খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের ফার্মেসিতে পরিণত হবে ভারত, করোনার বিরুদ্ধে বিশ্বে আইডল মোদী!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:১০ অপরাহ্ণ
বিশ্বের ফার্মেসিতে পরিণত হবে ভারত, করোনার বিরুদ্ধে বিশ্বে আইডল মোদী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তৃত পর্যালোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের তিন শহর সফর করেছেন। তিনি আহমেদাবাদের জাইডাস বায়োটেক পার্ক, হায়দ্রাবাদের ভারত বায়োটেক এবং পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া পরিদর্শন করেন।

এর মধ্যে দু’টি সাইটে ভারত দেশীয়ভাবে কোভিড ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করছে এবং অন্য সাইটে বিশ্বকে বাঁচাতে কোটি কোটি টিকা তৈরি করা হবে।

ভারত মনে করে ভ্যাকসিন কেবল সুস্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বিশ্বের মঙ্গলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশগুলিকে সহায়তা করা ভারতের কর্তব্য।

ভারত কেবল ভ্যাকসিন গবেষণায় বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে না, সেইসাথে বিশ্বের ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্যও ভারত খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের ১০০টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের ৪ ডিসেম্বর পুনে সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং জেনোভা বায়োফার্মাসটিক্যালস লিমিটেড সফর করবেন।

কেউ যখন প্রশ্ন করে? বিভিন্ন দেশ কীভাবে মহামারীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তখন প্রতিটি দেশের মোট সংক্রমণের সংখ্যার দিকে লক্ষ্য করলে তা সহজেই বোঝা যায়। তবে কোনও দেশের পারফরম্যান্সের প্রকৃত পরিমাপ হল প্রতি মিলিয়নে আক্রান্ত মানুষ এবং মৃত্যুর সংখ্যা।

গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত, ভারতে প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৬,৭৩১ জন। বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি মিলিয়নে ৪০ হাজার জন, যুক্তরাজ্যে ২৩,৪৫৬ জন, ফ্রান্সে ৩৩,৪২৪ জন, ব্রাজিলের ২৯,১২৯ জন এবং ইতালিতে ২৫,৪৫৬ জন।

এই দেশগুলির বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতি মিলিয়নে আক্রান্তের হার ভারতের তুলনায় প্রায় ৪-৫ গুণ। প্রতি মিলিয়নে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভারতে মারা গেছে ৯৮ জন।

প্রতিটি জীবন মূল্যবান, এমনকি একটি মৃত্যুও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এই তুলনা কেবল দেশগুলি মহামারী থেকে জীবন বাঁচাতে কতটা কার্যকর হয়েছে তার জন্যেই করা হচ্ছে।

গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত, ভারতে প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যায় মারা গেছে ৯৮ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৩ জন, ব্রাজিলে ৮০৫, ফ্রান্সে ৭৮০, স্পেনে ৯৫৫, যুক্তরাজ্যে ৮৪৬ এবং ইতালিতে ৮৮৮ জন।

প্রায় সব দেশেই প্রতি মিলিয়নে ভারতের চেয়ে প্রায় ৮-৯ গুণ বেশি মারা গেছে। এই দেশগুলির অনেকই ভারতের চেয়ে উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাসম্পন্ন দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে ভারতে সংক্রমণ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাঝামাঝিতে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে দৈনিক আক্রান্ত ছিল প্রায় ৯৭,৮৯৪ সেখানে ২৬ নভেম্বর এই সংখ্যা প্রায় ৪৩,১৭৪ জন। দৈনিক সংক্রমণের ভিত্তিতে ৭ দিনের চলমান গড়ের সাথে বিবেচনা করলে দেখা যায় (২৫ নভেম্বর পর্যন্ত) ভারতে সংক্রমণ নিম্নমুখী।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্রুত সিদ্ধান্তে ভারতের উন্নত প্রতিক্রিয়া : প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্রুত এবং সক্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং দেশে মহাবিপর্যয় হওয়ার আগেই এই মহামারী ঠেকানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। ভারত সরকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো দেশগুলির মধ্যে অন্যতম।

চীন ৭ জানুয়ারিতে উহান ভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করেছিল। পরের দিনই, ৮ জানুয়ারিতেই ভারত একটি মিশন সভা করেছিল। ভারত ১৭ জানুয়ারি থেকে যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। এক্ষেত্রেও বিশ্বে সর্বপ্রথম দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারত।

৩০ জানুয়ারি ভারতে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয় এবং তারপর সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়। অন্যদিকে, আরটি-পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি র্যা পিড অ্যান্টিজেন টেস্ট প্রবর্তনকারী দেশ হিসেবে ভারত ছিল প্রথম। এই কৌশলটির জন্য প্রথমে ভারত সমালোচিত হলেও পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিজেই এই মডেলটি গ্রহণ করেছে।

ভারতের বেশিরভাগ অংশেই এপ্রিলের প্রথম দিকে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, মোদী নিজেই এপ্রিলের শুরু থেকেই প্রকাশ্যে মাস্ক পরেছিলেন যেখানে বিশ্বব্যাপী মাস্ক সুপারিশ করার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল।

ব্যাপক সংক্রমণ রোধে প্রাথমিক লকডাউন : লকডাউন দেয়ার জন্য ভারত অপেক্ষা করতে পারত এবং ইউরোপ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণ করার ঝুঁকি নিতে পারত।

নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধির হার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ১০.৯ থেকে ১৯.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল এবং দ্বিগুণ হওয়ার সময়টি ছিল মাত্র তিনদিন।

যখন ভারত জাতীয় লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন পর্যন্ত অন্য কোনও দেশ এত তাড়াতাড়ি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এই এক সিদ্ধান্ত ভারতের চিত্র বদলে দিয়েছে। তাছাড়া, মহামারীর চিকিৎসার জন্য সরকারের অবকাঠামো তৈরির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল।

এই সময়ে ১৫,৩৬২ ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসুবিধা, ১৫.৪০ লাখ আইসোলেশন শয্যা, প্রায় ২.৭০ লাখ অক্সিজেন সহায়তাযুক্ত শয্যা এবং ৭৮ হাজার আইসিইউ শয্যা তৈরি হয়েছে।

সারা দেশে সরকারী হাসপাতালে ৩২,৪০০ ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে যেখানে গত ৭০ বছরে এই সরকারী হাসপাতালগুলিতে মাত্র ১২,০০০ ভেন্টিলেটর ছিল। রাজ্য সরকারগুলিকে ৩.৭০ কোটি এন ৯৫ মাস্ক এবং ১.৬০ কোটি পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্ব-একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান : ভারতের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি বিজ্ঞানভিত্তিক। মার্চ মাসের প্রথম থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন সকালে ভারতের পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।

তিনি টেস্টিং, সংক্রমণ, মৃত্যু, অঞ্চল, রাজ্য এবং এমনকি জেলাগুলির তথ্য দেখেছেন। তারপর পরিস্থিতি অনুধাবন করার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীদের তাদের জনগণের নজর থেকে দূরে থেকে কথা বলার জন্য (রাজনীতিকীকরণের সম্ভাবনা এড়াতে) আহ্বান জানান।

তারপর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সমস্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং মন্ত্রীদের তাদের নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী গত ৯ মাসে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার কোভিড-১৯সম্পর্কিত বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন এবং বেশিরভাগই জনগণের দৃষ্টি এড়িয়ে।

তিনি স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার, ক্রীড়াবিদ, মিডিয়া এমনকি রেডিও জকি পর্যন্ত সমাজের সমস্ত বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছেন, তাদের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে, তাদের কাছ থেকে শিখতে, তাদের অভিজ্ঞতা জানতে এবং তাদের দক্ষতার সদ্ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী মোদী হোলির সময় মার্চের গোড়ার দিকে সামাজিক সমাবেশ থেকে বিরত থাকার পথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এটি ইতোমধ্যে কয়েক মিলিয়ন লোককে পরিস্থিতিটির গুরুত্ব বুঝিয়েছে।

এরপরে, তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং ‘জনতা কারফিউ’ নামে একটি অনন্য জনঅংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ নিয়ে এলেন। তিনি জনগণকে দেশব্যাপী একদিনের লকডাউন পালনে উৎসাহিত করলেন এবং বিশ্বকে দেখালেন ভারতকে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। জনগণ বেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল। এটি আসন্ন লকডাউনের জন্য জাতিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ২৪ মার্চ থেকে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করলেন। একই ভাষণে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে তিনি ‘জান হ্যায় তো জাহাঁ হ্যায়’এই বার্তা দিয়েছেন। তিনি জনগণকে নিয়মিত মাস্ক পরতে এবং হাত পরিষ্কার করতে বলেছিলেন। তাতেও জনগণ সাড়া দিয়েছিল।

লকডাউন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদী মানুষকে প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংহতি প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তাদের অনন্য উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের সহায়তা দেখাতে বলেছিলেন। এটি দেশজুড়ে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

পরে, ‘আনলক পর্বের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী আবারো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং তাদেরকে ‘জান ভি জাহাঁ ভি’ দর্শন দিয়ে পরিচালনা করেছিলেন। ভারত তাড়াতাড়ি লকডাউনে চলে গিয়েছিল এবং আনলক পর্বেও তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছিলো।

এই পর্যায়গুলি জুড়ে, তাঁর ব্যক্তিগত নেতৃত্ব প্রত্যেক ভারতীয়কে আশ্বাস দিয়েছিল যে তারা নিরাপদ হাতে রয়েছে যা যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরামর্শ অনুসরণ করে এবং জীবনকে বাঁচানোর লক্ষ্যকে অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখে। এই কারণে আজ ভারতের মিলিয়ন প্রতি সংক্রমণ এবং মৃত্যু উভয়ই অনেক উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম।

মহামারীকালে সরকারি সাহায্য : মহামারীর সাথে লড়াই করার সময় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করাটাও জরুরি ছিল। নিশ্চিত করার প্রয়োজন ছিল যে, এই পরিস্থিতি দরিদ্রদের জন্য কষ্ট বয়ে আনবে না। তাৎক্ষণিকভাবে মোদী সরকার দরিদ্রদের সহায়তা করার জন্য পদক্ষেপ নেয়।

১.৭০ লক্ষ কোটি রুপি প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ প্যাকেজ (পিএমজিকেপি) এর মাধ্যমে সরকার নারী, দরিদ্র প্রবীণ নাগরিক ও কৃষকদের বিনামূল্যে খাদ্যশস্য এবং নগদ অর্থ প্রদানের ঘোষণা দেয় । এই প্রোগ্রামটি দ্বারা প্রাপ্ত সংখ্যাগুলি মনোমুগ্ধকর এবং বিশ্ব রেকর্ড তৈরি করার মতো! প্রায় ৪২ কোটি দরিদ্র মানুষ ৬৮,৮২০কোটি রুপি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।

প্রায় ৯ কোটি কৃষকের কাছে ১৭,৮৯১ কোটি রুপি স্থানান্তরিত হয়েছিল। প্রায় ৩১০০০ কোটি রুপি ২০ কোটি জনধন অ্যাকাউন্টধারী মহিলার কাছে তিন কিস্তিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

২,৮১৪.৫০ কোটি রুপি প্রায় ২.৮১ কোটি বৃদ্ধা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাছে দুই কিস্তিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ১.৮২ কোটি নির্মাণ শ্রমিকরা ৪,৯৮৭.১৮ কোটি রুপি আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। প্রায় ১৩ কোটি গ্যাস সিলিন্ডার দরিদ্র পরিবারগুলিতে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল।

গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায় নভেম্বর মাস থেকে মাসিক ভিত্তিতে প্রায় ৮০ কোটি মানুষ বিনামূল্যে খাদ্যশস্য এবং ডাল পেয়েছিলেন! সকল নগদ ট্রান্সফার সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে গেছে কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়াই!

২৪ ঘণ্টা/রাজীব প্রিন্স

Feb2

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এসএসএফ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য। বর্তমানে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা ও ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ‘এসএসএফ’-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তরুণ বেলা থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন-প্রতি সময় আমি এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। তবে এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।

এসএসএফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নিজের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে চান বলে উল্লেখ করে বলেন, সেটি হলো, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। সুতরাং, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকার প্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আপনারা জানেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে হয়তো দক্ষতা এবং নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা যথাসম্ভব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

সরকার প্রধান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল। এ ধরণের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফের কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

তারেক রহমান বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

২০০২ সালের পর এসএসএফের রেড বুক সময়ের চাহিদানুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক এবং সময়োপযোগী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি এবং কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য রেড বুকে উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা অবশ্য জরুরি। তবে রেড বুকের নির্দেশনার পাশাপাশি সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নেরও সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। সুতরাং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য সকল নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। আমি মনে করি, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, আরও একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, অবশ্যই আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।

পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

আবদুল্লাহ আল নোমান পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড়ে যৌথ অভিযানে ডিবি ও থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।

পুলিশ জানায়, তাদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে অপহৃত শিশুর পরিবারের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা মুক্তিপণের চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের একজনের আনলক করা মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ চিরকুটটি আলামত হিসেবে জব্দ করে তদন্ত শুরু করে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল, সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সময়ে উদ্ধার হয় মুক্তিপণের সেই চিঠি।

নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশীরাই শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরাই পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটকও করেছিল।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ভোরে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পাশের ডোবা সংলগ্ন স্থান থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবার চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল উজবেকিস্তান। তবে নবাগতদের সেই রঙিন স্বপ্নকে লাতিন আমেরিকার মাঠের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল কলম্বিয়া। উজবেক ডিফেন্সের সব প্রতিরোধ ভেঙে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা লাতিন ছন্দে আক্রমণ চালাতে থাকে কলম্বিয়া। এরপরও প্রথম গোলে র জন্য ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এসময় গোল করে দলকে লিড এনে দেন ড্যানিয়াল মুনোজ। লুইস দিয়াজের দেওয়া পাসে গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ বাড়াতে থাকে উজবেকিস্তান। সেই সুবাদে ৬০তম মিনিটে আসে সমতাসূচক গোলটি। গোলটি করেন আববোসবেক ফয়জুললভ।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটির। এরপর উজবেকিস্তানের জালে আরও দুবার বল পাঠায় কলম্বিয়া। ৬৫তম মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন লুইস দিয়াজ। আর ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে ব্যবধান ৩-০ করেন জেমিনটন ক্যাম্পাজ।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করল কলম্বিয়া। সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান তাদের। আর টেবিলের তলানিতে রয়েছে উজবেকিস্তান।