খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচিত রিফাত হত্যা : সাগরের পুলিশের চাকরিটা ফিরে পেতে চায় পরিবার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০, ৫:২২ অপরাহ্ণ
আলোচিত রিফাত হত্যা : সাগরের পুলিশের চাকরিটা ফিরে পেতে চায় পরিবার

মোঃ আবুসাঈদ মোল্লা , বরিশাল থেকেঃ আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।এছাড়া, আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় খালাস পেয়েছেন মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বী, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি ভূবন চন্দ্র হালদার এবং মোস্তাফিজুর রহমান বাবু জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান ২০০ পৃষ্ঠার এ রায় ঘোষণা করেন।

খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. সাগর পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পুলিশ লাইন্সে গিয়ে ৩০ জুন রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন। ২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স একাডেমির সামনে স্ত্রী মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সহযোগীরা। গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত মারা যান।

এরপর রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও পাঁচ/ ছয়জনের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় প্রথমে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেছিলেন নিহত রিফাতের বাবা। তবে ওই মামলায় খালাসপ্রাপ্ত মুসা ছাড়া আর কারো নাম সরাসরি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।আইনজীবি অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সে বিষয়গুলো প্রসিকিউশন থেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। পাশাপাশি ডিফেন্স আইনজীবি হিসেবে আমরাও তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাদের খালাশ দিয়েছে।

খালাসপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে সাগরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হলে দীর্ঘ ১৪ মাস ২৫ দিনের মাথার মুক্তি পেয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাগরের বড় ভাই সাইফুর রহমান শাওন বলেন, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাগরকে কারাগার থেকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।তিনি বলেন, ‘সবাই রিফাত হত্যার বিচার চেয়েছে, এতে যদি আমার ভাইয়ের একটুও অপরাধ থাকতো তাহলে তার সাজা হলে আমাদের কিছু বলার থাকতো না। কিন্তু সে নির্দোষ, তাই আদালতও বিষয়টি জানতে পেরে তাকে খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে শুধু আমরাই সন্তুষ্ট এমন নয়, নিহত রিফাতের পরিবারও সন্তুষ্ট। আর আমরা ন্যায় বিচারও পেয়েছি। ’তিনি বলেন, ‘রিফাত নিহত হওয়ার পর সাগরকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু আমরা জানি সাগর নির্দোষ, আর আল্লাহ সহায় থাকলে সে ছাড়াও পাবে। তাই আমরা সাগরের গ্রেফতার নিয়ে কোনো ধরনের সমালোচনায় যাইনি।

সাগর আমার সঙ্গে ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করতো। রিফাত নিহত হওয়ার কয়েকদিন আগে অর্থাৎ ২১ জুন বাবা আব্দুল লতিফ মাস্টার সাগরকে ঢাকা থেকে পুলিশে চাকরি নেওয়ার জন্য বরগুনায় নিয়ে আসেন। ওই সময় বরগুনা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে ঘুষ ব্যতীত মাত্র একশ’ টাকায় কনস্টেবল পদে নিয়োগের একটি প্রচারণা চলছিল। যা সমগ্র বরগুনায় মাইকের মাধ্যমেই প্রচার হয়। এর মাধ্যমে বাবা বিষয়টি জানতে পেরে সাগরকে পুলিশে চাকরি নিতে বলেন। আর আমরা খুবই গরিব, ঘুষ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই বাবা এ চাকরিতে বেশ আগ্রহী ছিলেন। ’তিনি বলেন, ‘সাগর বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়ে উর্ত্তীন্ন হয়েছে, আর এইচএসসিতেও ৪.৭৫ পেয়েছে। সাগর মেধাবী হওয়ায় বাবা ওকে পুলিশে চাকরি নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে আর সেখান থেকেই ও পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেয়। ’সাগরের বড় ভাই জানান, ‘১০ হাজার জনের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪১ জনের মধ্যে ১৮তম হয় সাগর। আর এ কার্যক্রম শুরু হয় ২৫ জুন থেকে। এরপর থেকে সাগরের পুলিশ লাইন্সেই সময় বেশি কাটতো। ২৬ তারিখ ঘটনার সময় সাগর বাবা-মায়ের সঙ্গে পুলিশ লাইন্সে রেজাল্ট জানতে যায়।

’তিনি বলেন, ‘আমাদের বাসা কলেজ রোডের পেছনে, ফলে কলেজ রোড ব্যবহার করাটা আমাদের জন্য স্বাভাবিক। রিফাতকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার সময় সাগর ওখানে ছিল না। যদি ১০টায় ঘটনা হয়, আর ১০টা ২৩ মিনিটে সেখানে পুলিশ যায় এবং সেখানে ভিড় হয়। ১০টা ৪৮ মিনিটে সাগর ঘটনাস্থল থেকে যায়, যেটা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘২৭ জুন আমতলীতে ডিআইজির অনুষ্ঠানেও সাগর যায় এবং ৩০ তারিখ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পুলিশ লাইন্সেও যায় সে। এরপর তাকে ডেকে নেওয়া হয় এবং ঘণ্টাখানেক পর গ্রেফতার দেখানো হয়। সাগরকে আলাদাভাবে ডাকার পরপরই সে আমাকে মেসেজ দিয়েছে, যা আব্বা-আম্মাকে আমি জানাই। তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় কারো দোষ দেই না, ভাগ্যে ছিল। তবে সরকারসহ সবার কাছে দাবি রাখছি যেন সাগরের চাকরিটা ফিরে পায়। ’সাগরের ভাই বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, যে কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে তার চাকরি থাকবে না, আর কেউ অপরাধী না হলে চাকরিও পাবে। তাই আমাদের পরিবারের চাওয়া ও যেন চাকুরিটা ফিরে পায়।

শিক্ষকতা করে বাবা সংসার চালিয়েছেন, আমরা তেমন একটা স্বচ্ছল নই যে ঘুষ দিয়ে চাকুরি পাবো। ঘুষবিহীন চাকরি দেওয়ার কথা শুনেই বাবা-মা পুলিশে চাকরি নেওয়ার কথা বলেছিল সাগরকে। ’এদিকে সাগরের আইনজীবী জুনায়েদ হোসেন জুয়েল বলেন, ‘চাকরিটা ফিরে পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। ও যে খালাস পেয়েছে সেই আদেশের কাগজপত্র আদালত থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওঠানো হবে। এরপর এটি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করার চিন্তাভাবনাও করছি, যাতে ও চাকুরিটা ফিরে পায়।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা

Feb2

অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে জাহাজ কুইচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে জাহাজ কুইচি

মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছেছে হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কুইচি। আজ দুপুর থেকেই জাহাজটি থেকে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে এর লোকাল এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন। এপ্রিল মাসে আসা এটি অকটেনের তৃতীয় চালান। গত ৮ এপ্রিল ২৬ হাজার টন ও ১৭ এপ্রিল ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে এসেছিল আরও দুটি জাহাজ।

দৈনিক ১২০০ টন চাহিদা হিসেবে এই এক মাসে আসা ৭৯ হাজার টন অকটেন দিয়ে চলা যাবে দুই মাসেরও বেশি সময়।

প্রাইড শিপিং লাইনের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানান, বহির্নোঙ্গরে অকটেন ও ডিজেল নিয়ে অবস্থান করছে আরও পাঁচটি জাহাজ। এছাড়া বুধবার তিনটি জাহাজ বার্থিং করে তেল খালাস শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরে ডলফিন জেটি মাত্র তিনটি। তাই চাইলেও সবগুলো জাহাজকে একসঙ্গে বার্থিং দেয়া সম্ভব নয়। এদিকে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কার্গো খালাসে একটু বেগ পেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু

চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান সংলগ্ন বন্দরটিলা এলাকায় নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) এ মেডিকেল কলেজের উদ্বোধন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত এ আধুনিক মেডিকেল কলেজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে এরই মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন বেসামরিক ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণে ৫ বছর মেয়াদি চিকিৎসাশিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষ, নৈতিক ও পেশাদার চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে এটি সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং একই সঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নেভি মেডিকেল কলেজটির মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতের জন্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা, যারা সমাজের সকল স্তরে সকল পরিস্থিতিতে কার্যকর চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন চিকিৎসা এবং সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চিকিৎসাসেবায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নত শ্রেণিকক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুদক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া এই কার্যক্রমে নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের সমন্বয়ে পরিচালিত নেভি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তর ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক অতিথি, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

৭ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
৭ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

দেশের ৭ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে চারজন, জামালপুরে দুইজন, বরগুনায় দুইজন, ময়মনসিংহে একজন, বাগেরহাটে একজন, রংপুরে একজন ও রাজবাড়ীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখি ঝড়ের সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে গত দুই দিনে বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) বজ্রপাতে মারা যান। দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) নিহত হন। এরপর দুপুর ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এছাড়াও রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন এবং কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর

জামালপুরের ইসলামপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া (৩৫) ও রাস্তার কাজ করার সময় সাগর ইসলাম (১৮) নামে এক শ্রমিক মারা যান। বুধবার সকালে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি গ্রামে ও সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম মিয়া একই এলাকার হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং নিহত সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া গ্রামের মো. স্বাধীনের ছেলে।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চলমান।

বরগুনা

বরগুনায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আল-আমীন নামে এক জেলে ও নূরজামাল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আল-আমীন পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার বাসিন্দা এবং নূরজামাল আমতলী উপজেলার পূজাখোলা নামক এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরের দিকে পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পাথারঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক এবং আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিকট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। সকালে বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট

বাগেরহাটে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামের মাঠে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রবিন হাওলাদার সরকারডাঙ্গা গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে।

বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকারডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে।

রংপুর

রংপুরের তারাগঞ্জে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে ওই গৃহবধূ রান্না করার জন্য বাড়ির পাশে খড়ি সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

তারাগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বজ্রপাতে গৃহবধূর মুত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।

সুমনের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কিছু বাজার আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ে সাফিয়ার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি।