খুঁজুন
, ,

অর্থনীতির বরপুত্র প্রবাসীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসুন : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 9 May, 2020, 7:48 pm
অর্থনীতির বরপুত্র প্রবাসীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসুন : সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

অর্থনীতির বরপুত্র খ্যাত প্রবাসীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শনিবার (৯ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত আহবান জানান।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বজুড়ে লকডাউন এবং অচলাবস্থার কারণে নানাবিধ সংকটে পড়েছেন রেমিটেন্স যোদ্ধা খ্যাত আমাদের সোনার সন্তান প্রবাসীরা। যারা একসময় আপনজনের এক চিলতে সুখ আর মুখ ভরা হাসি ফোটাতে নিজের সুখকে জলাঞ্জলি দিয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে বিদেশ বিভুঁয়ে গিয়ে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে নিজের পরিবার ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রাণপন সংগ্রাম করতো তারাই আজ খাদ্য এবং চিকিৎসার অভাবে বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিদেশের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা এ অবস্থায় একদিকে বেতন পাচ্ছেন না অনেকে আবার ছাটাই কিংবা বেতন হ্রাসের কবলে পড়ছেন। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কনস্ট্রাকশন, শিল্পকারখানা, শপিং মল, সুপারশপ, রেস্টুরেন্টসহ, নানাবিধ ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক প্রবাসী। অসীম মমতা আর বুক ভরা ভালোবাসা নিয়ে দেশের পতাকা বুকে ধারন করা এক একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা বছরের পর বছর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে পাথরে ফুল ফোটাতো তারাই এখন দেশে বিদেশে উভয় সংকটে আছেন। একদিকে কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন অন্যদিকে দেশে থাকা প্রিয়জনদের অর্থনৈতিক কষ্ট, যার কারণে বিভিন্ন দেশে অনেক প্রবাসী স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত দূতাবাসগুলোও প্রবাসীদের রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। নিজেদের জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত থাকা এসব দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের দিকে নজরও রাখছেনা বলেও অভিযোগ করছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা। এমন পরিস্থিতিতে দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার প্রধানের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিরাপত্তাসহ মানবেতর সমস্যা তথা খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া ঘর ভাড়া না দেওয়ার কারণে প্রবাসীদের বাসার বিদ্যুৎ এবং পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দেশ থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করা এসব প্রবাসীদের বাস্তব অবস্থা সিনেমার করুন কাহিনীকেও হারা মানায়। এছাড়া বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরে প্রবাসীদের মাঝে আরো ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সর্বাগ্রে আমাদের দেশের অর্থনীতির বরপুত্র প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য বিশেষ স্কীম গ্রহণ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

সাথে সাথে দেশে অবস্থান করা প্রবাসীদের পরিবার পরিজনদেরও থোক অনুদান বরাদ্ধ করার জন্য সরকারের নিকট বিনীত আবেদন জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন, প্রবাসীদের এসব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, পররাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের মাধ্যমে দ্রততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানকল্পে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে দেশের অর্থনীতির আতুর ঘর। বাংলাদেশের অর্থনীতির সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এই বন্দরের মাধ্যমে। স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক মহামারী সৃষ্টিকারী এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের ন্যায় আমরাও উৎকন্ঠিত। আমরা ইতিপূর্বে নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে বার বার বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে অনুরোধ জানিয়েছি বন্দরের অভ্যন্তরে অপারেশনাল এবং দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিএন্ডএফ স্টাফ, শিপিং এজেন্ট স্টাফ, বার্থ অপারেটর স্টাফ ও শ্রমিক, ডক শ্রমিক, ল্যাসিং আনল্যাসিং শ্রমিক, ক্রেন অপারেটর, মার্চেন্ট শ্রমিক, শিপ হ্যান্ডলিং, মেরিন কন্ট্রাকটর শ্রমিকসহ প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করা হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। স্বল্প সংখ্যক শ্রমিকগণ কিছুটা স্বাস্থ্য সচেতন থাকলেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিকরা মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা শ্রমিক-কর্মচারীরা নিজেরাই মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে পতিত হচ্ছে।

ফলতঃ বন্দরের অভ্যন্তরে যারা কাজ করছে তারা নানাবিধ উৎকন্ঠা মাথায় নিয়ে জীবিকার তাগিদে তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। এছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ান স্টপে কর্মরত একজন কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত এই শাখায় একসাথে অনেক কর্মচারী কাজ করেন। বন্দর থেকে পণ্য খালাসের ছাড়পত্র, বিল পরিশোধসহ যাবতীয় কাজ করা হয় এই শাখায়। এই শাখায় পণ্য খালাসে যুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বা সেবা গ্রহীতাদের ভিড় সবসময় লেগে থাকে। এতে করে সবার মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের আমদানি রপ্তানির প্রধানতম প্রতিষ্টান চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাই একান্ত প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার ঘোষণা প্রদান করলেও কার্যত তাদের সে ঘোষণা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর নয়। তবে বর্তমান এ পরিস্থিতিতেও ছুটির দিনগুলোতেও দেশের আমদানি রপ্তানি স্বাভাবিক এবং ভোগ্য পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। আমরা জানি চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্টান। এ বন্দরের কাছে চট্টগ্রামবাসীর অনেক চাওয়া পাওয়া রয়েছে। আমরা আশা করবো চট্টগ্রাম বন্দর একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্টান হিসেবে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তিনি বলেন, আমরা আরো কামনা করি চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষার পাশাপশি চট্টগ্রামবাসীকেও সুরক্ষা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে জনগনের এ দুর্যোগে মানুষের পাশে দাড়ানোর।

তিনি করোনাভাইরাস থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নগরবাসীর মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকরণ সরবরাহ করার আহবান জানান।

এছাড়া করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত হাসপাতালে আইসুলেশন ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ জানান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।