খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাল্টে যাচ্ছে উত্তর চট্টগ্রামের চিত্র; দৃশ্যমান হচ্ছে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
পাল্টে যাচ্ছে উত্তর চট্টগ্রামের চিত্র; দৃশ্যমান হচ্ছে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: আধুনিক পেপার মেশিন ঢেলে যাচ্ছে বিটুমিনযুক্ত কাচামাল। সেই মেশিন আবার চেপেও যাচ্ছে। ইট-বালির সড়ক মুহুর্তেই কালো কার্পেটিং এ পাল্টে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে ফটিকছড়ি পৌর সদরের বিবিরহাট এলাকায়। এভাবে পাল্টে যাচ্ছে উত্তর চট্টগ্রামের চিত্র। দৃশ্যমান হচ্ছে সম্প্রসারিত হাটহাজারী-ফটিকছড়ি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩২.৫ কিলোমিটার সড়ক।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া মহা সড়কের উন্নয়ন কাজটি চলতি অর্থ বছরেই শেষ হবে বলে আশা করছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ইবিবিআইপি)-এর আওতায় সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও র‌্যাব আরসি লিঃ এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করছে। প্রকল্পের অধীনে বিদ্যমান ১৮ ফুট প্রস্থের সড়কটি সম্প্রসারিত হয়ে ৩৪ ফুটে উন্নীত হচ্ছে। হাটহাজারী বাসস্টেশন জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নাজিরহাট-ফটিকছড়ি শেষ সীমান্তে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি সীমান্ত আর্মি ক্যাম্প পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়কটি তিন লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। নির্মিত হচ্ছে ৩০৮ মিটারের ৩৮টি আরসিসি কালভার্ট। মোট ৪টি প্যাকেজে এ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর আওতায় হাটহাজারী থেকে সরকারহাট বাজার পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক ও ৯টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১.৮৭ কোটি টাকা। প্যাকেজ-২ এর আওতায় সরকারহাট থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত ৮ কি. মি সড়ক ও ১৩টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭.৯৩ কোটি টাকা।

প্যাকেজ-৩ এর আওতায় নাজিরহাট-বিবিরহাট পর্যন্ত ৮ কি. মি সড়ক ও ১১টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭.৩৬ কোটি টাকা।
প্যাকেজ-৪ এর আওতায় বিবিরহাট-আর্মি ক্যাম্প চেকপোস্ট নয়া বাজার পর্যন্ত ৮.৫ কি.মি সড়ক ও ৫টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩.৩১ কোটি টাকা। সড়ক-বাঁধ প্রশস্ত করতে ব্যবহার হচ্ছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৫ দশমিক ৬ ঘনমিটার মাটি।

হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে উত্তর চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়ত ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাগব হবে বলে মনে করছেন ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. ইছমাইল হোসেন।

তিনি আরো বলেন, উত্তর চট্টগ্রামে হাটহাজারী-ফটিকছড়ি সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার সড়কটি উন্নয়ন করে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে যানজট হলে বিকল্প সড়ক হিসেবে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি হয়ে ঢাকা এবং একই ভাবে কম সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি-ফটিকছড়ি-হাটহাজারী হয়ে চট্টগ্রাম যাতায়াত করা সম্ভব হবে।

নাজিরহাট পৌরসভার মেয়র মো. সিরাজ উদ দৌল্লা বলেন, এই সড়কের উন্নয়নের ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে ফটিকছড়ি- খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, মানিকছড়ি এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। কৃষি পণ্য পরিবহনও বাজারজাতকরণ সজহ হবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্টান র‌্যাব আরসি লিঃ এর প্রকল্প ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান জানান, চারটি প্যাকেজের মধ্যে তিনটি আমাদের প্রতিষ্টান বাস্তবায়ন করছে। আমরা প্রকল্পের হিংস ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। কিন্তু করোনা ও লক ডাউনের কারণর আমাদের তুলনামুলক বিল দিতে পারেনি সওজ। তাই আমরা এখন জ্বরুরী অংশগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছি।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার কামাল বলেন, প্রকল্পের সব কালভার্ট শেষ হয়েছে। এখন সড়কে কার্পেটিং এর কাজ চলছে। নয়া বাজার আর্মি ক্যাম্প থেকে কার্পেটিং সম্পন্ন হয়ে এখন ফটিকছড়ি বিবিরহাট সদরে চলছে। প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের কাজ গুলো দ্রুত সম্পন্ন হলে আশা করি এই অর্থ বছরেই আমরা সড়কের কাজ শেষ করতে পারবো।

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।