খুঁজুন
, ,

আত্মরক্ষায় শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 28 October, 2020, 1:00 pm
আত্মরক্ষায় শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ যুদ্ধ নয় বরং শান্তি চায় এবং সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কখনো আক্রান্ত হই সেটা মোকাবেলা করার মত শক্তি যেন আমরা অর্জন করতে পারি, সেভাইে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাই এবং সেভাবেই আমরা তৈরি থাকতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮টি ইউনিট/সংস্থার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কন্ঠে বলেন, ‘আবারো বলবো আমরা শান্তি চাই। বন্ধুত্ব চাই। বৈরীতা চাই না, যুদ্ধ চাই না।

যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ তিনি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরাও সেই ভূক্তভোগী। কাজেই আর সেই ধ্বংসযজ্ঞে আমরা যুক্ত হতে চাই না। কিন্তু, শান্তির পথ বেয়ে আমরা প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে চাই।’

যখনই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে তখনই সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, ‘আমরা চেয়েছি সশস্ত্রবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জীবন মান উন্নত হোক এবং সমগ্র বাংলাদেশের মানুষেরই জীবন মান উন্নত হোক। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭ম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর লেবুখালি, পটুয়াখালি সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ পুনর্গঠনকালে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে জাতির পিতার দিয়ে যাওয়া সংবিধানে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত স্পষ্ট- আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করতে চাই না, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নিয়ে আমরা বাংলাদেশকে আর্থ-সামাজিক ভাবে উন্নত করতে চাই।’

শেখ হাসিনা সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোন হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আপনারা সেনাবাহিনীর ভেতরের মূল চালিকা শক্তিগুলো অর্থাৎ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পারিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্য পরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের স্বীয় কর্তব্য যথাযথভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন, সেটাই আমি আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সেভাবেই মানুষের আস্থা অর্জন করে আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দেশের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম ‘পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণ’ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাদারিত্বের কাঙ্খিত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে পেশপাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে।’

মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে সদর দপ্তর ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড (চট্টগ্রাম), সদর দপ্তর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড (সিলেট), সদর দপ্তর ২৮ পদাতিক ব্রিগেড, ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৬৬ ইষ্ট বেংগল, ৪৩ বীর, ৪০ এসটি ব্যাটালিয়ন এবং ১২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন করা হয় ।

সেনাপ্রধান, সেনানিবাসের জিওসিসহ উর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তাগণ পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালির দুমকি উপজেলার লেবুখালিতে দেশের দক্ষিণবঙ্গের এই একমাত্র সেবানিবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত এই সেনা নিবাসটি প্রায় ১৫শ’ ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের, সেনাবাহিনী জনগণের বাহিনী। এ দেশের উন্নতি হলে আমাদের সেনা সদস্যদের পরিবারেরও উন্নতি হবে। সে কথা মাথায় রেখেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

তিনি পটুয়াখালির লেবুখালিতে ৭ম পদাতিক ডিভিশনের সদরদপ্তর প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন বলেন, ‘পদ্মার এ পারে সশস্ত্রবাহিনীর কোন বিগ্রেড ছিল না যে কারণে আমরা এখানে ৭ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ৩টি ব্রিগেড সদর ও ৫টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের সময় সেনাবাহিনীতে অনেক আধুনিক যানবাহন, হেলিকপ্টার, সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে।

এভাবেই দ্রুত ও সমন্বিত আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে বিশ্বের দরবারে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীতে রূপান্তরিত করার পদক্ষেপও তাঁর সরকার নিয়েছে এবং এতে সফলকাম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

একদা বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে লেবুখালি সেনানিবাসের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নবগঠিত সেনানিবাসের উন্নয়ন কাজ পরিকল্পতভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অভাবনীয় অগ্রগতি ডিভিশনের প্রতিটি সদস্যের ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন হবে, আমি বিশ্বাস করি।’
সুদূরপ্রসারী নগর পরিকল্পনার আলোকে প্রাকৃতিক শোভাকে নষ্ট না করে পরিবেশ-বান্ধব সেনানিবাস গঠনের পরিকল্পনার জন্য তিনি সেনাবাহিনী প্রধান ও এই ডিভিশনের জিওসিসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, এ এলাকায় সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে আরো বলেন, ‘বরিশাল সেনানিবাসের উন্নয়ন এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশা যোগাচ্ছে এবং আপনাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

‘ইতোমধ্যেই রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন, সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য ১টি কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করেছি। মিঠামইন এলাকায় একটি সেনানিবাস স্থাপনের কাজ চলছে,’ যোগ করেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে এবং যেকোন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সশস্ত্রবাহিনীর বিশাল ভূমিকার জন্য সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশেষ করে এই করোনাকালীন আপনারা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সেবা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশে^ উজ্জ্বল করেছেন। সেইসঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও আমাদের সশস্ত্রবাহিনী বিশাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।’

দেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও সশস্ত্রবাহিনীর বিশাল ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে মিঠামইন-ইটনা-অষ্ট্রগ্রামে সড়ক নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে সর্ব কাজে তাঁরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। পদ্মা সেতু ও যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতু সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও সেনাবাহিনীর বিশাল ভূমিকার উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সীমিত সম্পদের মধ্যেও সশস্ত্রবাহিনীকে সবধরণের সহযোগিতা করতে তাঁর সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা, বগুড়া ও সৈয়দপুর সেনানিবাসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সাভার এবং সিলেট সেনানিবাসে একটি করে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে।

সিএমএইচসমূহের উন্নয়নের পাশাপাশি পাঁচটি আর্মি মেডিকেল কলেজ এবং ৩টি নার্সিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। রামু ও সিলেট সেনানিবাসে পর্যাপ্ত সুবিধা সম্বলিত ২টি সিএমএইচ এর নির্মাণ কাজ চলছে।

সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাঁজোয়া এবং আর্টিলারি কোরের জন্য আধুনিক গান ও মিসাইল ক্রয় করা হচ্ছে। পদাতিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ইনফ্যান্ট্রি গেজেট ক্রয় করা হয়েছে। আমাদের মিলিটারি একাডেমির ভিত্তিটা জাতির পিতা করে গিয়েছিলেন, আজকে তা বিশে^ প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এটি যে একদিন একটি বিশ^মানের প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে সেটা সেসময়ই জাতির পিতার তাঁর বক্তৃতাতেও আশাবাদ ব্যক্ত করে যান, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এর মধ্যে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও করোনাভাইরাসের কারণে সেটা কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। তারপরেও আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য আমরা সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা সফল হব।

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের যে মর্যাদা লাভ করেছে তা ধরে রেখে আরো এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২৪ সাল পর্যন্ত আমাদের দেশের চলমান অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে করে দেশকে আমরা উন্নত করতে পারি এবং ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত হবে।’

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং বাংলাদেশ নামক ব-দ্বীপকে রক্ষায় তাঁর সরকার শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এবং আপনাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম একটি সুন্দর জীবন পাবে এবং ভালভাবে যেন বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থাটাই আমরা করে যাচ্ছি।’

দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে এবং ‘মুজিববষের্’ দেশের শতভাগ ঘরে বিদ্যুতের আলো জ¦ালাতে তাঁর সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশের কোন ঘর আর অন্ধকারে থাকবে না, কেউ গৃহহীন থাাকবে না। প্রত্যেকটি মানুষকে আমরা ঘর করে দেব।’
২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:35 pm
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।

ধসে পড়েছে সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:09 pm
ধসে পড়েছে সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি সেতু ধসে পড়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পানির তীব্র স্রোতের মুখে দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকার সেতুটি ধসে পড়ে। ফলে সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পাশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু ধসে পড়ায় কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা ও নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

খবর পেয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।