খুঁজুন
, ,

বোয়ালখালীতে ১’শ ছাড়াল করোনা আক্রান্ত, একদিনে ২৪ জন শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 7 June, 2020, 9:22 pm
বোয়ালখালীতে ১’শ ছাড়াল করোনা আক্রান্ত, একদিনে ২৪ জন শনাক্ত

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:বোয়ালখালীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১শত ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২০ জন।

উপজেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত শনাক্ত হয় গত ১৪ এপ্রিল। এরপর থেকে রবিবার (৭ জুন) পর্যন্ত আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২০ জন। এর মধ্যে সুস্থতার তালিকায় রয়েছে ১০ জনের নাম।

উপজেলার প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধ বর্তমানে তিনি করোনা জয়ী হয়ে সুস্থ রয়েছেন। তিনি নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নমুনা দিয়েছিলেন কোভিড-১৯ পজেটিভ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে নগরীর জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকেন এবং পরবর্তী নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ নেগেটিভ বলে জানা যায়।

১৪ এপ্রিল থেকে ৭জুন পর্যন্ত বোয়ালখালীতে ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জিল্লুর রহমান।

রবিবার বোয়ালখালীতে ২৪ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ আসে। যা বোয়ালখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে গত ২জুন পর্যন্ত ১০জন সুস্থ হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান।

এছাড়া ২ জুন ১জন ও ৩ জুন আরো একজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন বলে জানান তিনি।

ডা.জিল্লুর বলেন, উপজেলার করোনায় আক্রান্ত ৯১ জন হোম আইসোলেশনে ও ১৯জন হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছেন।

রবিবার পর্যন্ত ৪০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ৩১৩টি নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বোয়ালখালী পৌর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পৌর এলাকায় রবিবার পর্যন্ত ৬২ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে । ১৩ জন শনাক্ত হওয়ায় ২য় অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়ন। ৮ জন শনাক্ত হওয়ায় ৩য় অবস্থানে রয়েছে সারোয়াতলী ইউনিয়ন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে শাকপুরা ইউনিয়ন। শাকপুরায় শনাক্ত হয়েছেন ৭ জন। কধুরখীল ইউনিয়নে ৬জন ও খরণদ্বীপ-শ্রীপুর ইউনিয়নে ৬ জন। আমুচিয়ায় ৪জন ও চরণদ্বীপ ইউনিয়নে ৪জন শনাক্ত হয়েছেন। পোপাদিয়া ইউনিয়নে ৩জন ও আহলা কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ২জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া নগরীতে অবস্থানকারী বোয়ালখালীর বাসিন্দা আরো ৫ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছে।

উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে বোয়ালখালী থানায় কর্মরত ১৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪জন চিকিৎসক ও ৫ জন কর্মচারী।

জানা গেছে, বোয়ালখালীতে আক্রান্ত বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না সুস্থতা। তবে ফলোআপ নমুনা পরীক্ষা না করায় প্রকৃত সুস্থতার তথ্য জানা যাচ্ছে না। নমুনাজটের অজুহাতে অনেক পজেটিভ রোগীর নমুনা ২য় বারের মতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পজেটিভ রির্পোটের মাস পেড়িয়ে গেলেও নিরাময়ের তথ্য জানা যাচ্ছে না। অথচ নগরীর কাছের উপজেলা হওয়ায় বোয়ালখালীতে নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা দিচ্ছেন নগরীর বাসিন্দারাও। করোনা আক্রান্ত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষা ২য় বার করা না হলেও শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন তারা।

এদিকে বোয়ালখালীতে আক্রান্তের হার বাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড করার উদ্যােগ নিয়েছেন সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ। আইসোলেশন ওয়ার্ডের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পৌর প্যানেল মেয়র শাহজাদা এসএম মিজানুর রহমান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/পূজন

Feb2
Feb2

দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 11:38 pm
দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 9:57 pm
বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা

ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের দ্বীপ ময়উন ওরফে পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি গোষ্ঠী।

পেরিম বা ময়উন দ্বীপটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বীপটির ভৌগলিক অবস্থান বাব এল-মান্দেব প্রণালির একদম মাঝখানে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান সেই দ্বীপে পৌঁছে দ্বীপটি দখল করে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।

জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা গত সপ্তাহে বাব আল-মানদেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।

ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল–মানদেব প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।

এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, কী বলছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 9:36 pm
এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, কী বলছে পুলিশ

একটি বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক। কারও হাতে মোবাইল, কেউ ব্যস্ত ল্যাপটপে। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ আবাসিক বাড়ি মনে হলেও ভেতরে চলছিল সংঘবদ্ধ অনলাইন কার্যক্রম। চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা। পুলিশের অভিযানে একসঙ্গে ৬৩ জন গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এক দুবাইপ্রবাসীর কাছ থেকে। সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ডিভাইসের সংখ্যাও বেশ বড়— ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ। এর সঙ্গে ছিল ট্যাব, পেনড্রাইভ, সিমকার্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক একসঙ্গে চট্টগ্রামে এসে কীভাবে একটি আবাসিক বাড়ি ভাড়া নিলেন এবং দেড় মাস ধরে সেখানে অবস্থান করলেন? তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাড়ির মালিক, আশপাশের বাসিন্দা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা জানতেন? আসামিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, কে বা কারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ভাড়াটেদের পরিচয় যাচাই কীভাবে হয়েছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন বিদেশি নাগরিকরা।

অভিযানে উদ্ধার করা ডিভাইসের সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, বাড়িটিতে অনলাইনভিত্তিক কাজের জন্য একটি সংগঠিত সেটআপ ছিল। ৬৩ জনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় দুইটি করে মোবাইল ছিল প্রত্যেকের জন্য। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৫৭টি ল্যাপটপ।

এ ছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে চারটি সিমকার্ড। পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এতগুলো ডিভাইস কেন এবং কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্‌ম এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তারা।

শুধু বিদেশিরা নন, আছে সহযোগীরাও

পুলিশ বলছে, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু ওই বাড়ির ৬৩ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের কথা জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন তারা।

এই সহযোগীরা কী ধরনের সহায়তা দিতেন, বাড়ি ভাড়া নেওয়া, যাতায়াত, যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ কিংবা অর্থ লেনদেনে তাদের ভূমিকা ছিল কি না— এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে। কারণ, এতজন বিদেশি নাগরিকের জন্য বাসস্থান, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা এককভাবে পরিচালনা করা কঠিন।

চট্টগ্রাম কেন?

অনলাইন অপরাধের জন্য ভৌগোলিক অবস্থান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ না হলেও চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি মানুষের চলাচল তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আনাগোনাও রয়েছে। সেই সুযোগকে অপরাধী চক্র ব্যবহার করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের চট্টগ্রামে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কিংবা তাদের ভিসার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

তদন্তে সামনে আসবে বড় নেটওয়ার্ক?

একটি বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিক এবং বিপুলসংখ্যক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনা, এটিকে নিছক একটি আবাসিক বাড়িতে কয়েকজন বিদেশির অবস্থানের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ রাখছে না। পুলিশের বক্তব্যে দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থানের তথ্যও এসেছে।

তদন্তে এখন মূল বিষয় হবে এই ৬৩ জনের মধ্যে কে কোন ভূমিকায় ছিলেন, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কারা যুক্ত ছিলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল এবং এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।

উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণেই এসব প্রশ্নের অনেক উত্তর মিলতে পারে। একই সঙ্গে ওই বাড়ির ভাড়া চুক্তি, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার নথি এবং তাদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখলে চক্রটির বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে চট্টগ্রামের ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।