খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাল্লায় জলমহালে স্বাধীন মেম্বারের অবৈধ দখল ১২ বছর টাকার ভাগ কয়েক প্রভাবশালীর পকেটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
শাল্লায় জলমহালে স্বাধীন মেম্বারের অবৈধ দখল ১২ বছর টাকার ভাগ কয়েক প্রভাবশালীর পকেটে

বাপ্পা মৈত্র সিলেট প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মূলহোতা মেম্বার শহিদুল ইসলাম স্বাধীন ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ‘ছন উল্ল্যা গোছাখাই জলমহাল’ অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, এই বিলের টাকার ভাগ পাচ্ছেন কে বি ওয়াকফ এস্টেটের ম্যানেজার আব্দুর রহমান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ। এছাড়াও নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার পর স্বাধীন মেম্বার গ্রেপ্তারের আগের রাতে স্বাধীনের বাড়িতে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে মোশাররফ মিয়া ও রঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে।

আর তাদের কারণেই এলাকায় বেপরোয়া ছিলেন স্বাধীন। এই বিলটির কারণেই শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটিয়েছে স্বাধীন মেম্বার বলে দাবি এলাকাবাসীর।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কে.বি ওয়াকফ এস্টেটের স্বত্ব দখলীয় ছন উল্ল্যা গোছাখাই জলমহালটি ২০০৯ সালের পর থেকে প্রকাশ্যে নিলাম করা হয়নি। অথচ এ জলমহালটি প্রকাশ্যে নিলামের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার ও কে বি ওয়াকফ এস্টেটের মেতাওয়াল্লি বরাবরে বার বার আবেদন করে গেছেন উপজেলার নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, চন্দ্রপুর ও নাচনিসহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা। তারা সরকারকে বেশি পরিমাণ রাজস্ব দেওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেন। কিন্তু ঘুরে ফিরে বার বার পেয়ে গেছেন স্বাধীন মেম্বার। তাই এখন এ জলমহালটি দ্রুত প্রকাশ্যে নিলাম করার দাবি করছেন এলাকাবাসী।

এলাকার লোকজন জানান, সরকারি জলমহাল নীতি মালা উপেক্ষা করে কে বি ওয়াকফ এস্টেটের আব্দুর রহমান নিজে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে এত বছর ধরে এটি করে আসছেন। সে নিজেও অনেক বার শাল্লায় এসেছে। এই আব্দুর রহমানের কারণেই এত বছর ধরে বিলটির বৈধ্য নিলাম হচ্ছে না। আব্দুর রহমানের টাকা পেয়ে ৩ বছরের জায়গায় বিলটি ৫ বছর করে দিয়েছে ২০১৮ সালে। এখন এলাকাবাসী দাবি করছেন, এ জলমহালটির তদারকির দায়িত্ব সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে দিতে। কারণ এ জলমহাল নিয়ে আশেপাশের পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন মেম্বারের বিরোধ চলছিল। স্বাধীন মেম্বার প্রতি বছর বিলটি শুকিয়ে মাছ শিকার করত, যার কারণে আশপাশের ৫ টি গ্রামের মানুষকে জমি চাষের জন্য পানির সংকটে পড়তে হত। বিগত কয়েক বছর ধরেই বিল সেচা নিয়ে কোনো না কোনো গ্রামের মানুষের সাথে স্বাধীন মেম্বারের বিরোধ তৈরী হত। তারই ধারাবাহিকতায় নোয়াগাঁও গ্রাম বাসীর সাথে গত শুকনো মৌসুমে ঝামেলা হয় স্বাধীন মেম্বারের। দিতে হয়েছিল জরিমানা তাকে। তবে আশপাশ গ্রামের অনেকেই মনে করছেন স্বাধীন মেম্বার গ্রামবাসীকে ভয় দেখাতেই নোয়াগাঁওয়ে হামালা, ভাংচুর ও লুটপাত করিয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যবলীগের দুই নেতাও এ বিল থেকে টাকার ভাগ পান। সেই সাথে কে বি ওয়াকফ এস্টেটের ম্যানেজারও পান, তিনি আনেক বার এসেছেনও বিলে জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছন উল্ল্যা গোছাখাই জলমহালটি বৈধ ভাবে নিলামে পান সাবেক বিএমপি নেতা ও মেম্বার শহিদুল ইসলাম স্বাধীনের পিতা কেরামত আলী। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর প্রকাশ্যে নিলাম হওয়ার কথা থাকলেও ২০০৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ জলমহালটি প্রকাশ্যে নিলাম হয়নি।

এলাকাবাসির দাবি- মূলত স্বাধীন মেম্বারের সাথে এ জলমহাল নিয়েই আশেপাশের ৫ থেকে ৬ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক পরিবারের সাথে দ্বন্দ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। সে একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে হেফাজত ইসলামের নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে এক যুবকের দেয়া স্ট্যাটাসের জেরে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাত চালিয়ে।এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, কে বি ওয়াকফ এস্টেটের ম্যানেজার মো. আব্দুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিলে এ জলমহালটি অবৈধভাবে ভোগ করে চলছেন। এ জলমহাল থেকে কে বি ওয়াকফ এস্টেটে ম্যানেজার মো. আব্দুর রহমান প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে যেতেন সিলেটে বসেই। আমরা প্রতি বার স্বাধীন মেম্বারের থেকে দ্বিগুণ টাকা রাজস্ব দিয়ে বিল ইজারা নিতে বিভাগীয় কমিশনার ও কে বি ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি বরাবরে আবেদন করেও কোন সমাধান পাইনি। প্রতি বছর ধান চাষের সময় এলেই পানির অভাব দেখা দিত, কারণ স্বাধীন মেম্বার বিলটি মেশিন লাগিয়ে শুকিয়ে মাছ শিকার করত। শুকিয়ে মাছ শিকারের কারণে তাকে জরিমানাও দিতে হয়েছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা শাল্লা উপজেলার মানুষ হয়েও জলমহালটি বৈধভাবে ভোগদখল করতে পারিনি। কিন্তু শহিদুল ইসলাম স্বাধীন দিরাই উপজেলার বাসিন্দা হয়েও কি ভাবে এত বছর ধরে অবৈধ ভাবে বিলটি ভোগদখল করছে। এই স্বাধীনের কারণে প্রতি বছর আমাদের জমি চাষের সময় পানির সংকটে পড়তে হয়। আমরা এ জলমহালটি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অধীনে ইজারা দিতে দাবি জানাচ্ছি।

তাহলে আমাদের ধান চাষের সময়ে পানির অভাব হবে না।এলাকার প্রবীণ মুরব্বী ও বর্তমান মেম্বার আবু বক্কর মেম্বার বলেন, এ জলমহালটি প্রকাশ্যে নিলামের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার ও কে বি ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি বরাবরে বার বার আবেদন করে গেছেন উপজেলার নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, চন্দ্রপুর ও নাচনিসহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা। আমরা সরকারকে বেশি পরিমাণ রাজস্ব দেওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেন। কিন্তু ঘুরে ফিরে বার বার পেয়ে গেছেন স্বাধীন মেম্বার। জলমহালটি দ্রুত প্রকাশ্য নিলাম করার দাবি করছেন এলাকাবাসী।দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক প্রদীপ রায় বলেন, মূলত এই বিলটির কারণেই শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটিয়েছে স্বাধীন মেম্বার। এ বিল নিয়ে আশপাশের ৫ গ্রামের সাথে তার বিরোধ দীর্ঘদিনের, সে সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। আমরা দ্রুত ছন উল্ল্যা গোছাখাই জলমহালটির প্রকাশ্য নিলাম চাই। জলমহালটি প্রকাশ্যে নিলামের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার ও কে বি ওয়াকফ এস্টেটের মেতাওয়াল্লি বরাবরে বার বার আবেদন করে কোন সুফল পাওয়া যায় নি।

কে বি ওয়াকফ এস্টেটের ম্যানেজার আব্দুর রহমান এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে, এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমি সিলেটে নতুন এসেছি। শাল্লার জলমহালের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব।

২৪ঘণ্টা/রানা /বাপ্পা

Feb2

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ( ১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে আলোচনায় আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে আজ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহ। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপিত চারার মধ্যে রয়েছে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, ঝাউ, হিজল, বহেরা, চিকরাশি ও মেহগনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বন বিভাগের আওতায় প্রায় ১৮ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৭ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বন বিভাগে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০, উপকূলীয় বন বিভাগে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৫ হাজার ২৮৯টি চারা রোপণ করা হবে।

এ ছাড়া সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৬ হাজার গাছ লাগানো হবে।

গাছের সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক সচেতনতা। এই গাছ আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাকালে আমরা অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের গাছ মনে করে এসব চারার পরিচর্যা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা ভাগ্যবান যে এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও তো পদ্মলোচন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার কষ্ট হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশেপাশে কাদেরকে বসিয়েছেন? ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। তিনি দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে তিনি বলেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে—এগুলো মিথ্যা, আর ভুয়া।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। আমার করুনা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত এসমস্ত ভুলভাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চষবে না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।