এমনও কি প্রেম হয়! করোনায় কি সব শেষ হবে?
সজিব আহমেদ (২৬) সুন্দর সুদর্শন যুবক নারায়নগঞ্জের বাসিন্দা। সজিবের সাথে তানিয়া নামের তরুনীর পরিচয় হয় ২০১৪ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে।
পরিচয় থেকে বন্ধু পরে প্রেম ভালোবাসা। প্রেমের সম্পর্ক দুই বছর গড়ানোর পর সজিবের কিডনি জনিত রোগ ধরা পড়ে। ডায়ালসিস করার পরও দেড় বছরের মধ্যে দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে যায়।
দেখতে ভাল সচ্ছল পরিবারের তানিয়া প্রেমিকের কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে জেনেও তাকে ছেড়ে যায়নি। ডায়ালসিস থেকে শুরু করে সব সময় সাথে থাকার চেষ্টা করেছেন।
দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডাক্তাররা জানায় কিডনি ট্রান্সপ্যাল্ট না করলে বাঁচবেন না সজিব।
প্রথম এ তার মা এবং বাবা কিডনি দিতে চাইলেও কারো সাথে তার ম্যাচ করে নি তাই তারা কেউ কিডনী দিতে পারে নি,
আর মা নিজেই অসুস্থ হয়ে যায় তাই দিতে পারবে না, তখন সে মানুষিক ভাবে অনেক ভেঙে পরে।
এসব জেনে একদিন তানিয়া জানায়, যে আমি তোমাকে কিডনি দিব, তুমি বেঁচে থাকলে আমি বাঁচবো, তুমি মরে গেলে আমিও মরে যাবো, তোমাকে ছাড়া আমার কল্পনার আকাশ আলোবিহীন হয়ে পড়বে, আলোবিহীন জীবন আমি চাই না, আমি তোমাকেই কিডনী দিবো এটাই চূূূড়ান্ত সিদ্বান্ত।
কিন্তু বিষয় টা প্রথমে সে বিশ্বাস না করলেও তার সকল বন্ধু, আত্বীয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটের কোন স্যার বিশ্বাস করে নি। সে তানিয়াকে অনেক বিশ্বাস করতো ভালোবাসার বিশ্বাস আর সেই বিশ্বাস এ সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও সে প্রায় এক লাখ পঞ্চান্ন (১,৫৫,০০০) টাকার টেস্ট করায় এবং দুইজনের কিডনির সব কিছু মিলেও যায়।
এরপর সবাই কে বিষয়টি জানিয়ে অপারেশন এর এক সপ্তাহ আগে সে তানিয়াকে বিয়ে করে এবং ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সফলভাবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়।
সজিব তানিয়াকে বিয়ে না করলে হয়তো বুঝতো না যে পৃথিবীতে এমন ভালো মানুষ আছে যার উছিলায় নতুন জীবন পেয়েছেন।
কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে সজিবের মোট খরচ হয় প্রায় বত্রিশ লাখ (৩২,০০,০০০) টাকা। পরবর্তীতে ঔষধ বাবদ মাসিক আরো পঁয়ত্রিশ (৩৫,০০০) হাচার টাকা লাগতো।
বর্তমানে কমে খরচ কমে প্রায় তেইশ হাজার পাঁশ (২৩,৫০০) টাকার ঔষধ লাগে যা করোনাভাইরাসের জন্য বেড়ে হয়ে গেছে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা।
বর্তমানে স্ত্রী গর্ভবতী, তার টেনশনে অনেক অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে সজিব। গত ৭ দিন যাবত সে বিছানায় শুয়ে আছে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে গেছে ওজন কমে যাচ্ছে।
বন্ধুরা সজিব-তানিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তারা বলেন, তোমাদের জন্য নিরন্তর দোয়া ও ভালোবাসা রইলো। “ভালোবাসা বেচে থাকুক চিরজীবন”।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন