খুঁজুন
, ,

বন্ধ হয়ে যাবে সীতাকুণ্ডের ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল,হাজারো শ্রমিকের মাঝে চরম অসন্তুষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2020, 12:11 am
বন্ধ হয়ে যাবে সীতাকুণ্ডের ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল,হাজারো শ্রমিকের মাঝে চরম অসন্তুষ

কামরুল ইসলাম দুলু :বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন দেশের ২৫ টি পাটকল বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সেক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে পুনরায় চালু করা হবে পাটকলগুলো এমনটিই জানিয়েছে বিজেএমসি এ। ক্রমাগত লোকসানের বোঝা থেকে মুক্ত হতে এ পরিকল্পনা করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে সরকারী এমন সিদ্ধান্তের পর সীতাকুণ্ডের ৫ টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক-কর্মমচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তুষ।

একদিকে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে চলছে চরম দূর্ভোগ আরেকদিকে মিল বন্ধের ফলে বেকার হয়ে যাবে ৫ জুট মিলের কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। সীতাকুণ্ডের ৫ টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর মধ্যে গালফ্রা হাবিব লিমিটেডে কর্মকর্তা-কর্মচারী-৬৮জন, শ্রমিক- ২৬৮জন। গুল আহম্মদ জুট মিলে শ্রমিক-কর্মচারী- ১০১জন, শ্রমিক-১৩৯৭জন। হাফিজ জুট মিলস এ কর্মকর্তা-কর্মচারী- ১১১জন, শ্রমিক-২০৯২জন। এম.এম জুট ‍মিলে কর্মকর্তা-কর্মচারী- ৪৩জন, শ্রমিক ১৫৬ জন এবং আর.আর জুট মিলে কর্মকর্তা-কর্মচারী- ৫৫জন, শ্রমিক- ৪৭৪জন। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে শ্রমিকদের চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছে।

 

একদিকে মহামারী করোনাভাইরাস অন্যদিকে অজানা আতঙ্ক এসব দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পাটকল শ্রমিকরা। এদিকে কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সাথে সকল পাটকলের শ্রমিক নেতাদের বৈঠক সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা এবং হাফিজজুট মিলস সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর হক। তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী পহেলা জুলাই দরখাস্ত লাগানো হবে ৬০ দিনের। এর মধ্যে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে তিন চেকে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ আগামী আগষ্টের প্রথম সাপ্তাহ থেকে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকল বন্ধ হয়ে যাবে। এব্যাপারে হাফিজ জুট মিলস শ্রমিক ফেডারেশন সাধারন সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, সরকারের মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত আমরা মন থেকে মেনে নিতে পারছিনা। এই পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলছিল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে একজন করে চাকরী দিবে অথচ আজ তার উল্টো করছে। সরকার যে বলেছে পিপিপর মাধ্যমে মিলগুলো চালাবে একথা আমরা বিশ্বাস করিনা।

তিনি বলেন, জুটমিলগুলো বন্ধ না করে বরং কিভাবে চালালে লাভ হবে সেই চেষ্টা করা উচিত সরকারের। শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক বলেন, মিল বন্ধের ফলে দেশে প্রায় এককোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। একদিকে করোনা ভাইরাসের মহামারী অন্যদিকে মিল বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত আত্নঘাতি। সরকার লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বসিয়ে বসিয়ে যদি খাওয়াতে পারে আমরা শ্রমিকরা কাজ করে কেন খেতে পারবো না। আমরা কি রোহিঙ্গাদের থেকেও খারাপ হয়ে গেছি ?

আমাদের সকল দেনা-পাওনা মিল বন্ধ হওয়ার আগেই বুঝিয়ে দিক সরকার। শ্রমিক নেতা আবু তাহের বলেন, এই সরকার এতদিন বলে আসছে শ্রমিক বান্ধব সরকার। তার নির্বাচনের আগে বলেছিল নতুন নতুন কারখানা গড়ে তুলবে, ঘরে ঘরে চাকরী দেবে অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ করে দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে বেকার করে দিচ্ছে। কার ষড়যন্ত্রে দেশের সোনালী আঁশ পাট কলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিৎ মিলগুলো বন্ধ না করে দূর্নিতী বন্ধ করে যেভাবে মিলগুলোকে লাভবান করা যায় সেই ব্যবস্থা করা। এদিকে উপজেলার ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে স্রমিক অসন্তুষ দেখা দেওয়ায় ব্যাপাক নিরাপাত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোন ধরণের অনাকান্খিত ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এব্যাপারে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, যাতে আইনশৃংখলার অবনতি না ঘটে তারজন্যে আমরা প্রস্তুুতি গ্রহণ করেছি। ৫ টি মিলে নিরাপাত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরাও চাই সরকার এবং শ্রমিকদের মধ্যে সুন্দর একটা সমঝোতা হোক, এবং কোন ধরণের যাতে বিশৃংখলা না ঘটে।

২৪ঘণ্টা/আর

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।