খুঁজুন
, ,

হাটাহাজারীতে আল্লামা শফীর মরদেহ, জানাজায় জনতার ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2020, 11:54 am
হাটাহাজারীতে আল্লামা শফীর মরদেহ, জানাজায় জনতার ঢল

২৪ ঘণ্টা চট্টগ্রাম ডেস্ক : হেফাজতে ইসলামের আমির ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদরাসার দীর্ঘদিনের মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মরদেহ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় পৌঁছেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে লাশবাহী গাড়ী রওয়ানা দিয়ে সকাল ৯ টায় মাদরাসায় পৌঁছে।মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আল্লামা আহমদ শফীকে শেষবারের মতো দেখানোর ব্যবস্থা করেছে। মাদরাসার দারুল হাদিস ভবনের নিচতলায় রাখা হয়েছে আল্লামা শফীর মরদেহ।

সেখানে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে, শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ভিড় করছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। জোহরের নামাজের পর হাটাহাজারী মাদরাসা মাঠে আল্লামা শফীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজা শেষে আল্লামা শফীর অসিয়ত অনুযায়ী মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে কবর খননের কাজও শেষ হয়েছে। আল্লামা শফীর নামাজে জানাজার ইমামতি করবেন বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ।

এদিকে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নামাজে জানাজায় অংশ নিতে হাটহাজারীতে জনতার ঢল নেমেছে। রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার পরও পায়ে হেটে দুর দুরান্ত থেকে মানুষ হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় যাচ্ছেন। গতকাল রাত থেকেই মাদরাসায় আসতে শুরু করেছে আলেম-উলামা, ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ জনতা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ চট্টগ্রাম অভিমুখী রাস্তায় দেখা যায় জানাজাগামী গাড়ির স্রোত।

জানা যায়, আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দীর্ঘদিন এই মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। জানাজায় অংশ নিতে শোকার্ত মানুষের ভিড়।

কানায় কানায় পূর্ণ  হয়ে গেছে মাদরাসার ক্যাম্পাস, মাঠ, রাস্তা ও আশপাশের এলাকা। শুধু সাদা টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষ আর মানুষ। এখনই সামাল দেওয়া কষ্ট হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসায় উপস্থিত মোশাহিদ রহমান।

হাটাহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমীন জানান, আহমদ শফীর মৃতদেহ সকাল ৯টার দিকে হাটহাজারীতে পৌঁছেছে এবং দুপুরে জানাজা শেষে সেখানে দাফনের সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

হাটহাজারী বাসস্টেশন থেকে মাদরাসামুখি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী গেণ্ডারিয়াস্থ আসগার আলী হাসপাতালে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

তার ইন্তেকালের খবরে আলেম সমাজের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি হেফজাতে ইসলামের আমির ছাড়াও কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক ও কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/রাজীব

Feb2
Feb2

৭৯ হাজার শিক্ষার্থী পেল প্রাথমিক বৃত্তি, ট্যালেন্টপুল ৩২ হাজার ৯৬৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 2:59 pm
৭৯ হাজার শিক্ষার্থী পেল প্রাথমিক বৃত্তি, ট্যালেন্টপুল ৩২ হাজার ৯৬৫

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এ সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ)।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়।

অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একটি মেধার ভিত্তিতে) বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়।

তিনি জানান, এবারের পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।

পরীক্ষায় মোট উপস্থিত ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫.১১ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন (৬২.০১ শতাংশ) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন (৮৪.১৬ শতাংশ) পরীক্ষায় অংশ নেয়। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮ শতাংশ) এবং ছাত্রী ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০.৩২ শতাংশ)।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন।

বৃত্তির রেজাল্ট আপলোড শুরু, সময় লাগতে পারে ২-৩ ঘণ্টা

মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এরইমধ্যে ফল আপলোড করা শুরু হয়েছে। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ফল আপলোড সম্পন্ন হবে।

এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী রয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:57 am
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেবে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।

তিনি বলেন, আজ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাবে। এরপর থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করবে।

মো. সুবক্তগীন আরও বলেন, যে স্থানে রেললাইন পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল সেখানে ব্যালাস্ট ফেলে লাইন উঁচু করা হয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলে আর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম ও জানআলীহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন প্লাবিত হয়। রেললাইনের ওপর প্রায় দুই ফুট পানি জমে যাওয়ায় প্রথমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ট্রেনগুলোকে পেছনের স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পরদিন, ৮ জুলাই ভোরে রেলওয়ে জানায়, ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানির উচ্চতা না কমা পর্যন্ত কক্সবাজারমুখী ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে না। আটকে পড়া যাত্রীরা চাইলে চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে পারেন। আর যারা ঢাকায় ফিরতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের জন্য বিকেল ৪টায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

এরপর থেকেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পাঁচ দিন পর আজ আবার চালু হচ্ছে এ রুটের ট্রেন চলাচল।

চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:32 am
চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

দুই বছর আগেই স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশের দক্ষিণের জেলা ফেনী। ওই সময় সেখানকার বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এবার সেই কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো একযোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) থেকে বন্যাদুর্গত অঞ্চলে গিয়ে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তরুণরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনীর বন্যায় দেশবাসী সহায়তা করায় সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যার্তদের সহযোগিতায় জেলার প্রায় সব উপজেলায় পৃথক পৃথক ত্রাণ কর্মসূচি চলছে। স্বেচ্ছাসেবকরা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। বিভিন্ন টিমে ফেনী থেকে পাঠানো হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, ওষুধ ও পানিসহ বন্যার্তদের জন্য নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

রোববার (১২ জুলাই) ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারকে আর্থিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— তারুণ্যের বন্ধন, পরিবর্তন, এফবিডিএ, গ্রিন ফোকাস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, লাইফ ফর হিউম্যান ফেনী, মধুই ফাউন্ডেশন, পশ্চিম সুলাখালী যুব সমাজ কল্যাণ সংঘ (প্রত্যয় ব্লাড ডোনার ক্লাব), একতা সামাজিক সংগঠন, জি.ভা. সমাজকল্যাণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, যুবশক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (মুন্সীরহাট, ফুলগাজী), ইলামিত্র যুব মহিলা সমাজকল্যাণ সংস্থা, ফেনী, নেয়ামতপুর ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাব, রক্তকণিকা, আজগর, প্রত্যাশা ক্লাব (মুন্সীরহাট), আশার আলো ফাউন্ডেশন, রিভার ডেল্টা ডিএক্স ক্লাব ফেনী, উম্মাহ ব্লাড ডোনেশন ক্লাব, উচ্ছ্বাস (কেএমহাট, ফেনী সদর), হিউম্যানিটি ইজ লাইফ, এফডিএ, ফেনী ওয়েলফেয়ার ব্লাড ফাইটার্স, আমাদের সমাজ আমাদের পরিবার এবং পাঁচগাছিয়া ব্লাড ডোনেট ক্লাব ফেনীসহ অন্যান্য সংগঠন।

এছাড়া সাতবাড়িয়া মানবিক ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাব, ফেনী জেলা ছাত্র ফোরাম, জামেয়া, আমাদের ফেনী ব্লাড গ্রুপ, আল ইসার সোসাইটি, আল হুদা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, নাইনটিন স্কোয়াড, আমরা মোল্লা তাকিয়া পরিবার, ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনী, এইচডিএফবি ফাউন্ডেশন, দাগনভূঞা আল আমিন সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই এই মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন।

ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকার অন্তত তিন শতাধিক মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, মোমবাতি এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের প্রতিনিধি নিশাদ আদনান বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ফেনীর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মানবিক সহায়তা ও ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো ভুলতে পারি না। চট্টগ্রামের মানুষ দুর্যোগের মুখে পড়েছেন। সেই দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

আরেক প্রতিনিধি খন্দকার সুমন বলেন, আমরা শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, ম্যাচ, স্যালাইন এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেবেন। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমাদের মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ওমর সিফাত নামে আরেক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করলেই হবে না, সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার সবসময় মানুষের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এর আগে গতকাল শনিবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনীর উদ্যোগে এবং ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস ও এইচডিএফবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সংগঠনটির প্রতিনিধিরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সংগঠনটির প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য স্যালাইন, শুকনো খাবার, মোমবাতিসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী প্যাকেজিং করা হয়েছে। এসব ত্রাণসামগ্রী প্রায় ২৫০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।

একই দিন চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সেবায় ছাগলনাইয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করে। দলটি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্র সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যাদুর্গত প্রায় ২২০টি পরিবারের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এ কার্যক্রমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সহযোগিতা করেছে। প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবারসহ জরুরি কিছু জিনিস নিয়ে আমরা বন্যা কবলিত এলাকায় যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে তিনদিন পানিবন্দি থাকার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।