খুঁজুন
রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফৌজদারহাটে গৃহকর্তাকে খুন করে লাশ মাটিচাপা: দুইদিন পর উদ্ধার, আটক ১

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ফৌজদারহাটে গৃহকর্তাকে খুন করে লাশ মাটিচাপা: দুইদিন পর উদ্ধার, আটক ১

কামরুল ইসলাম দুলু : গৃহকর্তাকে খুন করে মাটি চাপা দেওয়ার দুইদিন পর মাটি খুড়ে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের শ্রমিক নেতা মছিউদৌলার বাড়ির লাল মিয়ার ভাড়া বাসায়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১ টার দিকে গৃহকর্তা নুর উদ্দিন (৪৫) কে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পাশের রুমে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলে রুমেন মিয়া (৩০) নামের এক যুবক।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত নুর উদ্দিন ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন, গত এক বছর আগে রুমেন নামের এক যুবককে তার ঘরে এনে আশ্রয় দেয়। রুমেন পেশায় একজন ব্যাটারী চালিত রিক্সা চালক, নুর উদ্দিন তার স্ত্রীকে সৎ ভাই হিসেবে পরিচয় করে দেয়। রুমেন প্রায় এক বছর ধরে নুর উদ্দিনের ঘরে থেকে রিক্সা চালাতো। খাওয়া ও থাকা নিয়ে সে মাসে মাসে নুর উদ্দিনকে খরচ দিতো। তবে রমজানের পর থেকে রুমেন নুর উদ্দিনকে খরচ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এনিয়ে মাঝে মাঝে দুই জনের মধ্যে তর্ক-বির্তক হতো বলে জানান নুর উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নিয়ে আমার স্বামীর সাথে রুমেনের ঝাগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার স্বামী রুমেনকে মারার জন্য উদ্ধ্যান্ত হয়। এসময় একজন আরেকজনকে খুন করবে বলেও হুমকি দেয়। তারা দুইজন এক রুমে ঘুমাতো আমি আরেক রুমে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঘুমাতাম। ঘটনার দিন রাতে দুইজনই ঘুমাতে যায়। রাত ১ টার দিকে পাশের রুম থেকে শব্দ আসায় আমি গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে ঘুমের মধ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে খুন করছে। ঐ সময়ে আমি রুমেনের দুই পা জড়িয়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাই। এসময় সে আমাকে এবং আমার দুই ছেলে মেয়েকেও খুন করবে বলে হুমকি দেয়। এবং বলে যে মুখ না খোলার জন্য। যদি ঘটনাটি কাউকে বলি তাহলে আমাদেরকেও খুন করবে। রাতে সে পাশের মুরগী রাখার ঘরে গর্ত করে মাটিতে লাশ পুঁতে ফেলে।

এরপর সে শুক্রবার ও শনিবার সারাদিন স্বাভাবিকভাবে রিকসা চালায়। আমি বিষয়টি আর সহ্য করতে না পেরে শনিবার রাতে আমি আমাদের ভাড়া ঘরের জমিদারকে জানিয়ে দিই।

এর পর বাড়ির কয়েকজন মিলে রুমেনকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাকিম আরজুকে জানালে তিনি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান, চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আজিজ উক্ত বিষয়টি মডেল থানাকে অবহিত করলে প্রথমে ফৌজদার হাট ফাঁড়ির এসআই নুর নবী ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এরপর সহকারী পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শম্পা রানী, মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা এবং ওসি (তদন্ত) সুমন বনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় আটক খুনি রুমেনের স্বীকারোক্তিতে মাঠিতে পুঁতে ফেলা লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি এবং মাটি খোড়ার বেলচা উদ্ধার করে।

নিহত নুর উদ্দিন উপজেলার কেশবপুরের নুরুল হকের পুত্র। খুনি রুমেন মিয়া হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার পাইকপাড়া গ্রামের রমজান আলীর পুত্র।

এব্যাপারে মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বনিক বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক আসামী রুমেন মিয়ার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ঘরের ভিতর থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আশার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং আনন্দবাজারের তথ্য অনুসারে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন আশা ভোঁসলে। এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তারপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রোববার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা।

১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা। তার বাবার নাম পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর। ভারতের আরেক কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার আপন বড় বোন।

দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত মঞ্চ ব্যক্তিত্ব ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিল্পী। শিশু বয়সে বাবার কাছেই প্রথম সঙ্গীতে তালিম নেন আশা মঙ্গেশকর। তারপর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সচিব গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যান এবং বিয়ের পর ‘মঙ্গেশকর’ পদবী বাদ দিয়ে স্বামীর ‘ভোঁসলে’ পদবি গ্রহণ করেন। তবে গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার কারণে মঙ্গেশকর পরিবার তাকে ত্যাগ করে।

এই দম্পতির তিন সন্তান ছিল, তবে তবে তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সমস্যাসঙ্কুল। ১৯৬০ তালে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে গণপতি-আশা দম্পতির। তার ২০ বছর পর ১৯৮০ সালে ভারতের বিখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণের ছেলে রাহুল দেব বর্মণ, যিনি নিজেও বলিউডের বিখ্যাত ও প্রতিষ্ঠিত সুরকার-গায়ক ছিলেন— তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আশা।

দীর্ঘ কয়েক দশকের কেরিয়ারে হিন্দি, বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কয়েক হাজার গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে—প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।

বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের অকালমৃত্যু এবং তার জেরে অভব-অনটনের কারণে পরিবারের হাল ধরতে বোন লতার মতো খুব অল্প বয়সে গান গেয়ে উপার্জনের পথে নামতে হয়েছিল আশাকে। ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজে বাল’-এ গান গেয়েছিলেন তিনি। তার পরবর্তী আট দশকে বাংলা, হিন্দি, মারাঠিসহ ২০টি ভারতীয় ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসব গাণের বড় অংশই প্লেব্যাক বা সিনেমার গান।

ভারতীয় সঙ্গীতে অবদান ও কৃতিত্বের জন্য সুদীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন তিনি।

শনিবার আশা ভোঁসলে হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় মোদি বলেছিলেন, “আশা ভোসলেজি হাসপাতালে ভর্তি শুনে গভীর ভাবে চিন্তিত। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে দ্বন্দ্ব চলছে, তা এক বৈঠকেই শেষ হয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটা কেউই-ই আশা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই।

ইসলমাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল আআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসমাইল। সাক্ষৎেকারে বাকাই বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের করা উচিত ছিল না এবং শুধু আমরাই নই— কেউই এমনটা আশা করেনি। তবে আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব দেওয়ার পর আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাচ্ছেন তারা।

বক্তব্যের শুরুতেই জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানকে ‘অসাধারণ স্বাগতিক’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার এই ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার কোনো ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়; বরং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি চুক্তিতে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।

টানা ২১ ঘণ্টার এই আলোচনাকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট একে ইরানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি ক্ষতির। আমরা আমাদের সীমারেখা (রেড লাইন) এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া সম্ভব, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী তারা অত্যন্ত নমনীয় ও সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে। আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো অগ্রগতি করা সম্ভব হয়নি।

নিউক্লিয়ার বা পারমাণবিক ইস্যুটিকে এই আলোচনার মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে এই মর্মে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায় যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এছাড়া দ্রুত অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম এমন কোনো প্রযুক্তি বা সরঞ্জামও তারা অর্জন করতে পারবে না।

ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ইরানের আগের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের মধ্যে সেই সদিচ্ছা আছে কি না? আমরা এখন পর্যন্ত সেই সদিচ্ছার প্রমাণ পাইনি। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না আসায় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি এখন ওয়াশিংটনের পথে রওনা দিচ্ছে।