খুঁজুন
, ,

গাজীপুরে বন্যা করোনার প্রভাবে প্রান্তিক চাষীদের মাথায় হাত ॥ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করছে কৃষি বিভাগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2020, 11:45 pm
গাজীপুরে বন্যা করোনার প্রভাবে প্রান্তিক চাষীদের মাথায় হাত ॥ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করছে কৃষি বিভাগ

এমদাদুল হক, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরে একদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব অন্যদিকে বন্যা, এ দুটি বিপদসংকুল পরিবেশ কাটাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। তারা গত তিন মাসে যেসব ফসল ফলিয়েছেন তাতে লাভের মুখ তো দূরের কথা পুরোটাই ক্ষতি হয়েছে। লাখ লাখ টাকা ব্যায় করা ফসলি জমিতে ফসল নেই শুধু মাচা পড়ে আছে। নতুন করে ফসল ফলানোর চিন্তাও করতে পারছেন না তারা।

কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে বন্যা ও জলাবদ্ধতা। করোনা ভাইরাসের প্রভাব তো শেষই হচ্ছে না। কিন্ত কৃষকদের এ ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন এবং পরবর্তী ফসল কিভাবে রোপন করবেন তা নিয়ে শংকা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে, গত সপ্তাহ দু’য়েক যাবত বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলার মোহনায় ভেড়ামতলী গ্রাম। ওই গ্রামের কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, মৌসুমী ফসল ফলিয়ে তিনি করোনা ও বন্যার প্রভাবে ৭০ হাজার টাকা লোকসান গুণেছেন।

অপর চাষী সাদেকুর রহমান জানান, ১ একর ৭০ শতক জমিতে গেল বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চিচিঙ্গা, ধুন্দল, লাউ, পাট শাক ও কলা বাগান করেছিলেন। প্রতি ৩৫ শতক জমি ১০ হাজার টাকায় জোতদারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। ফসল ফলাতে তার খরচ হয়েছে আনুমানিক ৬লাখ টাকা। ওই টাকাও ঋণ করেছেন বিভিন্নজনের কাছ থেকে। কিন্তু এবারের ভারী বর্ষন ও বন্যার পানির কারণে তার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন।

৮০ শতক জমিতে ধুন্দল ও চিচিঙ্গা চাষ করেন সাদেরকুর রহমান। শুরুতে ফলন আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু যথাযথ মুল্য পাননি করোনা ভাইরাসের কারণে। ভাইরাসটির প্রভাবে নানা প্রতিবন্ধকতায় পাইকাররা এলাকার বাজারে আসতে পারেননি। যারা এসেছেন তারাও পণ্যের যথাযথ দাম দেননি। বাধ্য হয়ে উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম মুল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হয়েছে। এক সপ্তাহ বিক্রি করার পরই ভারী বর্ষন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জমি থেকে ফসল উঠাতে পারেননি। অন্যদিকে কোনো কোনো সময় ফসল উঠালেও সেসব পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে খরচ করে জমি থেকে আর ফসল উঠাননি।

এদিকে, লাউ শাক করেছিলেন প্রায় ৪০ শতক জমিতে। তিন ফুট পরিমাণ লাউয়ের ডগা বেড়ে উঠেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব ডুবে যাওয়ায় জমিতেই পঁচে গেছে। প্রায় ৭০ শতক জমিতে শবরী ও সাগর কলার জাত রোপণ করেছিলেন। শবরী কলা বাগানের ৪/৫টি গাছে কলার ছরি ঝুলে আছে। সেগুলো অপরিপক্ক অবস্থায় শুকিয়ে যাচ্ছে। কলা বাগানে ৪/৫ ফুট বন্যার পানি আটকে থাকায় গাছগুলো মারা গেছে। জমিতে শুধু লাউয়ের মাচা শোভা পচ্ছে। পানির মধ্যে বেড়ে উঠার সক্ষমতা থাকায় সাগর কলার ৩০/৩৫টি গাছ বেঁচে আছে। এগুলোর মধ্যে ফলনও ভাল হয়েছে। তবে কলা বাগান থেকে তার দেড় লাখ টাকা ক্ষতি হবে বলে জানান কৃষক সাদেকুর রহমান।

অপর কৃষক আজিম উদ্দিন বলেন, ঋণ ও জমি ভাড়া নিয়ে ৩৫ শতক জমিতে শবরী কলার বাগান করেছিলেন। পানিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতির মুখোমুখি তিনি। কলা চাষই তার সম্বল ছিল, তাই পরবর্তী ফসল ফলানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

পাশর্^বর্তী গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামের ফারুক সরকার জানান, স্থানীয় বিভিন্ন সমিতি থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২ একর জমিতে ধুন্দল, চিচিঙ্গা ও লাউ শাকের চাষ করেন। জমিগুলো প্রতি ৩৫ শতক চার হাজার টাকা করে ভাড়া নিয়ে মৌসুমী ফসল ফলান। ধুন্দল ও চিচিঙ্গার ফলন ভালো হলেও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পাইকারী বা খুচরা কোনো ধরণের ক্রেতা পাননি বাজারে বা এলাকায়। পরে এলাকার মানুষদের মাঝে ধুন্দল ও চিচিঙ্গা বিনামুল্যে বিলিয়ে দেন। পরপরই এক একর জমিতে লাউ চাষ করার পর বন্যার পানিতে সব তলিয়ে যায়। এখন ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন বা আবার কিভাবে নতুন করে ফসল ফলাবেন সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি জানান, মাত্র এক লাখ টাকা হলেই তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। কিন্তু এ অবস্থায় এলাকায় কেউ তাকে ঋণ দিতে চায় না। সরকারি কোনো সুযোগ থাকলে কেবল সে সুযোগের প্রত্যাশায় এখন দিন পার করছেন। আর কিভাবে বা কোথায় সরকারি ঋণ পাওয়া যাবে তার পরামর্শও কেউ দেয় না।

পাশর্^বর্তী কালিয়াকৈর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কুজরত উল্লাহর স্ত্রী রাহিমা খাতুন জানান, ৭০ শতক জমিতে পাট শাক, মিষ্টি আলু, লাল শঅক, পালং শাকসহ বিভিণ্ন জাতের ফসল আবাদ করেন। ধীরে ধীরে জমিতে পানি বাড়তে থাকে। আর চোখের সামনেই ফসলগুলো পানিতে তলিয়ে যায়্। পািিন ধীরে ধেির আসছিল আর এবার ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

একই গ্রামের জেলোয়ার সিকদারের স্ত্রী আছমা খাতুন জানান, ৮৫ শতক জমিতে পুঁইশাক, ধুন্দল, লাউ শঅক, কুমড়া, কচু রোপন করেছিলেন। বন্যার পানিতে সব তলিয়ে গেছে। লাভে মূলে সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের মতো মৌসুমী ফসলের কৃষক পরিবার সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। গাজীপুরে ১৯৯৮ সনের পর এরকম বন্যা দেখা দেয়নি। কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

চাষী মবিন সিকদার জানান, ৭০ শতক জমিতে লাউ, কুমড়া, বাঙ্গি, ধুন্দল রোপন করেছিলাম। কোনো ফসলই এখন চোখের সামনে নেই। সব পানিতে তলিয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠতে গিয়ে বন্যার পানির মুখোমুখি হয়ে সব হারিয়েছি।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম জানান, গাজীপুর জেলায় মৌসুমী শাক-সব্জী আবাদে জমির পরিমান ৭ হাজার ২’শ ৪২ হেক্টর। এবার বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে বেশিরভাগ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। তালিকা তৈরীর পাশাপাশি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৪’শ ৮টি কৃষি পরিবারের মধ্যে নতুন করে ফসল ফলাতে বীজ, সার, ঘেরা বেড়া ও সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে। সব্জী প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫’শ ৫০টি পরিবারে এবং মাসকেলাই দেয়া হচ্ছে ৬’শ পরিবারে। তবে এসব দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আওতায়।

তিনি জানান, কৃষকেরা প্রয়োজনবোধ করলে স্থানীয় ব্যাংকগুলো থেকে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ কৃষকদেরকে সহায়তা করবে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

নেই আইফোন, জঙ্গলে মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 3:11 pm
নেই আইফোন, জঙ্গলে মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ

মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজের একদিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহ উদ্ধার হলেও তার কাছে থাকা আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতিমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 2:50 pm
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান পর সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ এবং পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালের জুলাই থেকে শতভাগ বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে পেনশনভোগীরাও পর্যায়ক্রমে বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়

আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করে বেতন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৪০ শতাংশ নবম ও এর ওপরের গ্রেডে এবং ৫০ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৭০ শতাংশ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ৭৫ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দেওয়া হবে।

এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে পর্যায়ক্রমে বর্ধিত নিট পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব ২০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে নিট পেনশন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্ল্যাবের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বিদ্যমান নিট পেনশনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হবে।

আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৭০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্ল্যাবের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে।

আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নিট পেনশন শতভাগ কার্যকর হবে। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও গত ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

এ ছাড়া গত ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি শেষে অবসরে গেলে তার ‘গ্রস ও নিট পেনশন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬’ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 9:34 am
হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না : শফিকুর রহমান

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত লং মার্চ সফলতায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। মাথা গরমের কিছু লক্ষণ গত দুইদিন ধরে রাজধানীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লং মার্চ কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের দ্বিতীয় দফার লং মার্চ। প্রথম দফা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর মেহেরবানীতে সফলভাবে এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। মাথা গরমের কিছু লক্ষণ গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরঞ্চ জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। আজকে আট দফা, মনে রাখবেন, এটা নয় দফা হতে পারে, ১০ দফা হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটা এক দফায় পরিণত হতে পারে।’

এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এক দফায় যখন পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। আমরা বলি, সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন।’

দাবি না মানলে কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যদি দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রে কোনো কাজ হবে না। আমরা কোনো কিছুকেই পরোয়া করব না। কারণ আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি।’

১১ দলের সঙ্গে দেশের ১৮ কোটি মানুষ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আজকে ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’

জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণকে কথা দিচ্ছি, এ লড়াই শুরু হয়েছে। দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’