ডেল্টা ডিএক্স ক্লাব ফেনী, উম্মাহ ব্লাড ডোনেশন ক্লাব, উচ্ছ্বাস (কেএমহাট, ফেনী সদর), হিউম্যানিটি ইজ লাইফ, এফডিএ, ফেনী ওয়েলফেয়ার ব্লাড ফাইটার্স, আমাদের সমাজ আমাদের পরিবার এবং পাঁচগাছিয়া ব্লাড ডোনেট ক্লাব ফেনীসহ অন্যান্য সংগঠন।

এছাড়া সাতবাড়িয়া মানবিক ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাব, ফেনী জেলা ছাত্র ফোরাম, জামেয়া, আমাদের ফেনী ব্লাড গ্রুপ, আল ইসার সোসাইটি, আল হুদা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, নাইনটিন স্কোয়াড, আমরা মোল্লা তাকিয়া পরিবার, ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনী, এইচডিএফবি ফাউন্ডেশন, দাগনভূঞা আল আমিন সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই এই মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন।

ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকার অন্তত তিন শতাধিক মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, মোমবাতি এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের প্রতিনিধি নিশাদ আদনান বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ফেনীর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মানবিক সহায়তা ও ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো ভুলতে পারি না। চট্টগ্রামের মানুষ দুর্যোগের মুখে পড়েছেন। সেই দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

আরেক প্রতিনিধি খন্দকার সুমন বলেন, আমরা শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, ম্যাচ, স্যালাইন এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেবেন। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমাদের মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ওমর সিফাত নামে আরেক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করলেই হবে না, সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার সবসময় মানুষের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এর আগে গতকাল শনিবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনীর উদ্যোগে এবং ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস ও এইচডিএফবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সংগঠনটির প্রতিনিধিরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সংগঠনটির প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য স্যালাইন, শুকনো খাবার, মোমবাতিসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী প্যাকেজিং করা হয়েছে। এসব ত্রাণসামগ্রী প্রায় ২৫০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।

একই দিন চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সেবায় ছাগলনাইয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করে। দলটি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্র সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যাদুর্গত প্রায় ২২০টি পরিবারের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এ কার্যক্রমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সহযোগিতা করেছে। প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবারসহ জরুরি কিছু জিনিস নিয়ে আমরা বন্যা কবলিত এলাকায় যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে তিনদিন পানিবন্দি থাকার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:10 am
বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান এই তথ‍্য জানান।

তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখেও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জানমাল রক্ষায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ জেলায় সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, পানিবন্দী মানুষের উদ্ধার, গৃহপালিত পশু রক্ষা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

আশিকুজ্জামান জানান, কক্সবাজারের উখিয়া, সদর, পেকুয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও পাহাড়ধসের মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেও তারা সহযোগিতা করছেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা আরও জানান,এই সমন্বিত তৎপরতা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করছে না, বরং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।