খুঁজুন
, ,

গণপরিবহণে ইভটিজিং হলে সরাসরি আমার মুঠোফোনে জানান : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2020, 9:04 pm
গণপরিবহণে ইভটিজিং হলে সরাসরি আমার মুঠোফোনে জানান : সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বর্তমান সরকারের একের পর এক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নতি লাভ করেছে। দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে যে কোন পন্য-সামগ্রী সহজে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে স্থানান্তর করা যায়। নগরায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে শহরে যন্ত্র চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবহন খরচ তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এরই মধ্যে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বেশ কিছু প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান।

তিনি আজ বিকেলে সিইপিজেড শাহেনশাহ টাওয়ার চত্বরে বিআরটিসি এসি/ননএসি স্পেশাল সিটি বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর অনেকদিনের আকাংখা ও প্রত্যাশা ছিল কাটগড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুর। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে উপলব্ধি করে গণপরিবহণের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে কিছুদিন পূর্বে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রেরণ করি। একই সাথে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আলাপ করে বিষয়টি তুলে ধরলে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আমার আহবানে সাড়া দিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে নগরীর গণপরিবহণের স্বল্পতা দূরীকরণে ১৮ টি ডাবল ডেকার ও ৪টি এসি বাস প্রদান করেন। এজন্য আমি মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। আজকের এইদিনে যেন আমারই চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণতা পেয়েছে। তেমনি আমি আশা করি নগরবাসীও এর সুফল ভোগ করবেন।

প্রশাসক বলেন, বিআরটিসির বাস একটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এর সঠিক সেবা প্রাপ্তি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এই অধিকার প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করুন। এজন্য তিনি প্রত্যেক বাসে বিআরটিসি’র সেবা নাম্বার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর নাম্বার সংযোজনের জন্য নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক বাসে একটি করে অভিযোগ বাক্স রাখতে হবে যাত্রীগণ যে কোন অভিযোগ এই বাক্সে ড্রপ করতে পারবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু কিছু জায়গায় গণপরিবহণে মহিলাদের শ্লীলতাহানী ও ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটছে। যা অত্যন্ত দু:খজনক ও সামাজিক অবক্ষয়ের সামিল। তাই বাসে যাতে কোন নারী ইভটিজিং এর শিকার না হয় সেজন্য প্রত্যেক যাত্রীসাধারনকে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে একজন নারী কোন না কোন ভাবে আমাদের আমানত। প্রশাসক এহেন কোন সমস্যা বা বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য সরাসরি তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত যাত্রীসাধারণ প্রশাসক বরাবরে সরাসরি অভিযোগ জানান যে, বিআরটিসি’র বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবার পূর্বে মাঝ পথে যাত্রীদের নামিয়ে দেন এবং সিট ক্যাপাসিটির বাইরে যাত্রী পরিবহন করে থাকেন।

এসময় প্রশাসক ছাফ জানিয়ে দেন মাঝ পথে যাত্রী নামানো যাবে না এবং সিট ক্যাপাসিটির বাইরে যাত্রীও পরিবহণ করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে বাস চালককে তাৎক্ষণিক বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হবে। এবিষয়ে উপস্থিত বিআরটিসি’র কর্মকর্তারাও একমত পোষন করেন।

প্রশাসক বলেন অতীত ও বর্তমানের পার্থক্য বিবেচনা করলে বাংলাদেশের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যে গতিতে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উন্নত-পরিবহন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হবে। তিনি যাত্রী সাধারণকেও রাষ্ট্রের সম্পত্তি এ বাসগুলোকে যত্নসহকারে ব্যবহার করার অনুরোধ জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিসি বন্দর পঙ্কজ বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। এছাড়া বিআরটিসির মাসুদ তালুকদার, মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন, সিইপিজেড থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল বড়ুয়া, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সুলতান নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, আবদুর রহমান মিয়া, আজাদ খান অভি, স্বপন সিংহ, মুনতাসির জামিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন এর জিওসি’র সাথে বৈঠক করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চসিক প্রশাসকের সাথে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন এর জিওসি’রসাথে বৈঠক
জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীকে
সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে-সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে মেগা প্রকল্প দিয়েছেন তা যেন সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হয়। সেজন্য মানুষের আস্থাশীল দেশ প্রেমিক সেনাবাহীনর উপর তিনি এ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আমি মনে করি দায়িত্বপ্রাপ্তরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের শতভাগ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাস্তবক্ষেত্রে কিছু কিছু সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। আমি মনে করি এ সমস্যা সমাধানে চসিকের লোকবল ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নগরীর সকল সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় পূর্বক এ কাজ সম্পাদন করা সম্ভব।

প্রশাসক বলেন, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরশনে এবং শৃংখলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। নগরীতে সৌন্দর্য বর্ধনে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কামনা করেন প্রশাসক।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী এযাবতকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে যে কর্মযজ্ঞ করেছে তার সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পেতে শুরু করেছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম নগরীতে যে উন্নয়ন কাজ করছে এতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে চসিক।

আজ সকালে বায়েজিদস্থ চট্টগ্রাম সেনানিবাস এর সদর দপ্তরে মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান ওএসপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি. জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার চট্টগ্রাম’র সাথে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।

এম.এ.মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

জননেতা এম.এ.মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র স্নেহধন্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বি.এল.এফ’র পূর্বাঞ্চলীয় জোনের উপ-অধিনায়ক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী জননেতা এম.এ.মান্নানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দামপাড়া মসজিদে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এম.এ মান্নানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোশেনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। পরে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কবর জেয়ারত ও মোনাজাত করেন।

এসময় এম.এ. মান্নানের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রশাসক বলেন, জননেতা এম.এ. মান্নান আদর্শ ও ত্যাগের প্রতীক। তিনি আজীবন সত্যের সন্ধানী ও পরোপকারী ছিলেন। চট্টল দরদী, কর্মবান্ধব-আপোষহীন, নির্লোভ এ মানুষটি ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য জননেতা। বাষট্টি’র শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এ দেশের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

তিনি চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতৃত্বে অন্যতম দিকনির্দেশনাকারী হিসেবে যে ভূমিকা পালন করে গেছেন তা সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সর্বোপরি স্বচ্ছ-পরিস্কার রাজনীতির ক্ষেত্রে এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে তিনি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সবার কাছে অনুকরণীয় ছিলেন। অন্যদিকে জহুর আহমদ চৌধুরী ও এম.এ আজিজ, এম. এ হান্নান এর পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তার পথ অনুসরণ করে দেশ সেবায় এগিয়ে এলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, শ্রমিক নেতা শফি বাঙালি, ১৫ নং বাগমনিরাম ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর মোঃ গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর, এম.এ. মান্নানের পুত্র ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক দিদারুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বাচ্চু,চসিক মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুন উর রশীদসহ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ নেতৃবৃন্দ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আলাদি জমাদার ওয়াকফ এস্টেট জামে মসজিদের হাফেজ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

পরিবহন ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চসিক প্রশাসকের সাথে পরিবহন ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
১৫ অক্টোবরের পর ট্রেড লাইসেন্স বিহীন
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীলগালা করা হবে-সুজন

ট্রেড লাইসেন্স বিহীন এ শহর ব্যবহার করে কেউ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না বলে হুশিয়ারী করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি বলেন, এই শহরে ব্যবসা করতে হলে সরকারি নিয়মানুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। অন্যথায় পরিকল্পিত নগরায়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

আজ দুপুরে চসিক প্রশাসক দপ্তরে পরিবহন ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশাসক এসব কথাগুলো বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, সমগ্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম ব্যবসার প্রাণ কেন্দ্র। এখানে যুগে যুগে বিদেশী বণিকেরা ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ও নদীমাতৃক বন্দরের কারণে চট্টগ্রাম ব্যবসার উর্বর ভূমি। কালবিবর্তণে এখানে ব্যবসার ধরন ও নিয়মনীতির পরিবর্তন হয়েছে। নগরীতে বেড়েছে জনসংখ্যা। তাই যুগ ও পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে শহরের অস্তিত্ব রক্ষায় আমাদেরকেও শহরের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনো লাইসেন্স করেননি এমন ব্যবসায়ীদের জন্য চসিকের পক্ষ থেকে সময় দেয়া হয়েছে।আগামী ১২ই অক্টোবরে মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন প্রশাসক। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে সার চার্জ মওকুফ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।অন্যথায় ১৫ অক্টোবরের পর ট্রেড লাইসেন্স বিহীন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে।

তিনি রাস্তায় বা রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ মালামাল লোড-আনলোড করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মধ্যে মালামাল লোড-আনলোড সারতে হবে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আমি রাতদিন পরিশ্রম করে সড়ক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তা ভালো থাকলে এর সুফল ব্যবসায়ীরাই ভোগ করবেন।

প্রশাসক অবৈধ রাস্তা দখলদারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দখলদার তুই রাস্তা ছাড়-রাস্তা কি তোর বাপ দাদার”এই স্লোগানকে সামনে রেখে নগরবাসীকে সুন্দর-সুশৃঙ্খল চট্টগ্রাম নগরী গড়ার কাজে অবদান রাখার আহবান জানান তিনি।

কথায় কথায় পরিবহন ব্যবসায়ীদের স্টাইক করা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ধর্মঘট দিয়ে আমাদের ভয় দেখাবেন না। জিম্মী করার দিন শেষ। রাস্তায় গাড়ি চালানোর বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের আছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, আপনারা এ শহরে বসবাস করেন এ শহর আপনাদের। এ শহরকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিনত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আপনাদের যা যা সমস্যা ও প্রয়োজন আছে আমাকে বললে আমি তা পাইরোটি বেসিসে করে দিব। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন আমিও আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মোহাম্মদ আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহেদা ফাতেমা, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রাক কভার্ডভ্যান ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের মহাসচিব মো. আবু মোজাফ্ফর, সহ সভাপতি এম কিবরিয়া দোভাষ,সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমদ, ডিসি রোড ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইসলাম ইভান বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. জামাল, মো. তৌহিদুল আলম, মুফিজুর রহমান টিপু, মুফিজুর রহমান মুন্না, মনিরুল ইসলাম, মো. খলিল, মো. এমরান, এস এহছানুল করিম, মো. ফাহিম হোসেন বাবু, মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. মিজানুর রহমান, মো. রাসেল প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 9:11 am
নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

এর মধ্যে গত দেড় বছরেই আয় হয়েছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা নিলাম রাজস্বে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য সরানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার খালি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় নিলামযোগ্য পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে এবং নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়।

২০২২ সালে ৪২টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে ২৩টি নিলামে ৬৩২টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আসে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামের মাধ্যমে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আয় হয়। ২০২৫ সালে ৬০টি নিলামে ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কে এম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম ব্যবস্থাপনা, পণ্যের তালিকা প্রস্তুত (ইনভেন্টরি) এবং নিলামকৃত পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কাজে তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যা এত স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী খালাস না হওয়া পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিলাম করা পণ্য বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।’

তিনি আরও জানান, নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য সরিয়ে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 8:34 am
ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ইতালিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিক হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এই ঘটনার বিবরণ দেন।

অভিনেত্রী জানান, ইতালির একটি স্থানীয় পার্কে তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল ব্যক্তি হুট করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কোল্ড ড্রিংকস (কোক) ও ডিম ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তা ছাড়া তার হাত থেকে মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়।

বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। বাঁধন দাবি করেন, আক্রমণকারীরা তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। পুরো সময় জুড়ে তার সঙ্গে অত্যন্ত গালমন্দ ও অসংগত আচরণ করা হয়।

ভিডিওবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, ‘‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন ও সহিংস আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। এভাবে উদ্দেশ্য হাসিল বা নিজেদের অবস্থান ফেরানো সম্ভব নয়।’’

ভিডিওটিতে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেও বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন। আশা করি আপনারা বিষয়টি তার কাছে পৌঁছে দেবেন।’’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল লোক নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করছে এবং বারবার তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 9:10 pm
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ এবং পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড়, আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড় এবং উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড়ের ঢালে কিছু দেওয়াল সদ্য নির্মিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিককে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতের সরেজমিন পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকেও পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড় পরিদর্শনকালে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ নাকি পাহাড়—তা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।