খুঁজুন
, ,

গভর্নর পদে বয়সসীমা ৬৭ বছর করে ‘দি বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২০’এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 8 June, 2020, 8:33 pm
গভর্নর পদে বয়সসীমা ৬৭ বছর করে ‘দি বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২০’এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বয়সসীমা ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করে ‘দি বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২০’এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এর মাধ্যমে ‘৬৫ বছরের উর্ধ্বের কোন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর করা যাবে না’, সংক্রান্ত ‘অনুবিধিটি’ বিলুপ্ত হবে এবং সেক্ষেত্রে ৬৭ বছর পর্যন্ত এই পদে নিয়োগ প্রদান করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়।

পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার নিরীখে মন্ত্রিসভা আলোচনা করে গভর্নরের বয়সসীমা ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করে আইনের সংশোধনীটি অনুমোদন করেছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘দি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্টস অর্ডার নম্বর ১২৭, ১৯৭২) এর আর্টিকেল ১০ এর অনুবিধি ৫ এর বিধান অনুযায়ী গভর্নরের কার্যকাল বা মেয়াদ চার বছর এবং তাকে পুনঃনিয়োগ করা যাবে।’

‘তবে, উক্ত অনুবিধি (৫) এর শর্তাংশে উল্লেখ রয়েছে যে, ৬৫ বছর বয়স পূর্তির পর কোনো ব্যক্তি গভর্নর পদে আসীন থাকতে পারবেন না’, বলেন তিনি।

সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আর্থিক খাতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত থাকায় আর্থিক খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে ৬৫ বছরের পর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না।’

তিনি বলেন, ‘এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারি অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেও ৬৫ বছরের পরে পুনঃনিয়োগ দেয়া সম্ভব হয় না।’

‘যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত ‘দি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিন্ডেন্টস অর্ডার নং: ১২৭ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ১০ এর অনুবিধি (৫) এর শর্তাংশ জনস্বার্থে বিলুপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

খন্দকার আনোয়ার বলেন, ‘আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত এবং শ্রীলংকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর এবং ডেপুটি গভর্নর পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমার উল্লেখ নেই শুধু মেয়াদকালের উল্লেখ রয়েছে।’

এছাড়া এদিন, ‘আদালত কতৃর্ক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন এবং সরকারি মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারী ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী (প্রাইভেট) লিমিটেড (নবায়নযোগ্য) নামে কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব এবং উহা গঠনের লক্ষ্যে এতদসংশ্লিষ্ট জয়েন্ট ভেঞ্চার, মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

একইসঙ্গে প্রতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখকে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কতৃর্ক জারিকৃত পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে উহা অন্তর্ভূক্তকরণের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।

ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনার (ভার্চুয়াল আদালত) জন্য এ সংক্রান্ত জারিকৃত অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য এদিন ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘গত ৭ মে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের পর ৯ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ জারি করেছে সরকার। এখন সংসদ অধিবেশন বসছে, তাই, অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করতে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা।

খন্দকার আনোয়ার বলেন, ‘বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী আদালতে মামলার পক্ষ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের এবং সাক্ষীদের সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি রোধকল্পে এক মাসের অধিক সময় ধরে কতিপয় ব্যতিক্রম ব্যতীত আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা এবং মানুষের সমাগম হয় এমন সব কর্মকা- নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়া হলেও কোভিড-১৯ মহামারি রোধকল্পে অধিকতর জনসমাগমকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।’

সচিব বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে দেশের সব আদালতে বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করতে হলে একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনপূর্বক অনুমোদন করাতে হবে।’ ‘অন্যথায় ৩০ দিন অতিবাহিত হলে অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাবে,’ বলেন তিনি।

এছাড়া এদিন, ‘আদালত কতৃর্ক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন এবং সরকারি মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী এবং চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী (প্রাইভেট) লিমিটেড (রিনিওয়েবল) নামে কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব এবং উহা গঠনের লক্ষ্যে এতদ সংশ্লিষ্ট জয়েন্ট ভেঞ্চার, মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশনে’র খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

এ সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য নীতিমালা বাস্তবায়নকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভ্যন্তরীণ ও আমদানীকৃত কয়লা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পরমাণু শক্তি ইত্যাদির সাথে সাথে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৫শ’ মেগাওয়াট পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য সরকারি মালিকানা ভিত্তিক ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেড (নওপাজেকো) এবং চায়না পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড (সিএমসি) এর যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী (প্রাইভেট) লিমিটেড (রিনিওয়েবল) নামে কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সচিব বলেন, বর্নিত জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানী গঠনের ক্ষেত্রে নর্থ ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডে’র শেয়ার হবে ৫০ শতাংশ এবং চায়না পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড (সিএমসি)-এর শেয়ার হবে ৫০ শতাংশ।

খন্দকার আনোয়ার বলেন, প্রস্তাবিত কোম্পানীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌর ও বায়ু শক্তি) ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানী হবে। যার পরিশোধিত মূলধনের পরিমান হবে ১৬ কোটি টাকা।
তিনি আরো বলেন, এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা সম্ভব হবে।

প্রতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখকে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কতৃর্ক জারিকৃত পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে তা অন্তর্ভূক্তকরণের প্রস্তাব দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘পরিসংখ্যানকে আরো জনকল্যাণমুখী ও মানুষের দোরগোড়ায় উপস্থাপনের জন্য ২৭ ফ্রেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘পরিসংখ্যান আইন-২০১৩’ পাশ হয় এবং আইনটি ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।