খুঁজুন
সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রাণের চাল বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দিতে ডা:শাহাদাতের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
ত্রাণের চাল বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দিতে ডা:শাহাদাতের আহ্বান

ডা: শাহাদাত হোসেন

করোনা ভাইরাস সংক্রমনের এই ক্রান্তিকালে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মূল্য সিমাহীনভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাউল ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ খাদ্যসামগ্রীর দাম সিমাহীনভাবে বেড়ে গেছে।

লকডাউনের কারণে চট্টগ্রামে কয়েক লাখ হতদরিদ্র এবং বেকার মানুষ অতিকষ্টে জীবনযাপন করছে। করোনার বিস্তার রোধে সবাই ঘরবন্দি হয়ে থাকায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র কৃষক, শ্রমিকসহ গরিব মানুষের একটি বড় অংশ কর্মহীন।

করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার যে পরিমাণ চাল বিতরণ করছে তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে যোগ হয়েছে চাল চুরির মহোৎসব। এমতাবস্থায় অবিলম্বে ত্রাণের চাল বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দিয়ে দ্রুততার সাথে পরিচালনা করতে হবে।

ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসে থমকে আছে পৃথিবী। প্রতি সেকেন্ডে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এই অদৃশ্য জীবানু। করোনার সংক্রমণ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বাংলাদেশে। আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা বাড়ছে আশংকাজনকভাবে। এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তা ঘিরে ফেলেছে জনজীবনকে।

মানুষ এখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। ক্ষুধার জ্বালায় রাস্তায় পড়ে থাকছে। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় আফরোজা খাতুন নামে এক শিশু ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের মতো এতো বড় মহামারির মধ্যেও ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজরা ত্রাণ ও স্বল্পমূল্যের চাল চুরি করছে। লোভ লালসা তাদের বিবেক-বোধকে অন্ধ করে দিয়েছে। করোনার সংক্রমন ও আওয়ামীলীগের চাল চুরি চলছে সমানতালে। এ পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এ লুটেরা গোষ্ঠী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদের লাগাম এখনি টেনে ধরুন। না হলে জনগণ রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। জাতির এই ক্রান্তিকালে যারা গরিবের হক মেরে খায় তারা দেশের শত্রু এবং মানবতার শত্রু।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটা ভয়াবহ অমানবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সারাদেশের
চিকিৎসকগগণ তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগিদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু সরকার চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পিপিই দিতে পারেনি। ইতিমধ্যে দুইজন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

আমি এই অবস্থা থেকে বেরুনোর জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে চট্টগ্রামে সাধ্যমতো জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রতিদিন আমার পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও মাস্ক বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।

এটাই আমাদের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ। বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও তাদের সাধ্যমতো জনগণের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

পাশাপাশি শহীদ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ড্যাব-এর উদ্যোগে চট্টগ্রামের ৫টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বিতরণ করেছি। সাধ্যমতো এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধে উঠে এই মুহূর্ত থেকেই আমাদের প্রতিটি নাগরিককে একে অপরের সহায়তায় ভূমিকা রাখা এখন সময়ের দাবি। এখন রাজনীতি করার সময় নয়। এখন দলীয় স্বার্থের ঊর্ধে উঠে মানুষের সহায়তায় হাত বাড়ানোর সময়।

আমাদের সময়মত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার মাশুল হিসাবে করোনা তৃতীয় ধাপ অতিক্রম করছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। সামনে সর্বোচ্চ সতর্ক না হলে চতুর্থ ধাপে পৌঁছালে সেটা আর সামাল দেয়া যাবে না। অকল্পনীয় পরিণতি বরণ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল, বেড, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থ্যা করতে হবে। সকল বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ এখনই স্থগিত করে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতে সেই টাকা ব্যয় করতে হবে।

তিনি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকারী অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় এনে এখনি লাগাম টেনে ধরার আহবান জানান।

Feb2

শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন।

রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নব-নির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন (এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম বাদে, তিনি ১৯ মিনিট পর মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন)। এদের মধ্যে বিএনপি জোটে ৩৬ জন বৈধ প্রার্থী, জামায়াত জোটের ১২ জন বৈধ প্রার্থী ও স্বতন্ত্রদের জোটের এক বৈধ প্রার্থীরসহ মোট ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে তাদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

বিএনপির ৩৬ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) হলেন – সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

জামায়াত জোটের ১২ এমপি হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, ইঞ্জি: মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও ইঞ্জি: মাহবুবা হাকিম।

এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের সুলতানা জেসমিনকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ২৬১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

রোববার (০৩ মে) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৪ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩১৩ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ৪৯১ জন।

এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৮১৬ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২০ হাজার ৯০ জন।

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতি ফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কি হতে পারে সেটি আমরা ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠিক সভা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক একটি সভা বা বৈঠক।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যার অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো জড়িত ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনে যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন অবশ্যই নতুন কিছু নয়, এটি জেলা প্রশাসকদের একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে এটি শুরু হবে এবং ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কী ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি অবশ্যই আপনারা-কম বেশি অবগত রয়েছেন। এটি নিয়েও বোধহয় নতুন করে বিস্তারিত কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ বা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই বা বলতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদে কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই কিন্তু জনপ্রশাসনকে হয়তোবা দুর্নীতি পরায়ন এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। এজন্যই আমি পূর্বের কথাটি বলেছি আপনাদের সামনে। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, যেকোনো সময়, যেকোনো পদে, দেশের স্বার্থে, যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকেন, আমার বিশ্বাস জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটা একটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোটাই নির্ভর।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে হয় আপনারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি, এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে। বিগত সরকারের সময় দেশকে একটা আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিকস যেটা বলে দেশে দারিদ্র বেড়েছে। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কমবেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে সরকার।