খুঁজুন
শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী সপ্তাহ থেকে বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু, র‍্যাপিড টেস্টের বিকল্প নেই, বললেন- ড. ফিরোজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আগামী সপ্তাহ থেকে বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু, র‍্যাপিড টেস্টের বিকল্প নেই, বললেন- ড. ফিরোজ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:আগামী সপ্তাহ থেকে বিমান চলাচল শুরু হচ্ছে। আমরা ছোট এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। সত্যিকার অর্থে জনগণের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের সঠিক তথ্য আমাদের হাতে নেই।

মানবসম্পদ ও পোশাক শিল্পের রপ্তানি বাণিজ্য দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সারা বিশ্বে যেমন হইচই, তাতে আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকরা বিভিন্ন এয়ারপোর্টে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে পারেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর দিকে এরকম একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দেশি-বিদেশি বহু মানুষের ফোন কল পেয়েছি। সবারই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নেই এমন একটি সার্টিফিকেট দরকার ছিল। কেউ দৌড়াচ্ছে আইইডিসিআর, কেউ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আবার কেউ ছুটছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কি যে একটা ভজঘট ব্যবস্থা!

বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিমান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত আছেন তো! আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন সব ঘটনা ঘটে যে, চিন্তিত না হয়ে পারি না। একটা ঘটনা তো আমার মনে খুব দাগ কেটেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান চলাকালে ঘোষণা দেবার পর জাতীয় সংগীত বাজাতে পারলো না কর্তৃপক্ষ। উপায়ন্তর না দেখে কোন একজন সংসদ সদস্য দৌড়ে মঞ্চে উঠে তাড়াহুড়ো করে খালি গলায় জাতীয় সঙ্গীতের কয়েকটি লাইন গেয়ে দেশোদ্ধার করলেন।

আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকারের আমলে আজ পর্যন্ত অবশ্য জাতীয় সংগীতের অমর্যাদা হতে শুনিনি।

করোনা মহামারী নিয়ে আমরা একের পর এক ভুল করে চলেছি। সরকারের বেশ কিছু সংস্থার গোয়ার্তমি আর দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমাদের সবাইকে একটু ঠান্ডা মাথায় বসে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’কে সাথে নিয়ে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অবশ্যই একটি স্বতন্ত্র কোভিড-১৯ ভাইরাস সনাক্তকরণ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল ও সনদ দেবার কাজটা সম্পন্ন করতে মানসম্পন্ন রেপিড টেস্ট এর বিকল্প নেই! আমাদের রেপিড টেস্ট নিতে হবে আমি সে কথা বলছি না। তবে বিদেশগামী যাত্রীদের অবশ্যই একটি করোনা সংক্রমণ টেস্ট সার্টিফিকেট লাগবে এবং সরকারের তা দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

এমনকি সেটা আমরা বিদেশগামী যাত্রীর যাবার আগের দিন পর্যন্ত টেস্ট করে কোয়ারেনটাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে পারি। যাতে কেউ আমাদের বিমান যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। যারা আসবে তাদের ক্ষেত্রে অন্তত একটি প্রাথমিক স্ক্রীনিং অত্যন্ত জরুরি। কোয়ারেন্টাইন এর ব্যবস্থাও নতুন করে চালু করা উচিত। স্ক্রিনিংয়ে যাদের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেবে তাদেরকে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইন করে পরবর্তী সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে।

উন্নত বিশ্বের অন্যান্য এয়ারপোর্টের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা ব্যবস্থার আলোকে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। তাই বলে স্বচক্ষে দেখার নাম করে সংশ্লিষ্টদের আবার সরকারি কোষাগারের অর্থ অপচয় এর প্রচেষ্টা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। সকলকে অনুরোধ করছি- বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আমার এই বক্তব্যকে অতিকথন হিসেবে নিবেন না।

সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেষ করতে চাই যে, আমরা মানে বাংলাদেশের মানুষ করোনা ভাইরাস এর কোন কোন টাইপ দিয়ে সংক্রমিত হয়েছি তা এখনো পর্যন্ত নির্ণয় করতে পারিনি। জানামতে নানা পর্যায়ে সিকোয়েন্সিং এর কাজ চলছে।

করোনা ভাইরাসের ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতি বুঝতে আমাদের আরও সময় লাগবে। পরিবেশ, পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের পুষ্টিমান ও অনুসঙ্গী দুরারোগ্য ব্যাধি এবং জীবন যাপনের ধারা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের গতিপথ ও সামগ্রিক চিত্র দিন দিন পাল্টে দিচ্ছে। এখনও অনেক কিছুই আমাদের অজানা। সুতরাং এই অধমদের কথাগুলো একটু আমলে নিলে সরকারের উপকারের চেয়ে অপকার হবে না। অতএব, সাধু সাবধান!

গতকাল আমার সহধর্মিনীর অত্যন্ত কাছের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহকর্মী এবং বয়সে অন্তত ০৫ (পাঁচ) বছরের জুনিয়র তিনটি সন্তানের প্রিয় জননী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ২১ (একুশ) দিন পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মনে রাখতে হবে যে, এই হৃদরোগটি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সৃষ্ট একটি উপসর্গ।

তাই সবশেষে সবাইকে আবারো বলতে চাই- নিয়মিত মাস্ক পরার অভ্যাস করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, নিজের আশপাশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন এবং সততার সাথে জীবনযাপনের ব্রত মেনে চলুন। সবাইকে আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি- আপনার জীবন আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ।

আসুন, সততার সাথে জীবন গড়ি। দেশ মা’কে রক্ষা করি।

বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/অনামিকা

Feb2

মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে এ দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকরাই হলো দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। শিল্প, কৃষি, নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক এবং শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি উন্নত শ্রমিকবান্ধব সমাজ এবং মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ- এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বলেছেন, নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা করে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করতেও সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাসহ নানাবিধ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে, ঢাকায় মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।

১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকেরা কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টা নির্ধারণ, কাজের উন্নত পরিবেশ, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সেদিন দাবি আদায়ের জন্য পথে নেমে এসেছিলেন।

কিন্তু বিক্ষোভ দমনে সেদিন বর্বর কায়দা অবলম্বন করা হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন শ্রমিকেরা। সে ঘটনায় তখন সারা বিশ্ব সোচ্চার হয়ে ওঠে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় শিকাগোর শ্রমিকদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই।

শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন: প্রধানমন্ত্রী

শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন, বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশের ও প্রবাসের শ্রমিকদের অবদানকে দেশের সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া ওই বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশের ও প্রবাসে কর্মরত সব শ্রমিককে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির প্রধান অবলম্বন। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো এবং শক্তিশালী অর্থনীতি। এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত’। শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার, বলেও জানান তিনি।

১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শ্রমনীতি ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, তার সময়েই শ্রমিক কল্যাণে নানা সংস্কার এবং বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয়, যা আজ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শ্রম আইন সংস্কার, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন কনভেনশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষ সমান মজুরি এবং সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

৩৭ হাজার কোটির ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করল বিমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
৩৭ হাজার কোটির ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করল বিমান

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একসঙ্গে এতগুলো প্লেন কেনার চুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এসময় বিমানের পক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন বিমানের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছে। নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এসব বিমান প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা দেবে।

বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনা নিয়ে চুক্তি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চুক্তির পরবর্তী ধাপই এই চুক্তি।

চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতে অন্যতম বৃহৎ ক্রয়চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনাও আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবর মাসে সরবরাহ করা হতে পারে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশি টাকায় এই চুক্তির মূল্যায়ন প্রায় ৩৭ হাজার কোটি।

অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও বক্তব্য রাখেন। তারা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে এ চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, এটি শুধু বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়বে।