খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের দ্বারা বন ও পরিবেশের ক্ষতি ৪২২০ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা শরনার্থীদের দ্বারা বন ও পরিবেশের ক্ষতি ৪২২০ কোটি টাকা

মায়ানমারের সামরিক বাহিনী দ্বার গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কারণে গত দু’বছরে বন ও পরিবেশের সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে ৪ হাজার ২ শ’ ২০ কোটি টাকা । তারমধ্যে ৬ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি সম্পূর্ণ উজাড় হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরনার্থীরা জ্বালানি হিসাবে ছাই করে ফেলেছে ১ হাজার ৮ হাজার ৩৭ একর সংরক্ষিত বনভূমি। টাকার অংকে যার পরিমাণ ৫ শ’ ৫৫ কোটি টাকা।

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পদচারণা, রাস্তা নির্মাণে ও অন্যান্যভাবে ধ্বংস করা হয়েছে আরো প্রায় ৫ শ’ বনভূমি। ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৮ শ’ ২৯ টাকার জীববৈচিত্র্য। ৫ শ’ ৯১ কোটি টাকার মূল্যবান বনজ দ্রব্য। যেসব ক্ষতি সর্বমোট টাকার মূল্যে ২ হাজার ৪ শ’ ২০ কোটি টাকা।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের দিয়ে সরেজমিনে জরীপ ও পরিদর্শন করে এই ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়। জরীপ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

জাতীয় সংসদীয় কমিটির পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন আহমদ এমপি, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও একই কমিটির সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম, সদস্য রেজাউল করিম বাবলু এমপি, খোদেজা নাসরিন এমপি, আক্তার হোসেন এমপি একই মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন-পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রশাসন (প্রশাসন), পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদ্বয় ও কমিটির সচিব ও সরকারের উপসচিব এ.কে.এম.জি কিবরিয়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকড়তাগণ সহ সাচিবিক দায়িত্ব পালনকারীরা।

স্থায়ী কমিটির এ সভায় মূলত রোহিঙ্গা শরনার্থী আগমনের কারণে কক্সবাজারের বন ও পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তা আবার কিভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংসদীয় কমিটি গত বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর উখিয়ার কুতুপালংয়ে বনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের বসতি এবং তাদের কারণে বনের যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার একটি চিত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। সংসদীয় কমিটি গত ১৭ অক্টোবর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের ছেয়ে আরো ভয়াবহ চিত্র অবলোকন করে। এ ভয়ানক বিষয়টিকে কমিটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা করেছে। কমিটির বৈঠক কক্সবাজারেই করা হবে। এ বৈঠকে বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কেন্দ্রিক ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গারা বনভূমিতে বসতি স্থাপন করায় তা যেমন বেদখল হয়ে যাচ্ছে, তেমনি জীবিকার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বনভূমির গাছই কেটে পাচার করছে তারা। শরণার্থী ক্যাম্প ও বনাঞ্চলে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। তারা জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বনভূমি ধ্বংস করা ছাড়াও পাহাড় কাটা ও মাটি বিক্রি, অবৈধভাবে কাঠ ও বনজদ্রব্য পাচারে যুক্ত হয়েছে। সঠিক নাম-ঠিকানার অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোহিঙ্গা অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সভায় বলা হয়, ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের ছয় হাজার ১৬৪ একর বনভূমিতে বসতি স্থাপনের ফলে দুই হাজার ২৭ একর সৃজিত (সামাজিক বনায়ন) বন এবং চার হাজার ১৩৬ একর প্রাকৃতিক বন ধ্বংস হয়ে যায়। সৃজিত বনের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি আড়াইশ’ কোটি টাকারও বেশি। মোট বনজদ্রব্যের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা।

হাতি চলাচলের পথ বন্ধ :
কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, রোহিঙ্গা বসতির কারণে বালুখালী-ঘুমধুম করিডোর দিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে হাতি চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাই হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। ইতিমধ্যে হাতির আক্রমণে ১২ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলার বনভূমি এশিয়ান হাতির বাসস্থান, বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী- এই এলাকায় ৬৩টি এশিয়ান হাতি বাস করে। উখিয়া-টেকনাফ এবং রামু (আংশিক) উপজেলার বনভূমিতে বাস করলেও পানেরছড়া-রাজারকূল এবং বালুখালী-ঘুমধুম করিডোর দিয়ে হাতিগুলো বান্দরবান ও মিয়ানমারে চলাচল করত। রামু ক্যান্টনমেন্ট স্থাপনের ফলে আগেই পানেরছড়া-রাজারকূল করিডোর বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা আসায় বাকি সাড়ে চার কিলোমিটার করিডোরও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষ বাড়ছে। উখিয়া-টেকনাফের বনভূমিতে পরিকল্পনাহীন বসতি এবং জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ফলে হাতির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হাতির খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মানুষ ও হাতির সংঘর্ষ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্যাপক ক্ষতি জীব বৈচিত্র্যের :
স্থায়ী কমিটির সভায় বলা হয়, রোহিঙ্গা বসতির ফলে জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়, যা নিরূপণে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া এই ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করতে হয় বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত সংরক্ষিত বনভূমিতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষজ্ঞ কমিটি জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব-নিকাশ করে। একই জেলায় প্রায় একই ভূ-প্রকৃতির অংশ হওয়ায় এসপিএম প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্ধারিত ক্ষয়ক্ষতির অনুরূপ হারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে ধ্বংস হওয়া ছয় হাজার একর রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমিতে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। বনজদ্রব্যের ৪৫০ কোটি ও জীববৈচিত্র্যের এক হাজার ৪০৯ কোটি মিলে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। আরও সঠিক হিসাব নির্ধারণে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে ১০ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটির রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত :
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কক্সবাজার দপ্তরের (আরআরআরসি অফিস) ৭ অক্টোবর পর্যন্ত হিসেবে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কাজের হালনাগাদ প্রতিবেদনে শুধু বসতির কারণেই ক্ষতি দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার একর বনের। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, ভাসানচরে স্থানান্তর এবং ক্যাম্প এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাই কক্সবাজারে আর কোনো জমি বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। কক্সবাজারে বরাদ্দ দেওয়া আট হাজার একর বনভূমির বাইরে রোহিঙ্গাদের আর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এসব তত্ত্বাবধান করবেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।

তবে বিভিন্ন সংস্থা ক্যাম্প এলাকায় চলাচলের জন্য রাস্তা, ল্যাট্রিন, নলকূপ, গুদামঘর,ওয়্যারহাউস ইত্যাদি তৈরি করছে। বন বিভাগের গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত, রক্ষিত বনভূমিতে এসব স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে। এ পর্যন্ত ৩৪টি ক্যাম্প ও ২৮টি সিআইসি অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

এসব ক্যাম্পে দুই লাখ ১২ হাজার ৬০৭টি ঘর (অস্থায়ী শেল্টার), ৯ হাজার ৪৩৭টি নলকূপ, ৫৮ হাজার ৩০টি ল্যাট্রিন, ১৬ হাজার ৯৫৭টি গোসলখানা, ২০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন, ৩৪ দশমিক ৬০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ত্রাণ সংরক্ষণের জন্য ২০টি অস্থায়ী গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনার পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে।

স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন এনজিও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থা ব্যাপক হারে পাহাড় কাটছে। ক্যাম্প এলাকায় বনভূমির পাহাড় কেটে পুলিশ ক্যাম্প এবং বিভিন্ন সংস্থার অফিসের জন্যও অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংগ্রহে বন ধ্বংস এক হাজার ৮০০ একর :
রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও রান্নার জন্য কোনো জ্বালানির ব্যবস্থা করা হয়নি। তারা ক্যাম্পের বাইরে এক হাজার ৮৩৭ একর বনভূমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে গাছ কাটছে। এমনকি গাছের শিকড়ও উপড়ে ফেলছে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের কারণে বনজদ্রব্য ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থা এক লাখ ৭০ হাজার ৪৭৮ পরিবারকে (স্বাগতিক পরিবারসহ) বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা পরিবার এক লাখ ৬৪ হাজার ৫১৩টি এবং স্থানীয় স্বাগতিক পরিবার পাঁচ হাজার ৯৬৫টি।

কিছুদিন আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করে আসা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন সভায় সংসদীয় কমিটিকে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কোনো কোনো স্থানে হাতির ছবি টানানো রয়েছে এবং লেখা আছে হাতির চলাচলের পথ। অথচ সেখানে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি করে থাকতে দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে অবস্থান করছে।

এ অবস্থায়, ক্রমাগত এ ধ্বংসযজ্ঞ আর চলতে দেওয়া যায়না। আন্তর্জাতিক মহলকে বন, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্যের এ ভয়ংকর ক্ষয়ক্ষতির কথা অবহিত করা হবে। এক্ষতি সহসায় পূরণ করা নাগেলেও আন্তজার্তিক মহলকে ক্ষতি পূষিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে আহবান জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির অনুষ্ঠিত এ সভা কক্সবাজারের জন্য প্রথম একটি সভা।

Feb2

বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় সদ্য গঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শুক্রবার বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি দুইটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, দুটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, বিভিন্ন মহলে সমালোচনার কারণে বিষয়টি সরকারে ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এ কারণেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র আরও জানায়, নতুন নাম নির্ধারণে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নতুন নাম চূড়ান্ত করার আগে আরেকটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মতামত দিতে বলা হবে। এরপর প্রস্তাবিত নামগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন নাম চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় সদ্য গঠিত তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের পর এ সিদ্ধান্ত এলো।

নামগুলো তার পারিবারিক উপাধি ও দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকায় গত সোমবার সংসদে প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

তবে অভিযোগ নাকচ করে সংসদে শাহে আলম বলেন, ‘নামগুলো অলৌকিকভাবে তার ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে।’

৩০ মিলিয়ন ডলারের ৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন নিয়ে পিসিটিতে ভিড়ল জাহাজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
৩০ মিলিয়ন ডলারের ৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন নিয়ে পিসিটিতে ভিড়ল জাহাজ

দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালিত বন্দর টার্মিনাল পিসিটির জন্য এসেছে ৪টি অত্যাধুনিক কি গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি)। চীন থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারে সংগ্রহ করা ৪টি শিপ টু শোর কিউসিজি নিয়ে আসা বিশেষায়িত ডেক জাহাজ ‘LAN HAI HONG YUN’ শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ভিড়েছে।

এর জন্য বন্দরের দুইজন অভিজ্ঞ পাইলট এবং তিনটি শক্তিশালী টাগবোট নিয়োজিত ছিল।

বিষয়টি পিসিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সৌদি আরব ভিত্তিক বেসরকারি টার্মিনাল অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর কিউজিসি নিয়ে আসা জাহাজটি থেকে আনলোডকালীন কর্ণফুলী চ্যানেলে পিসিটি সংলগ্ন এলাকায় সব বাণিজ্যিক জাহাজ ও কোস্টার, ট্যাংকার, ফিশিং ট্রলার চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে পিসিটি জেটি থেকে কমপক্ষে ১০০ মিটার পূর্ব তীর ঘেঁষে চলাচলের জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি এবং এনসিটির জন্য কিউজিসি আনার অভিজ্ঞতা থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ বহির্নোঙর থেকে বিশেষায়িত জাহাজটি সহজে পিসিটিতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দ্রুততম সময়ে এবং নিরাপদে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামাতে বা জাহাজে তুলতে কিউজিসি সবচেয়ে আধুনিক। কিউজিসি না থাকলে নিজস্ব ক্রেন নেই এমন জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস করা যায় না কিংবা ঝুঁকির।

কিউজিসি সরবরাহের আদেশ দেওয়ার পর তৈরি করতে এক বছরের বেশি সময় লাগে। পিসিটিতে কিউজিসি যুক্ত হচ্ছে এটি নিঃসন্দেহে মেরিটাইম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক দিক। কিউজিসি আনলোড করার পর অপারেশনাল করতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে।

সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে ৪টি কিউজিসি কেনার চুক্তি করে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেকানিক্যাল ম্যানেজার আলতাফুল আজম, প্রকৌশল বিভাগের প্রধান (আরএসজিটি চট্টগ্রাম) ফেরদৌস রহমান, টেকনিক্যাল প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান (আরএসজিটি জেদ্দা) কোয়ান হি. হান, আরএসজিটি চট্টগ্রাম সিইও অ্যারউইন হেইজ, সানি-এর জেনারেল ম্যানেজার চেন জিং, বিদেশী বিক্রয় বিভাগের জিএম ট্যাং ওয়েইবিন, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস ডিন এলভি গুওজেন, মেনা-এর ডেপুটি জিএম টং লিচাও।

অত্যাধুনিক ক্রেনগুলোর আরএসজিটি বাংলাদেশের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ’এস (২০ ফুট হিসেবে) থেকে ৬ লাখ টিইইউ’এসে বাড়বে যা এর পরিচালনার দক্ষতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং লজিস্টিক খরচ কমিয়ে দেবে। এর আগে ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) সংগ্রহে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে আরএসজিটি।

১ হাজার ২০০ কোটি টাকায় পিসিটি তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। চুক্তি অনুযায়ী সেই টার্মিনালে যন্ত্রপাতি কিনে পরিচালনা করছে রেড সি। তারই অংশ হিসেবে কিউজিসি আসছে পিসিটিতে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ ওঠানামা নিরাপদ রাখতে পিসিটির তিনটি জেটির একটিতে উচ্চতাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বাকি দুটি জেটিতে বসানো হবে চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে পিসিটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল পিসিটির আধুনিকায়ন, গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা। চুক্তির শুরুতে কনসেশন ফি ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বন্দরকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে পিসিটিতে কনটেইনার উঠানামা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ আমদানি পণ্যের কনটেইনার। ১৯ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার। প্রতিমাসে এখন ১১-১২টি কনটেইনার জাহাজ পিসিটিতে ভিড়েছে। কিউজিসি অপারেশনাল হলে জাহাজের সংখ্যা ও কনটেনার হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী করতে পারবে পিসিটি।

পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন : শার্ট হবে গাঢ় নীল, প্যান্ট খাকি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন : শার্ট হবে গাঢ় নীল, প্যান্ট খাকি

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জেলা পুলিশ ও অধিকাংশ ইউনিটের সদস্যদের শার্ট হবে গাঢ় নীল (ডিপ ব্লু) রঙের এবং প্যান্ট হবে খাকি রঙের। আর মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য শার্টের রং নির্ধারণ করা হয়েছে হালকা জলপাই (লাইট অলিভ)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ১২ ধারা অনুযায়ী সরকারের অনুমোদনক্রমে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর সংশোধনী জারি করেন।

গেজেটে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষর করেন।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, আগে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে ডিপ ব্লু রঙের শার্ট এবং কফি (শেইল) রঙের প্যান্টের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের রংও ডিপ ব্লু করা হয়েছে। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্ষেত্রে জ্যাকেট ও শার্ট হবে লাইট অলিভ রঙের।

এ ছাড়া নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, নারী সদস্যরা ডিপ ব্লু শাড়ির সঙ্গে ডিপ ব্লু ব্লাউজ পরতে পারবেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের নারী সদস্যদের ক্ষেত্রে ডিপ ব্লু শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ ব্লাউজ পরার বিধান রাখা হয়েছে। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত বা মাথা ঢাকতে ইচ্ছুক নারী সদস্যরা সারা বছর ফুল স্লিভ শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।