খুঁজুন
, ,

গণপরিবহণে ইভটিজিং হলে সরাসরি আমার মুঠোফোনে জানান : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2020, 9:04 pm
গণপরিবহণে ইভটিজিং হলে সরাসরি আমার মুঠোফোনে জানান : সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বর্তমান সরকারের একের পর এক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নতি লাভ করেছে। দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে যে কোন পন্য-সামগ্রী সহজে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে স্থানান্তর করা যায়। নগরায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে শহরে যন্ত্র চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবহন খরচ তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এরই মধ্যে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বেশ কিছু প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান।

তিনি আজ বিকেলে সিইপিজেড শাহেনশাহ টাওয়ার চত্বরে বিআরটিসি এসি/ননএসি স্পেশাল সিটি বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর অনেকদিনের আকাংখা ও প্রত্যাশা ছিল কাটগড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুর। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে উপলব্ধি করে গণপরিবহণের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে কিছুদিন পূর্বে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রেরণ করি। একই সাথে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আলাপ করে বিষয়টি তুলে ধরলে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আমার আহবানে সাড়া দিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে নগরীর গণপরিবহণের স্বল্পতা দূরীকরণে ১৮ টি ডাবল ডেকার ও ৪টি এসি বাস প্রদান করেন। এজন্য আমি মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। আজকের এইদিনে যেন আমারই চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণতা পেয়েছে। তেমনি আমি আশা করি নগরবাসীও এর সুফল ভোগ করবেন।

প্রশাসক বলেন, বিআরটিসির বাস একটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এর সঠিক সেবা প্রাপ্তি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এই অধিকার প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করুন। এজন্য তিনি প্রত্যেক বাসে বিআরটিসি’র সেবা নাম্বার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর নাম্বার সংযোজনের জন্য নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক বাসে একটি করে অভিযোগ বাক্স রাখতে হবে যাত্রীগণ যে কোন অভিযোগ এই বাক্সে ড্রপ করতে পারবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু কিছু জায়গায় গণপরিবহণে মহিলাদের শ্লীলতাহানী ও ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটছে। যা অত্যন্ত দু:খজনক ও সামাজিক অবক্ষয়ের সামিল। তাই বাসে যাতে কোন নারী ইভটিজিং এর শিকার না হয় সেজন্য প্রত্যেক যাত্রীসাধারনকে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে একজন নারী কোন না কোন ভাবে আমাদের আমানত। প্রশাসক এহেন কোন সমস্যা বা বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য সরাসরি তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত যাত্রীসাধারণ প্রশাসক বরাবরে সরাসরি অভিযোগ জানান যে, বিআরটিসি’র বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবার পূর্বে মাঝ পথে যাত্রীদের নামিয়ে দেন এবং সিট ক্যাপাসিটির বাইরে যাত্রী পরিবহন করে থাকেন।

এসময় প্রশাসক ছাফ জানিয়ে দেন মাঝ পথে যাত্রী নামানো যাবে না এবং সিট ক্যাপাসিটির বাইরে যাত্রীও পরিবহণ করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে বাস চালককে তাৎক্ষণিক বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হবে। এবিষয়ে উপস্থিত বিআরটিসি’র কর্মকর্তারাও একমত পোষন করেন।

প্রশাসক বলেন অতীত ও বর্তমানের পার্থক্য বিবেচনা করলে বাংলাদেশের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যে গতিতে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উন্নত-পরিবহন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হবে। তিনি যাত্রী সাধারণকেও রাষ্ট্রের সম্পত্তি এ বাসগুলোকে যত্নসহকারে ব্যবহার করার অনুরোধ জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিসি বন্দর পঙ্কজ বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। এছাড়া বিআরটিসির মাসুদ তালুকদার, মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন, সিইপিজেড থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল বড়ুয়া, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সুলতান নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, আবদুর রহমান মিয়া, আজাদ খান অভি, স্বপন সিংহ, মুনতাসির জামিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন এর জিওসি’র সাথে বৈঠক করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চসিক প্রশাসকের সাথে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন এর জিওসি’রসাথে বৈঠক
জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীকে
সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে-সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে মেগা প্রকল্প দিয়েছেন তা যেন সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হয়। সেজন্য মানুষের আস্থাশীল দেশ প্রেমিক সেনাবাহীনর উপর তিনি এ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আমি মনে করি দায়িত্বপ্রাপ্তরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের শতভাগ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাস্তবক্ষেত্রে কিছু কিছু সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। আমি মনে করি এ সমস্যা সমাধানে চসিকের লোকবল ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নগরীর সকল সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় পূর্বক এ কাজ সম্পাদন করা সম্ভব।

প্রশাসক বলেন, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরশনে এবং শৃংখলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। নগরীতে সৌন্দর্য বর্ধনে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কামনা করেন প্রশাসক।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী এযাবতকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে যে কর্মযজ্ঞ করেছে তার সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পেতে শুরু করেছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম নগরীতে যে উন্নয়ন কাজ করছে এতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে চসিক।

আজ সকালে বায়েজিদস্থ চট্টগ্রাম সেনানিবাস এর সদর দপ্তরে মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান ওএসপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি. জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার চট্টগ্রাম’র সাথে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।

এম.এ.মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

জননেতা এম.এ.মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র স্নেহধন্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বি.এল.এফ’র পূর্বাঞ্চলীয় জোনের উপ-অধিনায়ক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী জননেতা এম.এ.মান্নানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দামপাড়া মসজিদে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এম.এ মান্নানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোশেনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। পরে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কবর জেয়ারত ও মোনাজাত করেন।

এসময় এম.এ. মান্নানের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রশাসক বলেন, জননেতা এম.এ. মান্নান আদর্শ ও ত্যাগের প্রতীক। তিনি আজীবন সত্যের সন্ধানী ও পরোপকারী ছিলেন। চট্টল দরদী, কর্মবান্ধব-আপোষহীন, নির্লোভ এ মানুষটি ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য জননেতা। বাষট্টি’র শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এ দেশের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

তিনি চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতৃত্বে অন্যতম দিকনির্দেশনাকারী হিসেবে যে ভূমিকা পালন করে গেছেন তা সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সর্বোপরি স্বচ্ছ-পরিস্কার রাজনীতির ক্ষেত্রে এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে তিনি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সবার কাছে অনুকরণীয় ছিলেন। অন্যদিকে জহুর আহমদ চৌধুরী ও এম.এ আজিজ, এম. এ হান্নান এর পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তার পথ অনুসরণ করে দেশ সেবায় এগিয়ে এলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, শ্রমিক নেতা শফি বাঙালি, ১৫ নং বাগমনিরাম ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর মোঃ গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর, এম.এ. মান্নানের পুত্র ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক দিদারুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বাচ্চু,চসিক মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুন উর রশীদসহ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ নেতৃবৃন্দ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আলাদি জমাদার ওয়াকফ এস্টেট জামে মসজিদের হাফেজ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

পরিবহন ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চসিক প্রশাসকের সাথে পরিবহন ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
১৫ অক্টোবরের পর ট্রেড লাইসেন্স বিহীন
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীলগালা করা হবে-সুজন

ট্রেড লাইসেন্স বিহীন এ শহর ব্যবহার করে কেউ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না বলে হুশিয়ারী করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি বলেন, এই শহরে ব্যবসা করতে হলে সরকারি নিয়মানুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। অন্যথায় পরিকল্পিত নগরায়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

আজ দুপুরে চসিক প্রশাসক দপ্তরে পরিবহন ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশাসক এসব কথাগুলো বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, সমগ্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম ব্যবসার প্রাণ কেন্দ্র। এখানে যুগে যুগে বিদেশী বণিকেরা ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ও নদীমাতৃক বন্দরের কারণে চট্টগ্রাম ব্যবসার উর্বর ভূমি। কালবিবর্তণে এখানে ব্যবসার ধরন ও নিয়মনীতির পরিবর্তন হয়েছে। নগরীতে বেড়েছে জনসংখ্যা। তাই যুগ ও পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে শহরের অস্তিত্ব রক্ষায় আমাদেরকেও শহরের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনো লাইসেন্স করেননি এমন ব্যবসায়ীদের জন্য চসিকের পক্ষ থেকে সময় দেয়া হয়েছে।আগামী ১২ই অক্টোবরে মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন প্রশাসক। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে সার চার্জ মওকুফ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।অন্যথায় ১৫ অক্টোবরের পর ট্রেড লাইসেন্স বিহীন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে।

তিনি রাস্তায় বা রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ মালামাল লোড-আনলোড করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মধ্যে মালামাল লোড-আনলোড সারতে হবে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আমি রাতদিন পরিশ্রম করে সড়ক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তা ভালো থাকলে এর সুফল ব্যবসায়ীরাই ভোগ করবেন।

প্রশাসক অবৈধ রাস্তা দখলদারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দখলদার তুই রাস্তা ছাড়-রাস্তা কি তোর বাপ দাদার”এই স্লোগানকে সামনে রেখে নগরবাসীকে সুন্দর-সুশৃঙ্খল চট্টগ্রাম নগরী গড়ার কাজে অবদান রাখার আহবান জানান তিনি।

কথায় কথায় পরিবহন ব্যবসায়ীদের স্টাইক করা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ধর্মঘট দিয়ে আমাদের ভয় দেখাবেন না। জিম্মী করার দিন শেষ। রাস্তায় গাড়ি চালানোর বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের আছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, আপনারা এ শহরে বসবাস করেন এ শহর আপনাদের। এ শহরকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিনত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আপনাদের যা যা সমস্যা ও প্রয়োজন আছে আমাকে বললে আমি তা পাইরোটি বেসিসে করে দিব। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন আমিও আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মোহাম্মদ আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহেদা ফাতেমা, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রাক কভার্ডভ্যান ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের মহাসচিব মো. আবু মোজাফ্ফর, সহ সভাপতি এম কিবরিয়া দোভাষ,সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমদ, ডিসি রোড ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইসলাম ইভান বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. জামাল, মো. তৌহিদুল আলম, মুফিজুর রহমান টিপু, মুফিজুর রহমান মুন্না, মনিরুল ইসলাম, মো. খলিল, মো. এমরান, এস এহছানুল করিম, মো. ফাহিম হোসেন বাবু, মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. মিজানুর রহমান, মো. রাসেল প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 12:11 am
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এটি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ঘটনার বিষয়ে আলোচনা হয়। দলের সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:19 pm
অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতাল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিকে দেশের একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে হাসপাতাল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ও জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে হাসপাতালটি আবারও কার্যক্রমে গতি পেয়েছে। এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উন্নত সেবার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে দেশের অন্যতম মডেল মাতৃসদন হাসপাতালে পরিণত করা হবে। এ জন্য পরিচালনা কমিটি, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, কোনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর অবহেলার কারণে যেন কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি না হয়। মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। তাই রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন নার্সের আন্তরিক সেবাও অনেক সময় রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তারা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলস কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই ধরনের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার একটি বড় অর্জন। এর ফলে হাসপাতালের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ঘোষণা দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাসপাতালের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে কীভাবে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালকে দেশের একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন মো.আছিফ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো.জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ডা: তাসলিম চৌধুরী, জেমিসন হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাজ সোহানী সুলতানা, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মর্জিনা আক্তার, ডা. মিছবাহ উদ্দিন ও ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়াসহ প্রমুখ

এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:02 pm
এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

একজন নারী কথা বলতে বলতে বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তাঁর স্বামী। তিনি জানেন না, স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। ঘরে অপেক্ষায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত। চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবারের খরচ জোগাতে তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।

তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের কাঁচা বসতঘর ভেঙে গেছে, নষ্ট হয়েছে ফসল। স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম বাবা এখন অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আরেক পাশে অপেক্ষা করছিলেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এক বিধবা মা। কারও প্রয়োজন কিডনির চিকিৎসা, কারও জরুরি অস্ত্রোপচার। এক কলেজছাত্রী বই ও কলেজ ড্রেস কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়; আরেকজনের কাছে দিনাজপুরে ফিরে যাওয়ার গাড়িভাড়াটুকুও নেই।

জীবনের এমন ভিন্ন ভিন্ন সংকট নিয়ে বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়েছিলেন অসহায় মানুষেরা। তাঁদের কথা ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে শোনেন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৮ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের আবেদন, অভাব-অনটন ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি বিষয় শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। কয়েকটি আবেদন ও অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফলাফল আবেদনকারীদের জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে সাতজন অসহায় ব্যক্তি ও একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২১ জনকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়াগুঁড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

মোসাম্মৎ মাইনা খাতুনের স্বামী আজাদ ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করতেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই ছোট সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন মাইনা। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর।

জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি সন্তানদের খাবার, ভরণ-পোষণ ও নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে প্রশাসনিক সহযোগিতা চান। তাঁর দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বাঁশখালীর ইলশা গ্রামের রেয়াজুল জান্নাত রাহাতের বাড়িতে সাম্প্রতিক বন্যায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি ওঠে। এতে তাঁদের কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়।

রাহাতের বাবা রেয়াজ আহামদ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম। ঘর হারিয়ে পরিবারটি অস্থায়ীভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাবার জন্য বসতঘর নির্মাণ ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার আবেদন করেন রাহাত। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বোয়ালখালীর পশ্চিম শাকপুরার মো. শাহাজাহান কিডনি জটিলতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তাঁর আবেদন মানবিক বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

বাঁশখালীর মিনজিরিতলার মিফতাহুল জান্নাত রিয়া সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। তাঁর এক ভাই ফাজিল প্রথম বর্ষে এবং এক বোন দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০১৬ সালের ১৯ জুলাই বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। বসতভিটার চার শতক জমি ছাড়া তাঁদের কোনো স্থায়ী সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে বই, কলেজ ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় রিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখার অফিস সহায়ক নিলুফার ইয়াসমিন কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন কন্যা ও এক পুত্রের দায়িত্ব তাঁর ওপর।

তিনি চট্টগ্রামের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বাসকর চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও ব্যয়বহুল ওষুধের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে পিইটি স্ক্যান করাতে হবে। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আবু কাউছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। চিকিৎসায় সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে কোনো কাজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে দৈনন্দিন খরচ কিংবা বাড়ি ফেরার অর্থও ছিল না। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তাঁকে দিনাজপুরে ফেরার প্রয়োজনীয় গাড়িভাড়া দেওয়া হয়।

একই দিন জেলা প্রশাসক প্রবাসীদের অভিযোগ নিয়ে অনলাইন গণশুনানিও করেন। এতে এক প্রবাসী পারিবারিক জমিজমার বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি এখন শুধু আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যা সরাসরি শোনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি অসহায় মানুষের নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

কেউ ফিরেছেন চিকিৎসার অর্থ নিয়ে, কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে, কেউ ঘর পুনর্নির্মাণের আশা নিয়ে, আবার কেউ বাড়ি ফেরার ভাড়া হাতে নিয়ে। সহায়তার অঙ্ক হয়তো তাঁদের সব সংকট দূর করবে না; তবে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাঁদের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়েছে—রাষ্ট্রের দরজা এখনো তাঁদের জন্য খোলা।