খুঁজুন
, ,

অনন্ত বিহারী খীসা ও জাতির পিতার সাথে তাঁর সম্পর্ক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 February, 2021, 12:11 am
অনন্ত বিহারী খীসা ও জাতির পিতার সাথে তাঁর সম্পর্ক

প্রদীপ চৌধুরী : অনন্ত বিহারী খীসা (এবি খীসা) পাহাড়ের এক নিভৃতচারী শিক্ষাবিদ। তিনযুগের অধিক শিক্ষকতার জীবন শেষ করেছেন ১৯৯৫ সনে। ১৯৩৭ সালের ৫ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়ি নামক দুর্গম এক পাহাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শতাব্দী প্রাচীন খবংপর্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর পাঠশালা জীবন শুরু। পাহাড়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে তিনি এক নেপথ্যের প্রতিভূ। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সমিতি’র গঠন প্রক্রিয়ায় তিনি তরুণ বয়সেই শামিল হয়েছিলেন। প্রয়াত কামিনী মোহন দেওয়ান জনসমিতির নেতৃত্ব দিলেও অনন্ত বিহারী খীসার প্রণোদনায় একঝাঁক তরুণ এই প্রক্রিয়ায় রাজনীতির পাঠ নেন। একই সাথে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম ছাত্র সংগঠন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

অনন্ত বিহারী খীসা জানান, আমি যখন ১৯৫৩ সালে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হই তখন কাপ্তাই বাঁধ দেয়ার জন্য পাকিস্তান সরকার গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। চট্টগ্রামের ‘কানুনগোপাড়া সরকারি স্যার আশুতোষ কলেজ’-এ পড়ার সময় পাশ্ববর্তী শ্রীপুর গ্রামে পাহাড়ি ছেলেদের একটি মেস ছিল।

এখানে উল্লেখ্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ কীর্তিমান মানুষ এই কলেজেই পড়তেন। ছাত্র সমিতির নেতৃত্বেই তৎকালীন সরকারের কাছে শিক্ষা সংক্রান্ত দাবি দাওয়া নিয়ে অনেকগুলি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। এই কথা স্বীকার করতেই হয়, পাকিস্তান সরকার এই সকল দাবি দাওয়ার খোঁজ খবর নিতেন না। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান ‘মার্শাল-ল’ জারি করলে এই সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ন দলিলপত্র হারিয়ে যায়। যখন কাপ্তাই বাঁধ হয় সেই ১৯৬০ সালেই অনন্ত বিহারী খীসা খাগড়াছড়ি হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। যদিওবা ১৯৫৮ সালেই বিপুলেশ্বর চাকমার (পন্ডিত স্যার) নেতৃত্বে স্কুল যাত্রা শুরু করে। এই সময় অশোক কুমার দেওয়ান, নবীন কুমার ত্রিপুরা এই স্কুলে শিক্ষক ছিলেন।

কাপ্তাই বাঁধ প্রসঙ্গে অনন্ত বিহারী খীসা বলেন, এটি একটি জীবন্ত মরণ ফাঁদ। আজকের এই দিনে পৃথিবীর যেকোন জায়গায় এরকম একটি বাঁধ হলে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন দানা বাঁধতো। আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি জানান, কাপ্তাই বাঁধের ফলে এক লক্ষ চাকমা উদ্ধাস্তু হয়ে ভারত পালিয়েছে। চুয়ান্ন হাজার একর উর্বর ভূমি পানির নিচে ডুবে গেছে। সে সময় সবচেয়ে ভাল জমির একর প্রতি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৬’শ টাকা। এ যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।

অনন্ত বিহারী খীসা কাপ্তাই বাঁধ চলাকালীন সময়ের জেলা প্রশাসক ছিদ্দিকুর রহমানের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন – তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কাছে আঠাশ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলাম। কিন্তু সরকার দিয়েছিল মাত্র এক কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ টাকা।

ছিদ্দিকুর রহমান লিখেন, জনচাপে আমি সরকারের কাছে আরও কিছু টাকা বরাদ্দের আবেদন জানালে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয় “ওরা জঙ্গলী লোক। জঙ্গলের ঘাস, লতা-পাতা আর আলু খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারবে।”

অনন্ত বিহারী খীসা সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও কাপ্তাই বাঁধের বেদনাময় স্মৃতি ভুলতে পারেননি। তিনি স্বীকার করেন, কাপ্তাই বাঁধের ফলে অনেক দুর্গম এলাকায় রাতারাতি নৌ যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বহারা চাকমাদের মাঝে শিক্ষার প্রতি অদম্য এক স্পৃহা জেগে উঠে। এই সময় পাকিস্তান সরকার বাঁধে ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বরাদ্দ দেন।

অনন্ত বিহারী খীসা কাপ্তাই বাঁধের পরিবেশগত বিপর্যয় সম্পর্কে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ন একটি প্রাকৃতিক সূতিকাগার ছিল। রাতারাতি বাঁধ দিয়ে এই অঞ্চলের হাজার বছরের ভৌগলিক-প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিনষ্ট করে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হল। তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কত শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। যাদের চোখের লোনা জলে কাপ্তাই বাঁধ হয়েছে সেসব অবুঝ মানুষদের কয়জন বংশধর বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি পেয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যে প্রতিবাদ করিনি তা নয়। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (প্রয়াত সংসদ সদস্য এমএন লারমা) সেই সময় প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেফতার হন। মূলত চাকমাদের সামন্ত শ্রেণী পরোক্ষভাবে পাকিস্তান সরকারের অনুকম্পাকামী হওয়ায় সাধারণ মানুষের সংগঠিত প্রতিবাদ সূচিত হতে পারেনি।

তিনি বলেন, এখন সমতলের মানুষের যতবেশী পার্বত্য অঞ্চলের খোঁজ-খবর রাখেন তখন এটা কল্পনা করা যেতনা। আমাদের যাঁরা প্রবীণ মানুষ ছিলেন তাঁরা প্রস্তাব করেছিলেন বাঁধটি আরো নীচে দিলে ক্ষয়ক্ষতি কম হত। কিন্তু তা হয়নি। সে সময়ে পাহাড়িদের সচেতন অংশ এই বাঁধ দেয়ার উদ্যোগটিকে পাহাড়ি উচ্ছেদের অংশ বলেই ধরে নিয়েছিল।

কাপ্তাই বাঁধ নির্মানে আমেরিকান দাতা সংস্থা ‘ইউএসএইড’-এর অর্থায়ন প্রসঙ্গে বলেন, তারা অবশ্যই পরোক্ষভাবে দায়ী। তবে মূলদোষী পাকিস্তান সরকারই। তিনি দৃঢ়তার সাথে মত ব্যক্ত করেন, কাপ্তাই বাঁধের মধ্য দিয়ে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সম্পর্কে বড় রকমের জানান হয়েছে।

অনন্ত বিহারী খীসা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার হন। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাহাড়ে বিশেষত চাকমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দেশ স্বাধীনের আগে আগে মুক্তিবাহিনী পানছড়ি, জোরমরম, ভাইবোনছড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং পাকিস্তানপন্থি আখ্যা দিয়ে চাকমাদের উপর ব্যাপক গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যায় পৈশাচিকতার মাত্রা এত ভয়াবহ ছিল যে আহত লোকজন হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হওয়ার সাহস করেনি। গোপনে এসকল মূমুর্ষ মানুষদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অভিযোগে আমাকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটানো হয়েছে। অনেকটা জনপ্রতিক্রিয়ার চাপেই আমাকে মুক্তি দিতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকালীন চাকমাদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, চাকমাদের রাজনৈতিক সচেতন অংশ গোড়া থেকেই পাকিস্তান বিরোধী দলে ছিল। এমনকি ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময়ও রাঙামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি ১৯৪৯-৫০ সালেও কামিনী মোহন দেওয়ান এবং স্নেহ কুমার চাকমা’র নেতৃত্বে পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। এখানে সবার জানা থাকার কথা যে চাকমা ও বোমাং রাজপরিবার পাকিস্তানমুখী ছিলেন। তখন সাধারণ পাহাড়িদের মাঝে রাজপরিবারগুলোর ব্যাপক প্রভাব ছিল। অনেকটা রূপকথার রাজার মত।

চাকমাদের ব্যাপক অংশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ছিলেন সাইদুর রহমান নামের এক পাহাড়ি বিদ্বেষী মানুষ। যদিওবা চারু কুমার চাকমা নামে মাত্র ঐ কমিটির সভাপতি ছিলেন। এই সময় রাঙ্গামাটির ডিসি ছিলেন হোসেন তৌফিক ইমাম প্রকাশ এইচ টি ইমাম। চাকমা তরুণদের বেশ কয়েকটি গ্রুপ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ট্রেনিংএ যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলে সাইদুর রহমান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বিদায় দেয়া হয়। এমনকি রাজা ত্রিদিব চন্দ্র রায়ের নাম ধরে বলেন, চাকমারা মুসলিম লীগের দালাল। প্রথম প্রথম রাজা ত্রিদিব রায়ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই ছিলেন বলে মত প্রকাশ করেন অনন্ত বিহারী খীসা। যথাযথ সম্মানবোধের অভাবেই এই দূরত্ব তৈরী হয়েছে।

অনন্ত বিহারী খীসা উল্লেখ করেন, চাকমা সমাজের সামন্ত শ্রেণীর আত্ম-সম্মান তখন খুব প্রবল ছিল। এক পর্যায়ে পাকিস্তান আর্মিকে রাঙ্গামাটিতে রাজা ত্রিদিব রায় স্বাগত জানালে চাকমাদের বিপুল অংশ মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নিস্পৃহ হয়ে উঠে এবং রাজা নিজে ‘জাতিসংঘ মিশন’-এ পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি দাবি জানান তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এন লারমা। একই সাথে চারু কুমার চাকমার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে বেশ কিছু দাবি দাওয়া তুলে ধরা হয়। এরকম একটা প্রতিনিধি দলে আমিও (অনন্ত বিহারী খীসা) ছিলাম কিন্তু সংসদে এবং সংসদের বাইরে এইসব দাবিকে প্রত্যাখান করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সামনেই এমএন লারমা ও চারু কুমার চাকমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, ‘আমি কাউকে পৃথক করার চিন্তা করছি না। আমি পাহাড়ি-বাঙালি সকলকে সমানভাবে দেখার স্বপ্ন দেখছি’।

অনন্ত বিহারী খীসা জানান, এই সময়ে আমরা একটি স্বতন্ত্র আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন বোধ করি। আমার বাসায় বেশ কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি আমরা জাতীয় রাজনীতিতেও সমানভাবে অংশ নেব। দেশ স্বাধীনের একটু আগে আমাকে সভাপতি এবং সন্তু লারমাকে সম্পাদক করে ‘ট্রাইবেল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’ গঠনের পর সবাই দ্রুত দল গঠনে মনোযোগ দেন। ‘৭২ সালের কোন এক দিনের রাঙ্গামাটির ইন্দ্রপুরী সিনেমা হলে পাহাড়ের বিশিষ্টজনদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সে সময় নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তরুণদের একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই গোপনে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল।

অনন্ত বিহারী খীসা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে পাহাড়িদের উপর পাহাড়ি রাজাকারদের অত্যাচার দমন ও পাড়ায় পাড়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত তরুণরাই পরবর্তীতে সময়ের প্রয়োজনে শান্তিবাহিনীরূপে আবির্ভূত হয়।

বাকশাল- এ যোগদান প্রসঙ্গে অনন্ত বিহারী খীসা বলেন, ‘বাংলাদেশের তৎকালীন বাস্তবতায় বাকশালের প্রয়োজনীয়তা ছিল’। হঠাৎ খবর এলো এনএম লারমা বাকশালে যোগ দিয়েছেন। তিনিই আমাকে বাকশালে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান- ‘শেখ মুজিব আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছেন, আমি আগে তোমাদের সম্পর্কে ভুল জেনেছি। আমি তোমাদের জন্য কিছু করতে চাই।’

অনন্ত বিহারী খীসা আরও বলেন, একদিন হঠাৎ করেই খবর এলো মং রাজা মং প্রু সাইন খাগড়াছড়ির গভর্নর আর আমি বাকশালের সেক্রেটারি মনোনীত হয়েছি। তার একদিন পরেই খাগড়াছড়ির এসডিও স্কুলেই আমাকে সংবর্ধিত করলেন। এই সময়ে ছাত্ররা বাধ সাধল আমি যেন স্কুল ছেড়ে না যাই। তখন আমি ছাত্রদের আশ^স্ত করে বলি, যদি শিক্ষকতা ছেড়ে দিতে হয় তাহলে আমি বাকশাল ছেড়ে দেব। অনন্ত বিহারী খীসা পঁচাত্তর পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, এটি একটি রক্তাক্ত সময়। বিপুল পরিমাণ সমতলের দরিদ্র বাংলাভাষিকে পাহাড়ে পুর্নবাসন করা হয়। যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত আছে।

তিনি প্রখ্যাত সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জনসংখ্যা দিয়ে স্বল্প জনসংখ্যাকে নিঃশেষ করার এমন জঘন্য ঘটনা একমাত্র বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামেই ঘটেছে। পৃথিবীতে ঈসরাইল ছাড়া আর কোথাও এর নজির পাওয়া যাবেনা। অনন্ত বিহারী খীসা মিজোরামসহ ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে চলমান বিদ্রোহ দমনেও এরকম ‘এথেনটিক ক্লিনজিং পলিসি’ নেওয়া হয়নি বলে মত দেন।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসা বাংলা ভাষীদের প্রসঙ্গে বলেন, বিভিন্ন প্রলোভণ দেখিয়ে সরকার তাঁদের নিয়ে আসলেও তাঁদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁরা এখনও অসহায়। শুধুমাত্র রেশন দিয়ে এত দীর্ঘ সময় এরকম জনগোষ্ঠীকে পালনের উদাহরণও একমাত্র বাংলাদেশেই হয়েছে। তিনি মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার দরিদ্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাথে দরিদ্র বাংলাভাষীদের সংঘাত লাগিয়ে দিয়ে প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

তিনি ১৯৮৯ সালে গঠিত ‘স্থানীয় সরকার পরিষদ (বর্তমানে পার্বত্য জেলা পরিষদ) প্রসঙ্গে বলেন, পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় আমি প্রথম দিকে সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম, এই পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় কোন স্বাধীন মতামত দেওয়া যাচ্ছিলনা তখন আমি নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ি। অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন ব্রিগেড কমান্ডার সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম আমার উপর খুবই রুষ্ট হয়েছিলেন।

পার্বত্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তির পরে অনেক কিছুই হওয়ার কথা ছিল। আশা করেছিলাম অনেক সমস্যার উত্তরণ ঘটবে। চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় একযুগপূর্তি হলেও মনে হচ্ছে যেন, পরিস্থিতি এখন চুক্তির আগের চেয়েও খারাপ। আশাবাদী হওয়ার মত কিছুইতো ঘটেইনি বরং যারা জীবনের মূল্যবান সময়গুলো যুদ্ধে অতিবাহিত করেছেন তাঁদের অনেকেই আজ হতাশ। তবে পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন হলে তিনি খারাপ কিছু দেখেন না বলে মত ব্যক্ত করেন।

পার্বত্য অঞ্চলের দুই আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ-এর মধ্যকার রক্তাক্ত হানাহানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্ত্রের ভাষায় কোন রাজনীতি হতে পারে না। আমি গোড়া থেকেই আত্মঘাতী সংঘাতের বিপক্ষে। মূলত সরকার পাহাড়ে সশস্ত্র সংঘাত দমনের সূত্র ধরেই সমতলের মানুষদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পাহাড়ে নিয়ে এসেছেন।

তিনি এখনও মনে করেন, যেকোন ধরনের অস্ত্র নির্ভর রাজনীতি পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে না। জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ-এর ঐক্য কামনা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ হানাহানির ফলে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। গত দশ বছরে পাঁচ শতাধিক মানুষ একে অপরের হাতে নিহত হয়েছে। প্রতিবন্ধী হয়েছে অনেকেই। ঘর-বাড়ি পোড়ানো, উদ্ধাস্তু হওয়া আর জীবনের অনিশ্চয়তা পাহাড়িদের জীবন আজ বিপর্যস্ত।

তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকেই ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সে প্রক্রিয়ায় প্রয়াত এমপি উপেন্দ্র লাল চাকমা ও প্রয়াত শিক্ষাবিদ নবীন কুমার ত্রিপুরাও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অন্তত দুটি রাজনৈতিক দল ইস্যুভিত্তিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে এক হলে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

বাংলাদেশের সার্বিক রাজনীতি ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভালো মানুষরা এখন রাজনীতিতে অসহায়। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে সৎ, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল মানুষদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য এখন জরুরী। তিনি সর্বশেষ মন্তব্য করেন, জীবন আমাদের নয়। সাংবাদিক কুররাতুল আইন তাহমিনার একটা উদ্ধৃতিই পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সময় উপযোগী মনে করেন অনন্ত বিহারী খীসা। আর সেই প্রিয় উক্তিটি তিনি উচ্চারণ করেন এভাবে, “বলির পাঁঠা যার- তাঁকে লেজে কাটা আর মুড়োই কাটার সার্বিক অধিকার তারই আছে।”

(সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছে বিগত ২০০৮ সালের মাঝামাঝি। এটি কিছু অংশ ওই সময়ে মঈনুল আহসান সাহেবের সম্পাদিত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ২০০০ নামক পত্রিকায় আংশিক প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস ও সমকালীন বাস্তবতায় সাক্ষাৎকারটি গুরুত্ব এখানে বিদ্যমান। পাঠমনস্ক পাঠকদের কথা মাথায় রেখে কিছু অপ্রিয় সত্য উহ্য রেখে এটি আবারও পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ করা হলো। আশা করি এটি ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠবে।)

প্রদীপ চৌধুরী: সভাপতি, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে/ রেজি: নং- চট্ট ২৮০৮)

Feb2
Feb2

জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:24 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন, খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সামষ্টিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কাজগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীর বড় খালগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের বিষয়টিও চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটাচলা, সাইকেল চালানো, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। খালকেন্দ্রিক উন্নয়নকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণ নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে সহায়ক হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সবুজায়ন, হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক, সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের অপচয় কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর নালা খাল পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্ষার আগে নালা ও খালের উন্নয়ন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেসব খালের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ১৩০টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি খালের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪১টি খাল উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অবশিষ্ট খালগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে খালগুলোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র জানান, বিমানবন্দর এলাকায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে খালকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা ও পানি নিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল এবং পানি সংরক্ষণের স্থানগুলোকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই চলমান প্রকল্পগুলোর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত ও সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৩০টি খালের মধ্যে ৩৭টি সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট খালগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারকাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীতে স্থাপিত স্লুইসগেট ও রেগুলেটরগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

আউটার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, কালুরঘাট পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর তীরবর্তী এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামছুল আলম শামস বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প প্রায় শেষের পথে। প্রকল্পটি শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে, প্রকল্পের বাহিরে থাকা খালগুলোও খনন করতে হবে এবং সংস্কারের পর রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প ও স্লুইসগেট স্থাপন করলেই হবে না, এগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানুষ ও যানবাহনের আশ্রয়ের উপযোগী উঁচু জায়গার সংকট দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা তুলনামূলক উঁচু করে নির্মাণের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অবকাঠামো বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টার অবতরণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুযোগও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট ও রেগুলেটর পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর দুপাশে অন্তত দুটি সংযোগকারী ‘ক্রস খাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মহেশখাল সম্প্রসারণসহ এ ধরনের খাল নির্মাণ ও সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি নৌচলাচলের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া রোধে ভবিষ্যতে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্চ ব্রিজের নকশা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হালিশহরে সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গৃহস্থালি বর্জ্যপানি সরাসরি ড্রেনে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নগরীর পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি পানি সরবরাহ পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আগামী ১০০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলাকার জন্য সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে দৈনিক ১০০ কোটি লিটার পানি শোধনের একটি প্রকল্প গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, অতি: বিভাগীয় কমিশনার মনোয়ারা বেগম, জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন, সিএমপির অতি: কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাপার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বিভাগের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল তারিকুল আলম, চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদ, সিটি রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:14 pm
দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

দুর্গাপূজা এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরের জেএমসেন হলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি বাংলাদেশের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পূজার আনন্দ ও উৎসবে অংশ নিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে একটি দেশ গড়তে চাই। সেই দেশে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, সবাই সমান সুযোগ পাবে। সবার অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি সমাজেই কিছু দুষ্ট লোক থাকে। তারা যেন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্য নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবার দুর্গাপূজার বেশ আগেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকলে এমন আনন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়। ছোটখাটো অসুবিধা থাকতে পারে। তবে সেগুলোকে বড় করে না দেখে দেশের সামনে থাকা সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতি বক্তব্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক
মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হয়েছিল, তখন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকা যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও মানুষের পাশে থাকা আমাদের অঙ্গীকার। আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের আয়োজনেও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা চাই, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন শ্রী হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, আশীর্বাদক শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস,হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী রাজীব ধর তমাল ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।

সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 2:50 pm
সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাইকেল চালানো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কে (ভিআইপি রোড) বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সাইকেল ট্র্যাক নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানে নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

এসময় আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের এই সাইকেল ট্র্যাক কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ শরীরচর্চা, বিনোদন ও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গাগুলোতে হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি গর্বের অর্জন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরও নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিকদের জন্য সাইক্লিং ও হাঁটার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ ও উৎসাহ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বড় সড়কের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক উন্নয়নেও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর সুবিধা ও সবুজায়ন করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

নগরীর উন্নয়ন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে যেন অবৈধ দখল, স্থাপনা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সে জন্য চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ভারী যানবাহনের চাপ সামলানো এবং সড়কের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।