খুঁজুন
, ,

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 28 September, 2020, 12:16 am
আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। সেখানকার নিভৃত পল্লীতেই শৈশব কৈশোর কেটেছে ক্রমে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা শেখ হাসিনার।

গ্রামের সহজ জীবন ও নির্মল প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনা এখন প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের একজন। পিতার স্বপ্নের স্বাধীন দেশ গড়ার দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে চলছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন রেকর্ড সময় ধরে।

দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে নিজের জন্মদিনের কোনো আনুষ্ঠানিকতায় সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী।

এজন্য দলীয়ভাবে মিলাদ মাহফিল ছাড়া বড় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। একইভাবে সারা দেশেও একই ধরনের কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সীমিত সংখ্যক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাদ জোহর এবং দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার (মেরুল বাড্ডা), সকাল ১০টায় খ্রিস্টান এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস চার্চ (২৯ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০), সকাল ৬টায় তেজগাঁও জকমালা রাণীর গীর্জা এবং সকাল ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

একইদিনে ঢাকাসহ সারা দেশে সকল সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, বিশেষ প্রার্থনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ সকল কর্মসূচি যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালন করবে।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। পুরনো ঢাকার মোগলটুলির রজনী বোস লেনে বসবাস শুরু করেন। পরে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচিত হলে আবাস স্থানান্তরিত হয় ৩ নম্বর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে। ১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা ভর্তি হন টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন ১৯৬১ সালের ১লা অক্টোবর। এ সময় শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার বকশী বাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। একই বছর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় কিশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার রাজনীতিতে পদচারণা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেত্রী হিসাবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬ দফা দাবিতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে। শুরু হয় প্রচণ্ড দমন-নির্যাতন-নিপীড়ন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দায়ের করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। তার জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর শঙ্কা, অনিশ্চয়তা ও অসহনীয় দুঃখ-কষ্ট। এই ঝড়ো দিনগুলোতেই, কারাবন্দি পিতার আগ্রহে ১৯৬৭ সালের ১৭ই নভেম্বর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পর শুরু হয় বাঙালি জাতির ১১ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেত্রী হিসেবে তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কাল রাতে বঙ্গবন্ধুকে যখন পাকহানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যায় তখন বঙ্গবন্ধুর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন একটি বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭শে জুলাই গৃহবন্দি থাকাবস্থায় শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি মুক্ত হন। ১৯৭২ সালের ৯ই ডিসেম্বর তার কন্যা সন্তান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল জন্ম লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট কালরাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। এ সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ডাক আসে দেশ-মাতৃকার হাল ধরার।

সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফিরে আসেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সামরিক জান্তা, স্বৈরশাসন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চলে একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলুম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু।

১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নেতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে চালানো হয় নারকীয় গ্রেনেড হামলা। এ হামলায় গুরুতরভাবে আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ১৬ই জুলাই নিজ বাসভবন সুধাসদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাতীয় সংসদ এলাকায় একটি অস্থায়ী কারাগারে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একের পর এক ষড়ন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা।

২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অর্জিত হয় ঐতিহাসিক বিজয়। এককভাবে আওয়ামী লীগই লাভ করে তিন চতুর্থাংশের বেশি আসন। ২০১৪ সালের ৬ই জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয় মেয়াদে চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা।

শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্তঃপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তার লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহেনা মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।

২৪ ঘণ্টা

Feb2

দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 1:13 am
দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার আর এক মিনিটও বাকি নেই। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়েছে। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।

এর আগে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দেয়। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।

৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারেস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!

কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।

শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 11:08 pm
শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

“একজন শিশু যদি জন্মের পর থেকেই কারখানার তপ্ত আগুনের পাশে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়, তাহলে সে স্বপ্ন দেখতেই শেখে না। আর যে শিশু নিজেই স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে স্বপ্ন দেখাবে কীভাবে?”

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এভাবেই শিশুশ্রমের ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক প্রভাব তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম কেবল শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন, মানবিক বিকাশ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—”শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।”

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কৈশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, নিরাপদ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলো এই সহায়তাকে শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ যে শিল্পগোষ্ঠীগুলো দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রম রয়েছে। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে। তিনি জানতে চান, প্রতিষ্ঠানের যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব শ্রমিকদের জীবনেও কতটা পৌঁছেছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, দাদা-দাদি বা নানা-নানির গল্প শুনে বড় হবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। পরিবার ও সমাজে সেই পরিবেশ তৈরি না করতে পারলে শিশুশ্রম নির্মূল করাও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু একটি শিশু যদি শৈশব থেকেই কারখানা, ইটভাটা বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে সে তার জীবনের সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জানারই সুযোগ পাবে না। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

একটি উদাহরণ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি মাছকে যদি গাছে উঠতে বলা হয়, সে কখনোই তা পারবে না।” একইভাবে একটি শিশুকে তার বয়স ও সক্ষমতার বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ঠেলে দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের অনেক মানুষ এমন একটি জীবনযাপনের মধ্যে আটকে পড়েছেন, যেখানে সুস্থ চিন্তা করার সুযোগও তারা পান না। তাদের সামনে সুস্থ সমাজের উদাহরণ তৈরি করতে না পারলে পরিবর্তনও আসবে না। তাই শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘জোবায়দা’ নামে এক মেধাবী শিশুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে জোবায়দার মতো আরও অসংখ্য মেধাবী শিশু রয়েছে। কিন্তু সমাজ তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারেনি। তিনি ঘোষণা দেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোবায়দার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষদেরও এ ধরনের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামান্য মুনাফার জন্য কোনো শিশুর শৈশব, ভবিষ্যৎ ও জীবনকে কিনে নেওয়া উচিত নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার জায়গা থেকে প্রত্যেক উদ্যোক্তার উচিত যোগ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকেই কাজে নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিটি শিশুকে নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করা।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো মানুষ একা ভালো থাকতে পারে না; সমাজের সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়। মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তার শক্তিতে নয়, মানবিকতা ও বিবেকে। তাই সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হলে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

তিনি জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি খাত থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাতকে শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকেও পর্যায়ক্রমে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, বিজিএমইএ পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক, প্রত্যাশী, ইপসা, ঘাসফুল, সংসপ্তক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জেএসইউএস, কারিতাস ও কিডস কালসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অংশ নেয়।

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।