খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হাসপাতাল চালুর আগেই বিতর্কিত চিকিৎসকের পদায়ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হাসপাতাল চালুর আগেই বিতর্কিত চিকিৎসকের পদায়ন

সিলেট প্রতিনিধি: 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর আগেই এক বিতর্কিত চিকিৎসককে আবাসিক চিকিৎসক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। নতুন ভবন যেখানে এখনো আউটডোর-ইনডোর স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হয়নি সেখানে কিভাবে আবাসিক চিকিৎসক দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল এসোসিয়েশন।

তাছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত মানুষজনও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন যেখানে সরকার সারাদেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসকদেরকে মানুষের সেবার জন্য হাসপাতালে পদায়ন করছে সেখানে সেবা চালুর আগেই দুর্নীতির মাধ্যমে দায়িত্ব ফাঁকি দিতেই এমন পদায়ন করা হয়েছে।
জানা যায়, সদ্য নির্মিত সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু না হওয়ায় সরকারি সিদ্ধান্তে সেখানে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কোন কার্যক্রম সেখানে নেই। কিন্তু হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে এক চিকিৎসক ডা. মোজাহারুল ইসলামকে পদায়ন করা হয়েছে গত বুধবার। তিনি যোগদানও করেছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সুবিধভোগী একটি বিতর্কিত গোষ্ঠীকে নিয়ে।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছাতক উপজেলার কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক মোজাহারুল ইসলাম একজন চিকিৎসক। কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে কৈতক হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করায় তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে বিব্রত করছেন স্বাস্থ্য বিভাগকেও। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুইজন সংবাদকর্মী থানায় হুমকি ধমকির অভিযোগও করেছিলেন। কৈতক হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন। কিন্তু জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক থাকায় তিনি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছিলেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি অনেক বিতর্কিত কাজের কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তাকে বদলির সুপারিশ করে বলে জানা গেছে। এই বিষয় অবগত হয়ে তিনি দায়িত্ব ফাঁকি দিতে সিভিল সার্জনকে ম্যানেজ করে চালু হয়নি এমন একটি হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসকের তদবির করেন। অবশেষে সিভিল সার্জন ও সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তিনি চালু না হওয়া দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসক (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব নিয়ে বদলি হন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হাসনাত হোসাইন ও কামরুল ইসলাম শিপন সহ কয়েকজন সুবিধাভোগী ব্যক্তি তাকে স্বাস্থ্য বিভাগে তদবির করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে নিয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুনামগঞ্জের সংস্কৃতিকর্মী মানব তালুকদার বলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন কার্যক্রমই চালু হয়নি। এই অবস্থায় এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। কারণ জেলা সদর হাসপাতালেই চিকিৎসক নেই। এখানে পদায়ন না করে মূলত জনগণকে সেবাবঞ্চিত করতেই চালু না হওয়া একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জে সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন এক জায়গায় দায়িত্ব পালন কালে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে। তাই তাকে বদলি করা হয়েছে। যেখানে কোন কার্যক্রমই নেই সেখানে কিভাবে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশি বুঝার দরকার নেই’।
সুনামগঞ্জ বিএমএ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, যেখানে কোন কার্যক্রমই নেই সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া ঠিক হয়নি। কারণ জেলা সদরসহ অনেক চালু হাসপাতাল চিকিৎসক সংকটে ভোগছে। তিনি বলেন, সরকার যেখানে মেডিকেল কলেজগুলো থেকে চিকিৎসক এনে হাসপাতালে পদায়ন করছে। সেখানে সিভিল সার্জন কেনো কার্যক্রম চালু নেই এমন হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিলেন এটা তিনি ভালো বলতে পারবেন।
হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুর আগেই পদায়নের বিষয়ে স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া জানান, পদ থাকলেই পদায়ন করা যায়। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন প্রয়োজন মনে করেছে বিধায় পদায়ন করা হয়েছে।

২৪ঘণ্টা/বি এম

Feb2

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ( ১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে আলোচনায় আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে আজ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহ। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপিত চারার মধ্যে রয়েছে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, ঝাউ, হিজল, বহেরা, চিকরাশি ও মেহগনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বন বিভাগের আওতায় প্রায় ১৮ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৭ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বন বিভাগে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০, উপকূলীয় বন বিভাগে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৫ হাজার ২৮৯টি চারা রোপণ করা হবে।

এ ছাড়া সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৬ হাজার গাছ লাগানো হবে।

গাছের সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক সচেতনতা। এই গাছ আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাকালে আমরা অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের গাছ মনে করে এসব চারার পরিচর্যা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা ভাগ্যবান যে এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও তো পদ্মলোচন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার কষ্ট হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশেপাশে কাদেরকে বসিয়েছেন? ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। তিনি দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে তিনি বলেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে—এগুলো মিথ্যা, আর ভুয়া।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। আমার করুনা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত এসমস্ত ভুলভাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চষবে না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।