খুঁজুন
, ,

মেয়র হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসন করবো : ডা: শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 14 January, 2021, 4:24 pm
মেয়র হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসন করবো : ডা: শাহাদাত

চসিক নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহবায়ক ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নাই। বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে চট্টগ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেই দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি। বর্ষা মৌসুমে নগর জুড়ে ভয়াবহ জলজট সৃষ্টি হয়। তখন মানুষকে বলতে শুনেছি চট্টগ্রাম অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামে আর বসবাস করা যাবে না। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন একটি মেগাসিটি, স্মার্ট সিটি, নির্মল পরিবেশবান্ধব শহর নগরবাসীর প্রত্যাশা। আমি মেয়র নিবার্চিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে জলাবদ্ধতা নিরসন করবো।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারী) নগরীর ২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ ও ২৭ নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন।

নগরীর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের বাদামতলী মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে মৌলভীপাড়া, চৌমুহনী বাজার, হাজিপাড়া, পানওয়ালাপাড়া, আসকারাবাদ, মিয়াবাড়ী, মোল্লাপাড়া, মুহুরীপাড়া, রঙ্গিপাড়া, শান্তিবাগ, বসুন্ধরা হয়ে মুন্সিপাড়া ও দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের হালিশহর শাপলা ক্লাবস্থ জিলানী টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হয়ে বেপারী পাড়া সিডিএ আবাসিক বুডির মাজার, বলির পাড়া, সিডিএ নং রোড, শিশু হাসপাতাল, শিশু পার্ক, আবিদের পাড়া হয়ে লাকি প্লাজার মোড়ে এসে পথসভায় মিলিত হন।

এসময় ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন জলবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে বলেন, নগর উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। যতদিন পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না ততদিন পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরবাসীর দুঃখ দুর্দশা লাঘব হবে না। নিবার্চিত হলে নালা—নর্দমা, খাল ও নদী খনন করে সার্বক্ষনিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবো। নগরবাসীর এসব প্রত্যাশা পূরণে নিজেকে আত্ননিয়োগ করবো। তাই সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর, বিটিসিএল, পিডিবি, সিজিডিএলসহ সেবা সংস্থাগুলো নিয়ে সম্মিলিত পরিকল্পনা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান করার উদ্যোগ নিব।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীতে অনেক এলাকায় এখনো গ্যাস, সুপেয় পানির সমস্যা রয়েছে৷ সে সব এলাকা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেখানে সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং গ্যাসের সংযোগ প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। বর্তমানে মশার প্রজনন মৌসুমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে৷ জনগণ মশার উপদ্রুপে এত বিরক্ত তা জীবন যাপনে কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মশা নিধনে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সকলের সহযোগিতায় মশার নিধনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে পরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে না, যার যখন যেখানে ইচ্ছে সেটা নির্মাণ করছে। চট্টগ্রামকে আগামী ২০—৫০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এ শহরের উন্নয়ন করতে হবে। ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ এসব পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সেবা সংস্থার সমন্বয় করবো। আগামী ৫০ বছর পর গিয়েও যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে। ব্যক্তি স্বার্থে চট্টগ্রামকে পিছিয়ে না নিয়ে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সকল শ্রেণি— পেশার মানুষ নিয়ে পরামর্শ কমিটি করে পরিকল্পিত, নান্দনিক, বাসযোগ্য নগরী হিসাবে গড়ে তুলবো।

গণসংযোগে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর বলেন, উন্নয়নের নামে সরকারের নেতাকর্মীরা শুধু পকেট ভারি করেছে। নগরবাসীর কল্যাণে কোনো কাজ করা হয়নি। শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা থেকেও মানুষ বঞ্চিত। খাদ্য দ্রব্যের দাম অনেক বেশি। এতে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন। আগ্রাবাদ এলাকায় প্রধান সমস্যা মাদক ও সন্ত্রাস। এই সরকারের আমলে এখানে মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসও ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থাও চরম পর্যায়ে ঠেকেছে। ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়র হলে এগুলো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন—মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল উদ্দিন, সদস্য গাজী সিরাজ উল্লাহ, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ডবলমুরিং থানা বিএনপির সভাপতি ও কাউন্সিল প্রার্থী মো. সেকান্দর, উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম ফরিদুল আলম, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী খালেদা বোরহান, নগর বিএনপি নেতা মাহবুবুল হক, মো. ইকবাল হোসেন, সাবের আহমেদ, বুলবুল আহমেদ, মো. জমির আহমদ, লুৎফুর আলম, নগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি হাজী মো. হোসেন, দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফয়েজুল ইসলাম, নগর তাতীদলের আহবায়ক মনিরুজ্জামান টিটু, দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির সা. সম্পাদক মঞ্জুর মিয়া, বিএনপি নেতা এড. সিরাজুল ইসলাম, সেলিম হাফেজ, ছালেহ জহুর, আব্দুর রহমান কোম্পানী, কামাল উদ্দিন সদার্র, মো: শহীদ, হাসান রুবেল, মিজানুর রহমান মোস্তফা, আব্দুল মাবুদ, নগর যুবদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ হারুণ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি খাইরুল আলম দিপু, মাঈনুদ্দিন রাশেদ, যুগ্ম সম্পাদক মো. সিরাজ, মো. আলমগীর, ওসমান গণি সিকদার, আবু সৈয়দ কালু, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, নগর ছাত্রদল নেতা জাফরুল হাসান রানা, রিয়াদ হোসেন, বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন, ইদ্রিস আলম, মো. জহুর, মো. সালাউদ্দিন, আলতাফ হোসেন, সিদ্দিক মিয়া, তাজুল ইসলাম রানা, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, নাজিম উদ্দিন খান, আব্দুল হাকিম, রেজাউল করিম মিঠু, দীন মোহাম্মদ, ছাদেকুর রহমান রিপন, অঙ্গ সংগঠনের নেতা বজল আহমদ, একরাম সিদ্দিকী, শফি রানা, তাজুল ইসলাম তাজু, জাহাঙ্গীর আলম বাচা, গোলাম শফি দুলু, হেলাল উদ্দিন, আবু নাঈম দুলাল, মো: রাজীব উদ্দীন, মো: আজাদ, মামুনুর রশীদ মামুন, নুরুল আলম মো. রাসেল, মো. মনির, মো. ইমন, মো. রণি, রাসেল খান, মো. লিটন, সাইমন হোসেন, বাকের, আকতার, জনি প্রমুখ।

Feb2
Feb2

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:44 pm
রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও যাত্রাবাড়ীতে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরে অভিজাত পরিবহন এবং প্রায় একই সময় পল্লবীর ১১ নম্বরে শিখড় পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রাত ৮টার দিকে বাড্ডায় আরেকটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পৃথক এই তিন ঘটনাস্থল ও এর পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর তল্লাশি ও টহল জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, দুর্বৃত্তরা মিরপুর-১ এ অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাসের একটি সিট পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, যাত্রীবেশে বাসে উঠে ১১ নম্বরে বাসে আগুন লাগিয়ে দুর্বৃত্ত নেমে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ফায়ার সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বিল্লাল নামে এক রিকশা চালক আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভার থেকে দুর্বৃত্তরা এই চারটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কন্ট্রোলরুম থেকে বেতার বার্তায় সব থানা পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে থাকতে বলা হয়েছে সব কর্মকর্তাকে। ডিএমপির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে একটি ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দিতে না পারে পারে সেজন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য মাঠে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগরের সাত স্থানে অন্তত ১২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ছাড়া একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার এবং প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর পাশাপাশি ঢাকা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

ডিএমপি জানায়, নগরীর নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া ‘পিকেট ডিউটি’ জোরদার করার কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, নগরজুড়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে টহলের পাশাপাশি হেঁটে টহলদলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে ডিবি, সিটিটিসি এবং এপিবিএন টিম মোতায়েন রাখার কথা জানায় ডিএমপি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করবে যেভাবেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থায় মাঠে রয়েছেন।

ককটেল–বাসে আগুনের ঘটনায় ২ মামলা

গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত সাতটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুলে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটক ও চৌরাস্তা মোড়ে অন্তত চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় একজন অটোরিকশাচালক আহত হন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মো. রায়হান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ককটেল ছোড়ার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুনের ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশদাতাসহ সাতজনের নামে মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণের কোনো আলামত না পাওয়ায় মামলা হয়নি। তবে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অপরদিকে মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের গুলশান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মহাখালী ফ্লাইওভারের ঢালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়াও শুক্রবার মালিবাগ, মগবাজার, বাবুবাজার ও রামপুরায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:29 pm
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

ফাহিম আহমেদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়। আটক তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতিমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়তে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 9:38 pm
খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়তে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ়, সুশৃঙ্খল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় প্রজন্ম গড়তে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। ক্রীড়া শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে লাখো শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এর ধারাবাহিকতায় বন্দরনগরীর স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নতুন প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার মধ্য দিয়ে সন্তানরা মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। তারা শৃঙ্খলাবোধ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বেড়ে উঠবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে।

তিনি জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি স্কুল অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাছাই শেষে ৪৮টি স্কুলের দলকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে এবং সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের স্কুল পর্যায়ের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে খেলতে গিয়ে একজন শিশু শেখে কীভাবে জয়কে গ্রহণ করতে হয়, পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং দলগতভাবে এগিয়ে যেতে হয়।

আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের স্কুল পর্যায়ে এত বড় পরিসরে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

ফাইনাল খেলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী খেলাধুলা থেকে দূরে সরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার আসক্তির দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে উঠতি বয়সী অনেক তরুণ-তরুণী মাদকের মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় পড়ালেখার পাশাপাশি সন্তানদের মাঠমুখী করা অত্যন্ত জরুরি।

টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’ ঘিরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্ষুদে ফুটবলার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ক্রীড়ানুরাগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, প্রাইজমানি ও অন্যান্য পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।