খুঁজুন
, ,

বিপ্লব উদ্যান পরিদর্শন ও গণশুনানী: চুক্তির শর্ত লংঘন,সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পার্কের দোকান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 25 August, 2020, 5:22 pm
বিপ্লব উদ্যান পরিদর্শন ও গণশুনানী: চুক্তির শর্ত লংঘন,সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পার্কের দোকান

চট্টগ্রাম নগরীর বিপ্লব উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে নির্মিত দোকানের বর্ধিত অংশ ভেঙ্গে ফেলা হবে একইসাথে চুক্তি লঙ্ঘিত হওয়ায় এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধের নির্দেশ দিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

আজ অপরাহ্নে নগরীর ২ নম্বর গেটস্থ বিপ্লব উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন ও গণশুনানীকালে প্রশাসক এই নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে প্রশাসক প্রত্যক্ষ করেন যে, চুক্তিতে ১৫০বর্গফুটের দোকান করার কথা থাকলেও প্রতিটি দোকান ২শ বর্গফুটে বর্ধিত করা হয়েছে। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা সংকুচিত করে দোকানের সিট বসানো হয়েছে। এছাড়াও চুক্তির শর্ত লংঘন করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে দোকান বসানো হয়েছে-যা চসিকের সাথে সম্পুর্ণরূপে চুক্তির বরখেলাপ করা হয়।

এসব অনিয়ম ও অসঙ্গতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চুক্তির বাইরে গিয়ে কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক চিন্তা ভাবনায় এই কাজ করতে দেয়া যায় না। এতদবিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও চসিকের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। উভয় পক্ষ যতক্ষণ সিদ্ধান্তে উপণীত হতে না পারবেন ততদিন এই অবৈধ দোকান বন্ধ থাকবে। অন্যথায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, চসিকের সকল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শুধুমাত্র নগরবাসীর স্বার্থে।চসিকের সৌন্দর্যবর্ধন ও নগরায়নে জনগণের স্বার্থরক্ষা প্রথমে করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থে কোন কিছু করার সুযোগ নেই। কেউ যদি নগরবাসীর স্বার্থের বিপরীত কর্ম সম্পাদনে লিপ্ত হয় তাদের আজকের এই কর্মসূচী থেকে সাবধান হওয়া উচিত।

এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রকৌশলী আলী আশরাফ, প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য রিফর্ম লি. ও স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্ট এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিপ্লব উদ্যান সৌন্দর্যবর্ধন কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেব কাজ করছেন।

বাইরে থেকে চসিক পরিবহনের জ্বালানী ক্রয় মূল্য আগের তুলনায় বেশি নয়- সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চসিক পরিবহনের জ্বালানী ব্যবহারে অনিয়ম, অপচয় ও চুরি ঠেকাতে একটি নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিজস্ব জ্বালানী সরবরাহ স্টেশনের বাইরে থেকে জ্বালানী ক্রয় করা হচ্ছে। তবে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সাময়িক।

কেন বর্ধিত দামে জ্বালানী ক্রয় হচ্ছে- এ সম্পর্কে কোন কোন গণমাধ্যমে প্রশ্ন তোলায় তিনি ব্যাখ্যা প্রদান করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জ্বালানী স্টেশন থেকে পরিবহন চালকদের প্রয়োজনাতিরিক্ত তেল তুলে বাইরে বিক্রি করে দেয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে। সচরাচর দেখা গেছে, কোন পরিবহন ১০ কিলোমিটার চললেও ক্ষেত্র বিশেষে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলাচলের জন্য তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি যে সমস্ত পরিবহন অচল ও মেরামতের অপেক্ষায় সেগুলোর জন্যও তেল উত্তোলন করা হতো।

বিষয়টি গোচরীভূত হওয়ায় তা সুরাহা করতে এক সপ্তাহের জন্য বাইরে থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করতে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে লিটার প্রতি তিন টাকা বেশি দামে বাইরে থেকে জ্বালানী কেনা হলেও তা আগের দামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কারণ আগের দামের সাথে যে উৎস কর যুক্ত ছিলো তা বর্তমানে বাইরে থেকে কেনা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বিধায় বাড়তি দরে কেনার বিষয়টি সাধারণত ধারণা প্রসূত এবং কিছুতেই বর্ধিত ব্যয় নয়। এ ব্যাপারে আর কোন ব্যাখ্যা প্রদানের অবকাশ নেই বলে মনে করি।

ওয়ার্ড সচিব ও জন্ম নিবন্ধন সহকারীদের সাথে মতবিনিময়কালে সুজন
নির্বাচিত পরিষদ হলেও সেবাদাানে স্থবিরতা থাকবে না
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, মেয়াদউর্ত্তীণ হওয়া নির্বাচিত পরিষদ বিলুপ্ত হবার পর যে দায়িত্ব কাউন্সিলর পালন করতেন সে ক্ষেত্রে কোন ধরনের স্থবিরতা থাকবেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসক হিসেবে যে অন্তবর্তীকালীন দায়িত্ব প্রদান করেছেন তা পালনে ওয়ার্ড সচিবরা আমার সহায়ক শক্তি। তাদের মাধ্যমেই নগরবাসীর সাথে আমার যোগাযোগ সমন্বয় ঘটবে। নগরবাসী ট্যাক্স দিয়েই বেতন-ভাতা প্রদান ও নগর উন্নয়ন করতে হয়। তাই নগরবাসীর সেবাদান করা একটি পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তিনি আজ সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক নগর ভবনে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে ওয়ার্ড সচিব ও জন্ম নিবন্ধনকারীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় একথাগুলো বলেন।

তিনি ওয়ার্ড সচিবদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন বিভিন্ন সনদপত্র প্রদানসহ নাগরিকদের সেবাদান কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে আমার প্রতিনিধি হিসেবে দেয়া হবে। নিজেদের অভিজ্ঞতা ও এলাকার গণ্যমান্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে ওয়ার্ড সচিবদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এই ক’দিনের অভিজ্ঞতায় দেখতে পেলাম পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মরত-অনেক সেবক কাজ না করেও হাজিরা দেন। এ ব্যাপারে ওয়ার্ড সচিবদের দৃষ্টি দিতে হবে। ওয়ার্ডের সমস্যা কোথায় কী, কোথায় জনদুর্ভোগ হচ্ছে, কোথায় সড়ক বাতি নেই তার খোঁজ নিতে হবে এবং চসিক সচিব মহোদয়কে এসব জানাতে হবে। তিনি সুরাহা করতে আমার শরাপন্ন হবেন।

তিনি ওয়ার্ড সচিবদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, চারিত্র্যিক সনদ ও অন্যান্য সনদ প্রদানের জন্য কোন টাকা নেয়ার বিধান নেই। জন্মনিবন্ধন সনদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি’র বেশি নেয়া যাবে না। ঠেকায় ফেলে কারো উপর জুলুম করাও যাবে না।

তিনি জানান, ওয়ার্ড সচিবদের চসিক সদর দপ্তরের যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা তৈরী করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন যোগাযোগ করতে হলে বাজেট প্রয়োজন। আগে কাউন্সিলরদের খাতে মাসে চার হাজার টাকা করে দেয়া হতো। নির্বাচিত পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ায় ঐ টাকা সচিবদের দেয়ার যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হবে। তিনি ওয়ার্ড সচিবদের সমস্যাগুলো লিখিত আকারে চসিক সচিব মহোদয়ের কাছে জমা দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, করোনাকালে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষনীয় বিষয়গুলো আত্নস্থ করে সেবা পরিধি বিস্তৃত করতে হবে। প্রশাসক ওয়ার্ড সচিবদের নির্দ্দিষ্ট অফিসকার্যের বাইরে গিয়ে সচেতন নাগরিক হিসেবে স্ব স্ব ওয়ার্ডের হালচিত্র খোঁজ খবর রাখা ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, একজন ওয়ার্ড সচিব হিসেবে তাঁর ওয়ার্ডে কি কি সমস্যা আছে বিশেষ করে রাস্তার ফুটপাত সমূহ দখলমুক্ত আছে কিনা তার তথ্য রাখতে হবে।

হকারদের শৃংখলায় আনায়নে ইতোমধ্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডে মাইকিং প্রচার করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, হকারদের নির্দ্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা করা, জায়গা মার্কিং করণ, নির্দ্দিষ্ট ব্যাচ ও ইউনিফরম, রাস্তার একপাশে ব্যবসা পরিচালনাসহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে চসিক। যা আগামী ৪ সেপ্টেম্বর হতে কার্যকর করা হবে। এক্ষোত্রে প্রথমে স্টেশন রোড ও আগ্রাবাদ এলাকা দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

মতবিনিময় সভায় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, উপসচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত’র মৃত্যুতে চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের শোক
মুক্তিযুদ্ধের চার নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) বীর উত্তম আজ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর ওশাক দু:খ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

আজ প্রদত্ত এক শোক বার্তায় প্রশাসক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মেজর জেনারেল চিত্ত রঞ্জন দত্ত বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। চিত্ত রঞ্জন দত্ত ছিলেন বাংলাদেশ রাইফেলসের প্রথম ডিরেক্টর জেনারেল। এছাড়া ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তাকে নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়া। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি হেড কোয়ার্টার চিফ অব লজিস্টিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়াারম্যানের দায়িত্ব নেন। ১৯৭৯ সালে বি আর টি সির চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮২ সালে তিনি পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

এছাড়া ঢাকার কাঁটাবন থেকে কারওরানবাজার সিগন্যাল পর্যন্ত সড়কটি ‘বীরউত্তম সি আর দত্ত’ সড়ক নামে নামকরণ করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন গুণী ব্যক্তিকে হারালাম।

প্রশাসক খোরশেদ আলম সজুন মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত’র আত্মার সদগতি কামনা করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপণ করেন।

শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর মাতার মৃত্যুতে চসিক প্রশাসকের শোক
চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এর মমতাময়ী মাতা ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না-লিল্লাহে ——-রাজেউন)।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। আজ এক শোক বার্তায় প্রশাসক মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপণ করেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 9:11 am
নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

এর মধ্যে গত দেড় বছরেই আয় হয়েছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা নিলাম রাজস্বে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য সরানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার খালি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় নিলামযোগ্য পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে এবং নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়।

২০২২ সালে ৪২টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে ২৩টি নিলামে ৬৩২টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আসে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামের মাধ্যমে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আয় হয়। ২০২৫ সালে ৬০টি নিলামে ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কে এম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম ব্যবস্থাপনা, পণ্যের তালিকা প্রস্তুত (ইনভেন্টরি) এবং নিলামকৃত পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কাজে তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যা এত স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী খালাস না হওয়া পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিলাম করা পণ্য বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।’

তিনি আরও জানান, নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য সরিয়ে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 8:34 am
ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ইতালিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিক হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এই ঘটনার বিবরণ দেন।

অভিনেত্রী জানান, ইতালির একটি স্থানীয় পার্কে তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল ব্যক্তি হুট করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কোল্ড ড্রিংকস (কোক) ও ডিম ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তা ছাড়া তার হাত থেকে মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়।

বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। বাঁধন দাবি করেন, আক্রমণকারীরা তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। পুরো সময় জুড়ে তার সঙ্গে অত্যন্ত গালমন্দ ও অসংগত আচরণ করা হয়।

ভিডিওবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, ‘‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন ও সহিংস আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। এভাবে উদ্দেশ্য হাসিল বা নিজেদের অবস্থান ফেরানো সম্ভব নয়।’’

ভিডিওটিতে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেও বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন। আশা করি আপনারা বিষয়টি তার কাছে পৌঁছে দেবেন।’’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল লোক নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করছে এবং বারবার তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 9:10 pm
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ এবং পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড়, আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড় এবং উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড়ের ঢালে কিছু দেওয়াল সদ্য নির্মিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিককে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতের সরেজমিন পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকেও পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড় পরিদর্শনকালে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ নাকি পাহাড়—তা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।