সিলেটে করোনায় ৬ দিনে ৪২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৩৫০ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনও উদাসীন মানুষজন
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট বিভাগে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার। গত বুধবার থেকে গতকাল সোমবার এ ছয়দিনে সিলেটে করোনায় আরও ৪২ জনের মৃত্যু ও নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৫০ জন। গতকাল সোমবারে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এ নিয়ে বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৩১ জনে। গতকাল সোমবার সকালে স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগীয় পরিচালক স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সিলেটের করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-সহ বেসরকারি করোনা হাসপাতাল গুলোতে বেড়েই চলছে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি রোগী হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীরই প্রয়োজন হচ্ছে আইসিইউ সেবা, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলোকে। এবার ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ করোনা রোগীর ক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়ছে অক্সিজেন সাপোর্ট।
মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সিলেটসহ দেশব্যাপী ‘কঠোর’ লকডাউন চলাকালেও সিলেটে বেড়েই চলছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা। লকডাউনেও ঠেকানো যাচ্ছে না সিলেটে যানবাহন ও মানুষের চলাচল। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধির মনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষেরা এখনও আগের মতই উদাসীন। এসময় রাস্তায় মানুষজনকে দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল করতে।
সিলেট নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, লামাবাজর, মদিনামার্কেট এলাকায় দেখা যায়, রাস্তায় বের হওয়া বেশির ভাগ মানুষজন এখনও স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে উদাসীন। কিছুতেই যেন স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাচ্ছেন না তারা। নগরে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা, সেই সাথে বেড়েছে নগরে যানবাবন, ফুতপাতে বসা হকার, ভাসমান ফল ও সবজি বিক্রেতাদের সংখ্যা। দোকানের বিক্রেতারাও ব্যবহার করছেন না মাস্ক। এছাড়াও নগরের ভাসমান ফল ও সবজি বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। তাদের কারো মুখেই ছিল না মাস্ক, কেউ কেউ আবার থুতনিতে লাগিয়ে রেখেছেন মাস্ক। বন্দর বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত, সেই সাথে নগরের কাচাঁ বাজারগুলোতে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, এখনও যদি সচেতনতা আরও বাড়ানো না যায়, তবে করোনা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে। কাজেই মানুষকে মাস্ক পরতে হবে, ঘনঘন হাত ধুতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে চলতে হবে। সতর্কতা অবলম্বন না করলে সংক্রমণের হার বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জানান, ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ১৬ জন রোগী আছেন আইসিইউ বেডে ভর্তি। বর্তমানে সিট খালি থাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী ভর্তি করা হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ কমেনি।
স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় উত্তরপূর্বকে বলেন, মানুষেরা করোনা উপসর্গ নিয়ে বাসায় থাকছেন, সময় মত হাসপাতালে আসতে চান না। যখন তাদের অবস্থা গুরুত্বর হয়ে যায় তখন হাসপাতালে আসেন। যার কারণে সিলেটে মৃত্যুহার বেড়েছে। তিনি আরও বলেন- করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই, কিন্তু মানুষজন এখনও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীন রয়েছেন। নানা অজুহাতে বাহিরে আসছেন মানুষেরা।
২৪ঘণ্টা /রাসেল


আপনার মতামত লিখুন