খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও বাজেট ভাবনা নিয়ে ভার্চুয়াল সংলাপ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 7 June, 2020, 6:51 pm
বাংলাদেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও বাজেট ভাবনা নিয়ে ভার্চুয়াল সংলাপ অনুষ্ঠিত

চলতি জুন মাসে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে শনিবার (৬ জুন) রাতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের রয়্যাল ইকোনোমিকস ক্লাব(REC)- কর্তৃক আয়োজিত “কোভিড-১৯ মহামারীঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও বাজেট ভাবনা” শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত ভার্চুয়াল সংলাপে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস. এম. ওয়াহিদ মুরাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রয়্যাল ইকোনোমিকস ক্লাবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জয় ভৌমিক।

বাজেট বিষয়ে ভাবনা নিয়ে এ আলোচনায় নানাবিধ তথ্য উঠে এসেছে। বাজেট ভাবনা নিয়ে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের অগ্রাধিকারের জায়গা হতে হবে স্বাস্থ্য খাতে।

প্রত্যেকেই একমত যে, যদি জীবনকে বাঁচাতে পারি, তবে জীবিকাকেও রক্ষা করা যাবে।”

এছাড়াও তিনি সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানোর দিকেও জোর দিয়েছেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, “এবারের বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ ৪টি।
১.বাজেটটা হতে যাচ্ছে কোভিড-১৯ এর কোন খাতে কি অভিঘাত হয়েছে তার মূল্যায়ন ব্যতিরেকে একটা অন্ধকারের ভেতর।
২.যেহেতু মূল্যায়ন নেই,সেহেতু আগের বাজেটের সাথে যে মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা থাকে,তার বেইসমেন্ট এখন খুব জটিল অবস্থায় আছে।
৩. ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পুরো কনসেপ্ট তছনছ করে দিয়েছে কোভিড-১৯।
৪.বাংলাদেশের উন্নয়ন উপাখ্যান প্রবৃদ্ধি নির্ভর,প্রবৃদ্ধির ধারণা নির্ভর বাজেট হলে আমরা আবারও গতানুগতিকতার দিকে ফিরে যাবো।”

তিনি আরও বলেন “করোনা ভাইরাস আমাদের বিভিন্ন খাতের দূর্বলতাগুলো ধরিয়ে দিয়েছে; এখন আমাদের উচিত হবে এবারের বাজেটে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, “বাজেটে সাংবিধানিক কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা আমাদের মানতে হবে। ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা আমাদের ভিন্ন ভাবে ভাবতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ লকডাউনে দেয়া যাবে না, কারন কাজ হারিয়েছে অনেকেই। ইতোমধ্যে দারিদ্র্যতার হার বেড়েছে। এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্য ও কাজের আওতায় আনতে হবে। আমাদের এবারের বাজেট মূল্যায়িত হবে- আমাদের জীবন কতটা নিরাপদ করতে পারলাম, প্রণোদনার বাস্তবায়ন কতটুকু হলো এবং বাজার ব্যবস্থা কি পরিমান চালু রাখতে পারলাম এসবের উপর। বাজেটের মূল কৌশল হবে ওই মার্চে ইকোনোমিকে যে অবস্থায় রেখে এসেছি সে অবস্থায় ফিরে পাওয়া। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকার ভূমিকা পালন করেছে এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতেও বরাদ্দ বাড়বে এবারের বাজেটে। এ (মন্দাকালীন) বছরের সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে বলেই বাজেট ঘাটতি বাড়াতে হবে। মন্দা মোকাবেলায় মনিটারি পলিসি জোরদার রাখতে হবে আমাদের।”

তিনি আরও বলেন, করোনায় মৃত্যুর থেকে খাদ্যাভাবে মৃত্যু বেশি পীড়াদায়ক! স্থানিক ও সংক্রমণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা কার্যকরী পদক্ষেপ নেবো। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাড়ানোর সর্বোচ্চ প্রয়াস চালানো আমাদের লক্ষ্য এবং সর্বোপরি বরাদ্দের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোতে নজর দিতে হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিথিবৃন্দ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন ।

এক প্রশ্নের জবাবে গার্মেন্টস খাতে প্রণোদনা সত্ত্বেও কর্মী ছাঁটাই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আলম বলেন, “হুট করে কর্মী ছাঁটাই শ্রমিক কল্যাণ আইনে আসলে সম্ভব নয়। নোটিশ দিতে হবে এবং যথোপযুক্ত নিয়ম মেনে তবেই সম্ভব। এ ব্যাপারে সরকারের আগ্রহের কমতি নেই। প্রণোদনার সুযোগ পেয়েছে বলে গার্মেন্টস সেক্টরের বিষয়টা ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিৎ।”

একই প্রসঙ্গে ড. শাহাদাত যোগ করেন, “সেইফটি এন্ড সিক্যুরিটি অফ দ্যা জব নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। এত বড় একটা সেক্টরকে আমরা কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না তাও ভেবে দেখতে হবে।”

বাজেটে আয় বৈষম্য কমানোর জন্য উচ্চসম্পদশালীদের উপর সম্পদ কর আরোপের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া উচিত কিনা, প্রশ্নের জবাবে ড.ভট্টাচার্য বলেন, “প্রবৃদ্ধি ও বন্টনের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধের নিষ্পত্তি হয় এর ট্রেড অফ আসলে কার্যকর হয় উন্নয়ন অর্থনীতিতে। সম্পদের উপর কর আরোপ না করে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়না।”

এ আলোচনায় শিক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র গ্রেডের পিছনে না দৌড়ে, সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথেও নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে হবে!”

ড. শাহাদাত সিদ্দিকী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নিজে ভালো থাকুন, দেশকে ভালো রাখুন।”

পরিশেষে, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, নোবিপ্রবি‘র অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, বাংলাদেশের আয় বৈষম্য কমে গিয়ে আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে; অর্থাৎ এখন এটা ইংরেজি বর্ণ ‘N‘ -এর মত। তাছাড়া কোভিড-১৯-এর প্রভাবে দারিদ্রের হারও প্রায় দ্বিগুন হয়ে গিয়েছে। বেকারত্বের হারও অনেক বেড়ে গিয়েছে। এজন্য তিনি বাজেটে আনুষ্ঠানিক খাতের পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতকেও প্রণোদনার আওতায় আনার সুপারিশ করেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/অনামিকা

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।