খুঁজুন
, ,

বাজেট ‘অন্তঃসারশূন্য-কল্পনাপ্রসূত’ বললেন ফখরুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 12 June, 2020, 9:55 pm
বাজেট ‘অন্তঃসারশূন্য-কল্পনাপ্রসূত’ বললেন ফখরুল

করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই উল্লেখ করে একে ‘অন্তঃসারশূন্য-কল্পনাপ্রসূত’ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুক্রবার বিকালে উত্তরার বাসা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনা কাটিয়ে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বাজেটে নেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রত্যাশিত অর্থ বরাদ্ধ করা হয়নি।আমরা ভেবেছিলাম, জীবন ও জীবিকাকে কেন্দ্র করে এই বাজেটটা প্রণয়ন হবে, সেটা তো হয়নি।

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যত পথ পরিক্রমা’ শিরোনামে এই বাজেট প্রকৃত অর্থে একটি অন্তঃসারশূন্য কল্পনাপ্রসূত কথার ফুলঝুড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বাজেট জনবান্ধব হয়নি।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী গতকাল একটা অবাস্তবায়নযোগ বাজেট ঘোষণা করেছেন। এটা জাতিকে হতাশ করেছে।এই মুহুর্তে যেটা প্রয়োজন জাতির জন্যে, মানুষের জন্যে, মানুষগুলো বেঁচে থাকার জন্যে, উত্তরণ ঘটানোর জন্যে-কোনটাই এই বাজেটে আসেনি। এখানে যেটা এসেছে আমরা বলেছি তাদের যে চিন্তাটা কমিশন পাওয়া এটা এখানে (বাজেট) এসেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল-ইন্টারনেট সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি না করে ‘বর্তমান ব্যয়’ বহাল রাখার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণকে ‘অসম্ভব’ এবং আয়-ব্যয়ের গ্রহনযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, সরকার বলছে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস ২০২০ শিরোনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে চলতি বছর প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে এবং ২০২০-২১ সালে হবে মাত্র ১ শতাংশ। সেখানে অর্থমন্ত্রী জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেন,আমদানি, রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ইত্যাদি মাইক্রো ইকোনমিক ইন্ডিকেটরগুলো আলোচনা করলেই স্পষ্ট যে, ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন নিতান্তই কল্পনাপ্রসূত। এটা করতে গেলে বিনিয়োগ দরকার ৩২-৩৪ শতাংশ যা কঠিন ও অসম্ভব।”

জিডিপি ও রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা ‘প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। বাজেটে কালো টাকা সাদা করতে সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করে অর্থনীতির সাবেক এই শিক্ষক বলেন, গত এক দশককালের অধিকাল ব্যাপী সরকার দলীয় যে সকল ব্যক্তি নজিরবিহীন দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে তাদের টাকা সাদা করার জন্য সরকার এবার কালো টাকা সাদা করার স্কোপ বৃদ্ধি করেছে। আমরা এহেন অনৈতিক, দুর্নীতি সহায়ক, বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহন করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা বিদেশে পাঁচার হয়ে যাওয়া লক্ষাধিক কোটি টাকার যে খতিয়ান দেশি-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তা দেশে ফিরিয়ে আনার কার্য্কর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

স্বাস্থ্যখাতে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় বরাদ্ধ কম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে যে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে এটা একেবারেই ঠিক হয়নি, এই খাতে আরো অনেক বেশি বরাদ্ধ দেয়া উচিত ছিলো। এটা শুধু আমরা বলছি না, যারা বিশেষজ্ঞ চিকিতসক আছেন তারাও এই কথাটা বলছেন। আপনি দেখুন সারাদেশে আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্স নাই, জেলাগুলোতে কোনো আইসিইউ খুঁজে পাবেন না। ঢাকা শহরের মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলো আছে যেগুলো আপনার কোবিড-১৯ চিকিতসার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানেও কিন্তু পর্যাপ্ত আইসিইউ নেই। মানুষ অক্সিজেন অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য হাহাকার করছে।

তিনি আরও বলেন, আপনি স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা দেখছেন- কিভাবে এই খাত ভেঙে পড়েছে, ভঙ্গুর হয়ে গেছে। মানুষ কোথাও কোনো রকম চিকিতসা পাচ্ছে না। দেখুন বলা যেতে পারে যে, আল্লাহর ওপরে সব ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যাচ্ছে ঠেলা গাড়িতে করে রোগী নিয়ে যায়, ভর্তি হতে পারে না, সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে বাসায় আসছে। এই যে সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত, তাদের অহংকার, তাদের দাম্ভিকতা এবং তারা নিজেরাই সব কিছু করতে পারবে এই যে একটা ধারণা, এই ধারনাই বাংলাদেশকে এ্ই অবস্থায় ফেলেছে।

সরকারের রাজস্বের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে ফখরুল বলেন, রিভিউ আর্নিং- টাকাটা আসবে কোত্থেকে? সরকার যেভাবে বলছে যে, সে টাকা তো আসবে না। ৫০% এর অধিক রেভিনিউ হতে হবে যে বাজেট দেয়া হয়েছে। ওইটা বলে তো লাভ নেই, এটা অবাস্তব হবে। আর টাকা কোত্থেকে আনবেন? সেজন্য আমরা বলছি যে, মেগা প্রজেক্টগুলোতে শুধু দুর্নীতি হচ্ছে সেগুলোতে বরাদ্ধ কমিয়ে দিয়ে অথবা বিলম্ব করে অনায়াসে নিতে পারতেন জরুরী খাতগুলোতে।রূপপুর আনবিক প্রকল্প, এটাতে কী বরাদ্ধ দেয়া এসেনশিয়াল হয়ে পেড়েছে? এমনিতেই বিদ্যুত উদ্ধৃত্ত হয়ে আছে বলে আপনারা(সরকার) বলছেন। তাহলে রুপপুর আনবিক প্রকল্পে এখন বরাদ্ধের দরকার কী?….।

তিনি বলেন, আমরা যেসব কথা এখন বলছি এটা শুধু আমাদের কথা নয়, যারা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আছেন এবং যারা বিভিন্ন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তারা সবাই কিন্তু এক বাক্যে এই কথাটা বলছেন যে- এই বাজেটটা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য একেবারেই উপযোগী নয়।

তিনি বলেন, আসলে এখন আপদকালীন বাজেট করা উচিত ছিলো। সামনে তো ভয়ংকর অবস্থা আসবে। মাইক্রো ইকোনমিক্সের অবস্থা কি হবে সেটা যারা ভুক্তভোগী তারাই বলতে পারবেন অর্থাত সমগ্র দেশের মানুষ সেটা বলতে পারবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার এটা উপলব্ধি করতে পারেনি। তারা সেই চিরায়ত গতানুগতিক লক্ষ্য তো একটা- কি করে সেখান থেকে কিছু টাকা পয়সা বানানো যায়-সরি টু সে দেট। দেট হেজ বিন ডান ইন দিস কান্ট্রি।এটাই করা হচ্ছে।

শিক্ষাখাত, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বার্থরক্ষা, বেকারত্ম দুরীকরণ, কৃষিখাত, কুটির শিল্পখাত, পল্লী উন্নয়নখাতে বাজেটে যে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা ‘অপ্রতুল’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব। পানি সম্পদ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা খাতে বরাদ্ধ হ্রাস, করোনা পরিস্থিতিতে প্রবাসী ও পোষাক শিল্পখাতের বিষয়ে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা থাকার সমালোচনাও করেন বিএনপি মহাসচিব।

বাজেটে ব্যাংকি খাতসহ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের কোনো সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবও নেই উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, বরং শীর্ষ ঋণ পরিশোধে আরো সময় বৃদ্ধি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। যা ব্যাংকিং খাতকে আরো সংকটের দিকে ঠেলে দেবে, আর্থিক শৃঙ্খলা আরো ভেঙে পড়বে।

বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট (এডিপি) বরাদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, উন্নয়ন খাতে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। করোনা সংকট মোকাবিলায় মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এই উন্নয়ন খাত থেকে এক লাখ কোটি টাকা করোনা সংকট মোকাবিলায় দেয়া তো। কারণ উন্নয়ন খাতে শুধু লুটপাট হয়।

করোনা মহামারীর মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব খাত থেকে যোগান দেওয়ার কঠিন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তারপরও তার আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৬ শতাংশের মত।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 7:24 pm
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

গত ১৯ জুলাই রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্মারক নং-৪৫.০০.০০০০.০০০.১৬০.০৬.০০০৭.২৬(অংশ-১).৭৫৮ মূলে সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিরও সহ-সভাপতি।

মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় চট্টগ্রামবাসী অনেক খুশী।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নবাগত সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি’কে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-৯ আসন মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সুনজর দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হয়েছে। শূন্যপদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগের পর হাসপাতালে আগত রোগী সাধারণ ইনডোর ও আউটডোরে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রায় সকল ধরণের ওষুধ হাসপাতাল থেকেই পাচ্ছে। রোগী সাধারণ তাদের অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বল্পমূল্যে করাতে পারছে। জেনারেল হাসপাতাল একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে পরিণত হচ্ছে।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নবাগত সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি’র নেতৃত্বে এ হাসপাতালের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে এবং রোগীরা তাদের কাক্সিক্ষত সেবা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ একরাম হোসেন।

জালালাবাদ তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শনে মুহাম্মদ শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 7:03 pm
জালালাবাদ তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শনে মুহাম্মদ শাহেদ

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী লিংক রোডে অবস্থিত জালালাবাদ তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসায় ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ১০ টায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনে ৩০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট চড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম ও আবাসিক ঘরটি সর্ম্পূন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

২২ জুলাই (বুধবার) সকাল ১১ টায় পুড়ে যাওয়া মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বায়েজিদ বোস্তামী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হারুন, ৪৪ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব জাফর আহমদ খোকন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, যুবদলের সাবেক সহ তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাবুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগস্ত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ২ দিনের খাবার ও ছাত্রদের প্রয়োজনীয় পোশাক এবং শিক্ষা সামগ্রীর দায়িত্ব নেন। মাদ্রাসা কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায় মাদ্রাসা আগুন লাগার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম তদন্তে কাজ করছেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা গণ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 1:52 pm
ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা

চাঁদপুরের ইলিশের সুনামকে পুঁজি করে অনলাইনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পেজ খুলে চাঁদপুরের আসল ইলিশ সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রতারকরা কৌশল বদলে অব্যাহত রেখেছে এ প্রতারণা।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৯ অক্টোবর চাঁদপুরে থেকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রি করতে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদপুর জেলার ইলিশের নাম করে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন চাঁদপুর এ ধরণের প্রতারণা রোধে ৭ ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়। ইলিশের অনলাইন ব্যবসার জন্যে আগ্রহী প্রার্থীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে যোগ্যতা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরম এ আবেদন করতে হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর মাছ ঘাটের কিছু ব্যবসায়ী অনলাইনে ইলিশ বিক্রয় করছেন। তারা সবাই ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে ইলিশ বিক্রয় করেন।

ইলিশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদপুরের বৈধ কিছু অনলাইন ইলিশ বিক্রেতার লোগো, পুরনো ভিডিও যুক্ত করে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা করেই যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। তাদের ফাঁদ থেকে বাদ পড়ছেন না চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। প্রশাসন কঠোর হলেও এসব প্রতারক ধরা ছোয়ায় বাইরে থাকছে। তবে প্রতারণা থেকে মুক্তির জন্য চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের ভুক্তভোগী হিম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ নামে একটি পেজের বিজ্ঞাপন আমার নজরে আসে। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে আমি ইলিশ মাছ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ মাছের অর্ডার দেই। তখন তারা আমাকে জানায়, অর্ডার নিশ্চিত করতে হলে আগে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তারা যে বিকাশ ও নগদ নম্বর দেয়, সেখানে আমি মোট ১১ হাজার টাকা পাঠাই। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও তারা কোনো মাছ পাঠায়নি। এরপর আমি বারবার যোগাযোগ করে মাছ কিংবা টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা ধরনের অজুহাত দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা জানায়, আমার নামে নাকি একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেটি চালু করতে হলে আরও টাকা পাঠাতে হবে। অ্যাকাউন্ট চালু হলেই আগের ১১ হাজার টাকাসহ সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেয়। কিন্তু তখন আমি বুঝতে পারি, এটি একটি প্রতারণার ফাঁদ। এরপরও তারা বিভিন্নভাবে আরও টাকা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমি শুধু একাই নই, আমার মতো আরও অনেক মানুষ অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এভাবে হাতিয়ে নেওয়া খুবই নিন্দনীয়। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমার হারানো টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

শরীয়তপুর সদরের তুলাসার এলাকার বাসিন্দা মিন্টু মাদবর বলেন, চাঁদপুরের ইলিশের স্বাদ নিতে অনলাইনে রুপালি ইলিশের সেরা চাঁদপুর পেইজের নামে একটি ফেসবুক পেজের সঙ্গে গত পরশু যোগাযোগ করি। প্রতারক চক্রকে ১১ হাজার টাকা দেই। কিন্তু চক্রটি ইলিশ আমাকে দেয় নাই।

নিবন্ধনকৃত অনলাইন ইলিশ ব্যবসায়ী খোকন পাটওয়ারী বলেন, আমরা অনলাইনে ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে ইলিশ বিক্রি করি। আমাদের এখানে অনলাইনে নিবন্ধনকৃত ৭টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত। একটা শ্রেণির প্রতারক চক্র অনলাইনে দেখায়, মাছের দাম অনেক কমে গেছে। তারা মানুষের কাছ থেকে মাছের টাকা নেয়। কিন্তু মাছ দেয় না। আমি অনুরোধ করব আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।

চাঁদপুর মাছঘাটের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক নুরুল আমিন বলেন, অভিনব কায়দায় ভুয়া পেজ ব্যবহার করে ইলিশ বিক্রির প্রতারণা করছে প্রতারকরা। এসব প্রতারণা করছে দেশের অন্য জেলায় বসে এক শ্রেণির প্রতারক। তাই আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত আলী বলেন, দেশে বিদেশ থেকে কেউ ক্যাশ অন ডেলিভারি ছাড়া ইলিশ ক্রয় করবেন না। টাকা দেওয়ার আগে অন্তত খোঁজ-খবর নিয়ে মাছ ক্রয় করবেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, আমরা অনলাইনে বিক্রির প্রতারণা রোধে ৭ ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়। আমরা জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। জেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইডেও ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে। কেউ যদি ইলিশ বিক্রিতে প্রতারণা করে তাহলে আপনার নিকটতম থানায় যোগাযোগ করুন।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তালিকা বহির্ভূত অন্যান্য অনলাইন পেজ থেকে সংশ্লিষ্টদের ইলিশ ক্রয়ের বিষয়ে প্রতারণা হতে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ প্রতারিত হলে আপনার নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।