খুঁজুন
, ,

আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও প্রিয়নবীর (দ.) সন্তুষ্টি অর্জনে দ্বীনের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে: সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 February, 2021, 11:28 pm
আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও প্রিয়নবীর (দ.) সন্তুষ্টি অর্জনে দ্বীনের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে: সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ

কীর্তিমান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আওলাদে রাসূল (দ.) শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (মা.জি.আ.) ৫৪ তম খোশরোজ শরীফ বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতা এবং দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে উদ্যাপিত হয়েছে।

খোশরোজ মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, প্রতিকূল কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সর্বদা দ্বীন ইসলামকে আঁকড়ে ধরে রাখাই একজন মুমিন মুসলমানের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত। যুগে যুগে হকপন্থিরা নানা পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, কিন্তু সবর ও শোকরের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখতে হবে। মানুষকে সুপথে প্রতিষ্ঠিত রাখা এবং মানুষের সেবা করাই মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বার মূল উপজীব্য।

তিনি বলেন, মাইজভাণ্ডারী মহাত্মাদের জীবন মিশনই হলো দ্বীন প্রচার ও মানবকল্যাণ। আল্লাহ পাকের নৈকট্য, প্রিয়নবী (দ.) ও আউলিয়ায়ে কেরামের সন্তুষ্টি অর্জনে যাবতীয় প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দ্বীনের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। জনকল্যাণে নিবেদিত হয়ে এবং ধৈর্য ও ত্যাগের সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে ইনসানে কামেলের মর্যাদা অর্জন করতে হবে।

তিনি মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বার অনুসারীদেরকে জ্ঞান, সচ্চরিত্র ও আদর্শের শক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে ইহজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং পরকালীন নাজাতের পথ সুগম করার তাগিদ দেন।

খোশরোজ শরীফ উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা অগণিত ভক্ত জনতা হযরত শাহ্সূফী আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক)সহ দরবারের প্রসিদ্ধ রওজা সমূহে মিলাদ-জিয়ারত-মুনাজাতে শামিল হন। এসময় নিজেদের হাজত-মকসুদ ও বাঞ্ছা সিদ্ধির জন্য তাঁরা আউলিয়ায়ে কেরামের উসিলায় অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ জানান।

মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি শাহ্জাদা সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী, কার্যকরী সভাপতি শাহ্জাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহ্জাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন।

মাহফিলে অতিথি ও আলোচক ছিলেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব কাজী মহসীন চৌধুরী, আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াজ উদ্দীন মিয়া, আল্হাজ্ব কবীর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলহাজ্ব আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন ভুঁইয়া চাঁদপুরী, সহপ্রচার সম্পাদক শাহ্ মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া মাইজভাণ্ডারী, আন্জুমান চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি খলিফা মো: বোরহান উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী মো: শহীদুল্লাহ, খলিফা মো: সাইফুল ইসলাম, খলিফা মনির হোসেন প্রমুখ।

মিলাদ কিয়াম শেষে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ.)। পরে সবার মাঝে তবরুক পরিবেশন করা হয়।

Feb2
Feb2

যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন’র পরিবারের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 3:21 pm
যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন’র পরিবারের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন এর পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তর পতেঙ্গা সি ইউনিট বিএনপি নেতা হাজী ইলিয়াছ হোসেন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিবৃষ্টির কারণে পানি বন্দি পরিবার এর মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

ইকবাল হোসেন পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং মাইজপাড় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উত্তর মাইজপাড়া ৪১ নং এবং ৪০ নং ওর্য়াড় মাইজপাড়া এলাকার ২০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

এ সময় নেতৃবৃন্দরাসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 2:34 pm
জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে সকালে ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে ঢামেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:35 pm
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।