খুঁজুন
, ,

যশোর-খুলনা মহাসড়কের কাজ শেষ না হতেই বেহাল দশা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 29 August, 2020, 11:00 pm
যশোর-খুলনা মহাসড়কের কাজ শেষ না হতেই বেহাল দশা

নিলয় ধর,যশোর প্রতিনিধি : যশোর-খুলনা মহাসড়কের কাজ শেষ না হতেই ফুলে ফেঁপে বেহাল দশা হয়ে গেছে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ।

গত ৯/১০ মাস পূর্বে সড়কটির যশোর-খুলনার সীমান্তবর্তী অংশ হতে যশোরের পদ্মবিলা অংশের প্রায় ১৯ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ করে দেশের খ্যাতনামা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং পদ্মবিলা থেকে শুরু করে যশোরের পালবাড়ী মোড় পর্যন্ত আরও ১৯ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ করে মাহাবুব এ্যান্ড ব্রাদার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে চলতি বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই রাস্তার যশোর অভিমুখের বাম পার্শ্ব যানবাহন চলাচলের কারণে বসে যায়। ঘটতে থাকে দুর্ঘটনা। এই অবস্থায় তড়িঘড়ি করে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল সচল রাখতে বিভিন্ন অংশে মেশিন দ্বারা ফুলে ফেপে থাকা অংশগুলো কেটে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে রিপেয়ারিং করতে দেখা গেছে। তবে চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই যশোর থেকে শুরু করে নওয়াপাড়ার শেষ সীমানা পর্যন্ত রাস্তার বেশিরভাগ অংশ আবারও ফুলে ফেপে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত মহাসড়কটি নষ্ট হয়ে যেন পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ছে জনসাধারণের। যানবাহনগুলো ঝুকি নিয়ে নষ্ট হওয়া রাস্তার বিভিন্ন অংশ এড়িয়ে চলাচল করছে।

জানা গেছে, প্রায় ৩৪ কিলোমিটার এই সড়কটি নির্মাণ করতে প্রায় ৩ শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রাস্তাটি প্রায় ৩৪ ফুট চওড়া বাইন্ডার নির্মাণ করে রাস্তার দুই পার্শ্ব থেকে ৫ ফুট করে ১০ ফুট বাদ রেখে মাত্র ২৪ ফুট ওয়ারিং কোর্স করা হয়েছে। দুই লেনের এই মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ টন মালামাল নিয়ে শতশত ট্রাক, লোভেট, বাসসহ ৬ থেকে ৭ হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক দেশের স্বনামধারী প্রকৌশলী তুহিন বিন আজমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তাটি সেকেলে ডিজাইনে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টন ক্যাপাসিটির যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক নির্মাণের যে টেন্ডার তারা পেয়েছিলেন মহাসড়কের সম্পূর্ণ সড়কের কাজটি তারা সেই ডিজাইনেই সম্পন্ন করেছে।

তাহলে সড়কের এমন দূরাবস্থা হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এই মহাসড়কে নওয়াপাড়া বন্দর ও খুলনা বন্দর থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও সওজের জরিপে সেটা ছিলো হাজার থেকে ১২ শত যানবহন চলাচলের জরিপ। তাছাড়া, অনেক পুরাতন ডিজাইনে রাস্তার বাইন্ডার ও ওয়ারিং কোর্সের কাজ করার কার্যাদেশ ছিলো। এছাড়াও তিনি বিটুমিনের গ্রেড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, পাথরের সংগে বিটুমিনের গ্রেড যে পরিমাপে দেয়ার কথা আমরা সেটা সম্পূর্ণ রূপে সম্পন্ন করেছি। কিন্তু বিটুমিনের কাজ করার সময় সারাদেশের সাথে যশোর-খুলনার প্রাকৃতিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করতে থাকে। ওই অবস্থায় মহাসড়কের ডিজাইনের সাথে প্রকৃতির তাপমাত্রা খাপ খায়নি। ফলে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারনে রাস্তার বিভিন্ন অংশে যানবাহন চলাচলের কারনে পাথর ও বিটুমিন আলাদা হয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছে বলেই আমাদের ধারণা।

তিনি আরও বলেন, সওজ বিভাগের থেকে ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিশেষজ্ঞ এনে সিডিউল ও ডিজাইন অনুযায়ী মহামড়ক নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে হয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষা করার পর বিশেষজ্ঞদের অভিমতে বেরিয়ে এসেছে যে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি যে ডিজাইনে সম্পন্ন হওয়া উচিৎ সেটি হয়নি।

তিনি বলেন, কোম্পানীর সুনাম ধরে রাখার স্বার্থে আমরা যথাসাধ্য সতর্কতার সাথে সড়ক নির্মাণের কাজ করেছি। কিন্তু তাতে কোন ভালো ফল আসছেনা। মহাসড়কের এই বেহাল দশা কিভাবে হলো এবং তা যানবাহন চলাচলের উপযোগি ও দীর্ঘস্থায়ী কিভাবে হবে এ প্রশ্ন রেখে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবিকৃত ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের কথার সাথে অনেকাংশেই একমত পোষণ করেছেন।

তিনি জানান, খুলনা-যশোর মহাসড়কটি অত্যান্ত জনবহুল, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল এবং ট্রাক ও লোভেড গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে চলাচল করার কারনে সড়কটি অতিদ্রুত বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করলেও বিটুমিনের কাজের সাথে প্রকৃতির তাপমাত্রার অনেকটা হেরফের হওয়ার কারণে এবং বিটুমিনের গ্রেড সঠিক না থাকায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, আমরা বুয়েট, কুয়েটসহ আমাদের সওজ’র বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে রাস্তার বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ভুল-ত্রুটি পরীলক্ষিত হয়েছে। সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন অংশে ফুলে-ফেঁপে ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সওজ’এর প্রধান কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন। সড়কের দুই পাশে ৫ ফুট করে ১০ ফুট বাইন্ডার ছেড়ে মাত্র ২৪ ফুট ওয়ারিং কোর্স করার কারনে এবং খুলনা ও নওয়াপাড়া থেকে যশোর অভিমুখে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কটির ১টি পার্শ্ব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, খুলনা-যশোর মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছে যাতে করে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে যানবাহন চলাচল না করতে পারে। সেজন্য প্রয়োজনে প্রতিটি গাড়ির ক্যাপাসিটি রাখতে তারা ওজন মাপযন্ত্র অর্থাৎ সরকারি স্কেল বসানোর চিন্তা ভাবনা করছেন। এছাড়াও সড়কটিকে স্থায়িত্ব দিতে ডিজাইনের পরিবর্তন এনে রাস্তার সম্পূর্ণ অংশটি ৬০ থেকে ৭০ মেট্টিক টন পন্য বোঝাই যানবাহন চলাচল উপযোগি করে ৩৪ ফুট সড়কটি সম্পূর্ণ অংশ বাইন্ডার দ্বারা নির্মাণ করার পরিকল্পনা সওজ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই দিকে রাস্তাটির অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জনসাধারণের অভিমতে বেরিয়ে এসেছে বিভিন্ন মন্তব্য। নওয়াপাড়ার জনৈক ব্যবসায়ী অভিমত ব্যক্ত করেন শতশত কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করলেও পূণঃরায় সড়কটি পূর্বের মতো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন সরকারের শতশত কোটি টাকা পানিতে ভেসে গেছে। আর জনসাধারণের যে দূর্ভোগ সেই দূর্ভোগই রয়ে গেছে। অথচ জন দূর্ভোগ দেখার কেউ নেই। তিনি আরও বলেছেন সড়কটির দুই পাশের বড় বড় গাছ কেটে ফেলার কারনে মহাসড়কটি পূর্বের থেকে বর্তমানে আরও বেশি দূর্বল হয়ে গেছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 10:55 am
কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে ‘কে’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো অফসাইডের কারণে ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল বাতিল হয়।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও যখন গোল আসছিল না, ঠিক তখনই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন সতীর্থ উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গুয়াদালাহারার গ্যালারি।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে লুইস দিয়াজের আরও একটি দর্শনীয় গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। এরপর আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’ এর টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে কলম্বিয়া এবং তাদের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করা কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রইল। আর দুই নম্বরে আছে পর্তুগাল। তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে তলানিতে অবস্থান উজবেকিস্তানের।

মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:31 am
মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

হারলেই বিদায় নিতে হবে, এমন সমীকরণ সামনে রেখে টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া ও পানামা। ২০১৮ সালের পর প্রথম ও বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পানামা বেশ কয়েকবার ক্রোটদের চ্যালেঞ্জ জানায়। শেষ পর্যন্ত বদলি নামা আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোল গড়ে দেয় পার্থক্য। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে ‘এল’ গ্রুপ থেকে নকআউটের লড়াইয়ে টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া। আর টানা দুটি ম্যাচ হেরে বিদায় নিলো পানামা। ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়া লুকা মদ্রিচের ছিল এটি দুইশতম ম্যাচ। চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে দিনের আগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করা ঘানার বিপক্ষে শনিবার খেলবে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি জিতলে শীর্ষ দুই নিশ্চিত করবে তারা। পানামাকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া আপাতত গ্রুপ ‘এল’-এর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তারা ইংল্যান্ড ও ঘানার চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের শেষ দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে দারুণ লড়াই করা পানামা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। ম্যাচে পানামা আটটি শট তৈরি করেছিল যার মধ্যে একটি ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া দুটি অন-টার্গেট শটসহ মোট ছয়টি শট নিয়েছিল।

প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির নয় মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে লিড নেয়। স্তানিসিৎসের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো ক্রসটি ব্যাক পোস্টে আলতো টোকা দিয়ে জালে জড়ান বুদিমির। এর কয়েক মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল। পাসালিচের ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নেওয়া শটটি মস্কেরা রুখে দেন। অরল্যান্ডো সিটির এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফিরতি শটটি বারের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে মারেন।

পানামাও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ক্রোট কিপার লিভাকোভিচ অত্যন্ত সতর্ক থেকে গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন। পরপর মুরিলোর আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি হার্ভির কাছ থেকে নেওয়া ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার বারের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি। ৮০তম মিনিটে সমতা ফেরানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার হার্ভি, কিন্তু কর্নার থেকে আসা বলে তার নেওয়া শটটি জালের বাইরের পাশে আঘাত করে।

শুরু থেকে আক্রমণে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিশিচের ক্রসে মদ্রিচ হেড নিলেও বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। অষ্টম মিনিটে কার্লোস হার্ভের দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে পানামা। তবে ইয়োয়েল বার্সেনাসের ক্রস নিরাপদে ক্লিয়ার করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ।

প্রথমার্ধে লিভাকোভিচ না ঠেকালে লিড নিতো পানামাই। ২২ মিনিটে অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেসের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে এগিয়ে গিয়ে শট নেন মুরিলো। তবে সহজেই বল ধরে ফেলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পরের মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে পানামার সামনে। ডান দিক থেকে মুরিলোর নিখুঁত ক্রসে হেড করেন হোসে লুইস রদ্রিগেজ। তবে লিভাকোভিচ দুর্দান্ত সেভ করে বল ক্রসবারে লাগিয়ে বিপদমুক্ত করেন। সেই সুযোগ থেকে এগিয়ে যেতে না পারা পানামা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখলেও জয় পায়নি। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হারের পর জয়ে ফিরে নকআউটে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:06 am
ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্বে রেকর্ড ১৩৭ গোল হওয়ার পরের ম্যাচেই গোলখরার ঘটনা ঘটল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলে এই রেকর্ড হয়েছিল। তবে বোস্টনে ইংল্যান্ড ও ঘানার পরের ম্যাচটি শেষ হলো গোলশূন্য ড্রতে। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দুই দলই তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের জন্য একটি হতাশাজনক সন্ধ্যা কাটল, যার শেষ হলো এক পয়েন্ট পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ঘানা রক্ষণভাগের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাদের কাজ বেশ ভালোভাবে শেষ করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে তারা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের শেষের দিকে এসে খেলার গতি বাড়িয়েছিল। তাদের হয়তো মনে হতে পারে যে আর পাঁচ-ছয় মিনিট সময় পেলে তারা জয়সূচক গোলের দেখা পেতে পারতো।

ম্যাচের এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সাকার একটি জোরালো শট গোলরক্ষক আসারে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ও’রেইলির হেড বারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে কেইনের নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। গেহির একটি হেডার গোললাইনের ঠিক নিচ থেকে ক্লিয়ার করা হয়।

টমাস টুখেল ও থ্রি লায়ন ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন ম্যাচ। তবে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ড এখনো ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষেই রয়েছে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে তারা শীর্ষস্থান ধরে রেখেই পরের রাউন্ডে যাবে। পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ঘানাও তাদের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে টিকে আছে।

ঘানার চমৎকার রক্ষণভাগের কারণে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় প্রথমার্ধের বিরতিতে ইংল্যান্ডকে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি, চলতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। ৮০ শতাংশ বল ইংল্যান্ডের দখলে ছিল, এমনকি প্রতিপক্ষের অর্ধে তারা ৬টি শট নিলেও তা লক্ষ্য বরাবর ছিল না। সব মিলিয়ে ১৯ শটের মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে, যার সবগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের মতো প্রথম অর্ধে ব্ল্যাক স্টাররাও বেশ রক্ষণাত্মক খেলেছে। চারজনের দুটি লাইনের মাঝে থমাস পার্টেকে রেখে তারা ডিফেন্স সামলেছে। যদিও রাইসের দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।

মাদুয়েকের ক্রস থেকে হেডে বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাইস। পরে হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। তবুও তারা ঘানার গোলরক্ষককে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এমনকি তারা ঘানার এই সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করে ভেতরেও ঢুকতে পারেনি।

প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের হতাশা মাঠে ক্ষোভ হিসেবে প্রকাশ পায়। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করার সময় ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তাদের আলাদা করা হয়।

ম্যাচ শেষে বেশ কিছু অবাঞ্ছিত রেকর্ড ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে। বিশ্বকাপে এনিয়ে ২৩ ম্যাচ ড্র করল তারা, যার মধ্যে ১৩টি গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যে কোনো দলের জন্য দুটোই সর্বোচ্চ।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখল পজেশন ছিল ৭৮.৮ শতাংশ; বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এটিই তাদের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড। একই সাথে ফুটবলে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া যেকোনো দলের মধ্যেও এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের নজির।

এছাড়া বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে গেহির করা ১২৬টি সফল পাস এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পাস। পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে; বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো ডিফেন্ডার একটি ম্যাচে এত বেশি ফ্রি-কিক আদায় করতে পারেননি।