খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: এসআই জাহিদসহ ৩ পুলিশের যাবজ্জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৩:২০ অপরাহ্ণ
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: এসআই জাহিদসহ ৩ পুলিশের যাবজ্জীবন

পুলিশ হেফাজতে জনি নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ছয় বছর পর আজ বুধবার মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ে পল্লবী থানার তৎকালীন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এই তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে বাদীপক্ষকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। দেশের ইতিহাসে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় এটিই প্রথম রায়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন-পল্লবী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু। সাত বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-সোর্স সুমন ও রাশেদ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় সাদেকের ছেলের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় জনি ও তার ভাই সুমনকে চলে যেতে বলেন। সুমন চলে গেলেও পরদিন এসে আবার আগের মতো আচরণ করতে থাকেন। তখন জনি ও তার ভাই তাকে চলে যেতে বললে সুমন পু্লিশকে ফোন করে তাদের ধরে নিয়ে যান। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন ধাওয়া দিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে।

পরে থানায় নিয়ে জনিকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে জনির অবস্থা খারাপ হলে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-পল্লবী থানার সাবেক এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এসআই আবদুল বাতেন, এসআই রাশেদ, এসআই শোভন কুমার সাহা, কনস্টেবল নজরুল, সোর্স সুমন ও রাসেল।

২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং পাঁচজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকালে পুলিশের এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, সোর্স সুমন ও রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

গলা টিপে ধরে বলল তুই আসামি, কথা বলবি না : ক্রিকেটার নাঈম হাসান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
গলা টিপে ধরে বলল তুই আসামি, কথা বলবি না : ক্রিকেটার নাঈম হাসান

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। প্রিমিয়ার লিগ খেলে ঢাকা থেকে নিজ শহর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। যাত্রাপথে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে উঠানো ও মারধরের ওই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নাঈম।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ঘটনা ঘটে। ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ, তাকে ডিবি পরিচয়ে চেক করা হয়। একপর্যায়ে সাদা পোশাকে থাকা একজন ও দুই পুলিশ সদস্য তাকে মারধর শুরু করে। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরেও সেই হেনস্তা থেকে রেহাই পাননি বলে জানিয়েছেন নাঈম।

চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর নাঈম বর্তমানে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় রয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি স্পিনার বলেন, ‘আমার প্রিমিয়ার লিগে খেলা চলছিল, আমার ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আসতেছিলাম, ১১টা ২৫ এর দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে আমার সিএনজি দাঁড় করাল, ড্রাইভারের থেকে কাগজপত্র নিলো। আমি পুলিশকে বললাম, ‘আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে”।’

কান্নারত নাঈম বলেন, ‘আমাকে গলা চিপে ধরে বললো– “তুই গাড়িতে উঠ”। এই বলে আমাকে গাড়িতে তুলল। আমি “আপনি আমার গলা টিপে ধরছেন কেন” বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। এরপর ওরা গলা টিপে ধরেই আমাকে মেরেছে এবং হেনস্থা করেছে। পুলিশ ছিল দুজন, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা মানুষ ছিল। ও কোনো পরিচয় দেয়নি, মারতেছিল পাইপ দিয়ে। পরে ১০০-২০০ মানুষ ছিল সেখানে, তারা আমার পরিচয় দিয়েছে, তবুও আমাকে মারতেছিল। বলতেছিল “তুমি আসামি, কথা বলবি না”। আমি আইডি কার্ড দেখিয়েছি, তাও ওরা আমাকে মারছিল।’

পরে নাঈমকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি, ‘গাড়িতে থাকতেই ওসির সঙ্গে কথা বলছে, উনি থানায় নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আমাকে ব্যাগসহ এখানে এনে বলা হয় “স্যার (ওসিকে) নিয়ে আসছি।” আজ পর্যন্ত পুলিশ, আর্মি আমাদেরকে ডাকলে নামি, উনারা চেক করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্সটা মারছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মারছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নাই। আজকে আমাকে মারছে, আরেকদিন অন্য কাউকে মারলে তার জন্য কেউ আসবে?’

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের পর এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় নাঈমকে, ‘মোবাইল হাতে পাওয়ার সাথে সাথে তামিম ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। উনি এরপর ওসির সঙ্গে কথা বলছেন, আব্বুর সাথে কথা বলছিলেন। এটার বিচার হবে আশ্বস্ত করেছেন।’

জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের দাবি– ‘পুলিশের গাড়ি তো ছিল সেখানে। গাড়িতে না তুলে সিএনজিতে করে আমাকে কই নিয়ে যাইতো?.. আমার জায়গায় যদি সাধারণ মানুষ হইতো আপনারা কেউ আসতেন না, একশ-দেড়শ মানুষ কোশ্চেন করতো না। পুলিশের হাতে যদি মানুষ সেইফ না থাকে তাহলে আর লাভ কী!’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো.আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘উনি (নাঈম হাসান) ন্যায় বিচার পাবেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, আমরা এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কারণ এটার সঙ্গে পুলিশের ইমেজ জড়িত। আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে কাজ করতেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই টলারেট করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য আছে। যেটা আপনারা শুনেছেন, তথ্যের উৎসটাও জেনেছেন, এটি ভেরিফাই করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে উনারা (পুলিশ) গিয়েছেন এবং যাওয়ার প্রক্রিয়াটুকু যথাযথ নিয়ম অনুসারে হয়েছে কি না সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। পুলিশিং প্রক্রিয়ায় মারধর করার সুযোগ নাই।’

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামাতে সম্মত বিজিবি-বিএসএফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামাতে সম্মত বিজিবি-বিএসএফ

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা, হামলা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথ উদ্যোগ জোরদারে সম্মত হয়েছে।

ভারতের নয়াদিল্লিতে গত ৮ থেকে ১১ জুন বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এবং বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী প্রবীন কুমারের নেতৃত্বাধীন ১২ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় পরবর্তী সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে।

সম্মেলনে সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের গুলিতে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজিবি মহাপরিচালক। তিনি সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, প্রচলিত আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও যৌথ টহল বৃদ্ধি ছাড়াও নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর হত্যা বা হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দুই বাহিনী একমত হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক সম্প্রতি রোহিঙ্গা বা মিয়ানমার নাগরিকসহ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। বিজিবি প্রধান জানান, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হলে তাকে প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে, তবে অবৈধভাবে পুশ-ইন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বিএসএফ মহাপরিচালক এ ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাইকরণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান এবং দ্বিপাক্ষিক প্রটোকল মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।

আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বিএসএফের অননুমোদিত নির্মাণকাজ নিয়ে সম্মেলনে জোরালো আপত্তি তোলে বিজিবি। মহাপরিচালক জানান, ৩৯টি ক্ষেত্রে ভারত আন্তর্জাতিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নোট ভারবালের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ শুরুর আগে বাংলাদেশের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার, রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক আস্থা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রেখে এসব সমস্যা সমাধানে উভয় বাহিনী নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

জিততে না পারলেও ইতিহাস গড়ল কানাডা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
জিততে না পারলেও ইতিহাস গড়ল কানাডা

টরেন্টোতে হাজার হাজার স্বাগতিক দর্শকের উপস্থিতি আর বাঁধভাঙা উল্লাস। ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম নিজেদের মাটিতে বিশ্বমঞ্চের কোনো ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কানাডা। লক্ষ্য ছিল একটাই- ঐতিহাসিক এই ক্ষণটিকে জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখা। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় অবশ্য অধরাই রয়ে গেছে জেসি মার্শের শিষ্যদের।

তবে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেও এই একটি মাত্র ম্যাচ দিয়েই নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সফলতা ছুঁয়ে ফেলল কানাডিয়ানরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বমঞ্চে কানাডার ফুটবল ইতিহাস ছিল চরম হতাশা আর ব্যর্থতায় মোড়ানো। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে কোনো গোল না করেই ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছিল তারা।

এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফিরলেও ভাগ্য বদলায়নি। সেবার আলফোনসো ডেভিসের পা ধরে ইতিহাসের প্রথম গোল আসলেও বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর কাছে হেরে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারে কানাডা। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের আগে বিশ্বকাপে কানাডার অতীত খতিয়ান ছিল- ৬ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হার।

সেই দুঃস্বপ্নের ইতিহাস পেছনে ফেলে নিজেদের মাটিতে যখন কানাডা মাঠে নামল, তখন তাদের সামনে ছিল ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচের হেডে যখন প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কানাডা, তখন গ্যালারিতে আবারও হারের পুরনো ভূত তাড়া করছিল স্বাগতিকদের।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই দেখা গেল এক বদলে যাওয়া কানাডাকে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে পুরো টরন্টো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দারুণ এক কোনাকুনি শটে গোল শোধ করেন ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হলে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে কানাডা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতে হারা একটি দলের জন্য, নিজেদের মাটিতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও লড়াকু ড্রয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম পয়েন্ট তুলে নেওয়া ট্রফি জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর ঠিক এই কারণেই, জয় না পেলেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও স্মরণীয় রাতটি উদযাপন করল কানাডা।