খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি স্বাধীন রাজ্যের স্বপ্ন তাহিরপুর সীমান্তে বিপ্লবী রাজা উইক্লিব সিমের নির্বাসিত জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
একটি স্বাধীন রাজ্যের স্বপ্ন তাহিরপুর সীমান্তে বিপ্লবী রাজা উইক্লিব সিমের নির্বাসিত জীবন

সিলেট প্রতিনিধি : 

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকা ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে নির্বাসিত এক বিপ্লবী রাজা উইক্লিব সিমকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন স্থানীয় আদিবাসীরা। তিনি নিজের রাজ্যের স্বাধীনতা চেয়ে সারা জীবনের জন্য হয়েছিলেন নির্বাসিত। তবে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বপ্ন দেখেছেন একটি স্বাধীন রাজ্যের।

উইক্লিব সিম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যদি নিজের রাজ্যে ফিরতে হয়, তবে বিজয়ীর বেশে স্বাধীন রাজ্যেই ফিরবো। বিদেশিদের অধীনে আত্মসমর্পণ করে বন্দি হতে নয়, যার কারণে খাসিয়া আধিবাসীদের কাছে উইক্লিব সিম এক স্বপ্নদর্শী ও আদর্শদিক নেতা। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালেই তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলো তার রাজ্যে, কিন্তু সে রাজ্য হয়ে যায় ভারতীয় আধিপত্যের অংশ, আর উইক্লিব সিমকে করা হয় সারা জীবনের জন্য নির্বাসিত। এছাড়াও উইক্লিব সিম ছিলেন প্রথম খাসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। বংশ পরম্পরায় উইক্লিবরা খাসি হিলের নংস্তৈন শাসন করত। লোকজন তাদের রাজা বলে ডাকত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং উইং কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ওয়েস্ট খাসি হিলস জেলার হিমা নংস্তৈন (নংস্তৈন রাজ্য) এর খিন্নাহ বা উপ-রাজা ছিলেন তিনি।উইক্লিব সিমের ছেলে কেন্দ্রীয় আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এন্ড্রু সলমার জানান- উইক্লিব তাঁর নির্বাসিত জীবনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নিজের রাজ্য বা ভারত শাসিত কোন ভূখÐে তিনি পা রাখবেন না। যদি নিজের রাজ্যে ফিরতে হয়, তবে বিজয়ীর বেশে স্বাধীন রাজ্যেই ফিরবো। বিদেশিদের অধীনে আত্মসমর্পণ করে বন্দি হতে নয়। তবে দেশভাগের মাধ্যমে সৃষ্ট বৃহৎ দুই রাষ্ট্রের আড়ালে তাঁর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়, সেইসঙ্গে তার স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও ভেঙে যায়। নিজ জন্মভূমিতে না ফেরার প্রতিজ্ঞার পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাকে অনুমতি দেয় এখানে বসবাসের, আর নিজের রাজ্য ও সম্প্রদায়ের খুব কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা নিয়েই তিনি বসতি স্থাপন করেন তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তের রাজাই গ্রামে। এন্ড্রু আরও বলেন, তাহিরপুরের এই পাহাড়ি অঞ্চল ভূতত্ত¡গতভাবে খাসি পাহাড়েরই অংশ ছিলো। বাবার কাছে এ স্থানটি তাঁর জন্মভূমির মতোই ছিলো। আর এখানেই আমার মাকে বিয়ে করে স্থায়ী হয়ে যান।

ইতিহাসবিদ ডেভিড রিড সিমলিয়া তাঁর প্রবন্ধ ‘কন্সটিটিউশনাল ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য খাসি এন্ড জৈন্তিয়া হিলস ১৮২৪-১৯৫০’ এবং হেলেন গিরি সিম তার বই ‘খাসিজ আন্ডার ব্রিটিশ রুল’ এ দেশভাগের সময়কার খাসি রাজ্যগুলোর বিভিন্ন ঘটনার আলোকপাত করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, দেশভাগের সময় ১৯৪৭ সালের ৯ আগস্ট খাসি হিলসের ২৫ টি খাসি রাজ্য ভারতের সঙ্গে স্ট্যান্ডস্টিল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পি গ্রেসফুলনেস বোনি তার ‘অ্যান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ হিস্ট্রি অব হিমা নংস্তৈন ইন দ্য কলোনিয়াল পিরিয়ড’ গবেষণা প্রবন্ধেও নানা ইতিহাসবিদ ও মৌলিক তথ্য-উপাত্তের আলোকে ভারতীয় উপমহাদেশের এই ক্ষুদ্র রাজ্যটির নানা পর্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর, ২৫ টি খাসি রাজ্যের মধ্যে ১৯ টি রাজ্য একীভূতকরণের দলিলে (ওহংঃৎঁসবহঃ ড়ভ অপপবংংরড়হ) স্বাক্ষর করে ভারতীয় রাজ্যের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে, ৬ টি খাসি রাজ্য এ দলিলে স্বাক্ষর করেনি এবং তার মধ্যে নংস্তৈন ১৯৪৮ সালের ১৩ জানুয়ারি স্বাধীনতা ঘোষণা করে। নবগঠিত এ রাজ্যে উইক্লিব সিমের মামা রাজা সিব সিং সিম রাষ্ট্রপ্রধান ও উইক্লিব সিম রাজ্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। খাসি ভূমির ইতিহাসের উপর লিখিত ইতিহাসবিদ আই নোংগব্রির বই ‘কা হিস্টোরি কা রি হায়নিউইট্রিপ’তে লিখেছেন খাসি রাজ্যগুলোকে একীভূতকরণের দলিলে স্বাক্ষর করাতে আসাম সরকারের এক প্রতিনিধি সৈন্যবাহিনী নিয়ে খাসি হিলসে আসেন ১৯৪৮ সালের ১০ মার্চ। পরে ১৮ মার্চ তারা রাজা সিব সিং সিমকে আটক করে এবং তার পরদিন রাজাকে বাধ্য করেন একীভূতকরণের দলিলে স্বাক্ষর করতে। অন্য পাঁচটি রাজ্যকেও একইভাবে ভারতীয় অঙ্গ-রাজ্যভুক্ত করা হয়।

উইক্লিব সিম তখন রাজ্যর রাজধানী থেকে দূরে সীমান্তবর্তী মহেষখোলা (বর্তমান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত) এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং এ সুযোগে তৎকালীন আসাম রাজ্য সরকার উইক্লিবের নংস্তৈনে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেয়। রাজা সিব সিং সিমকে আটক করে একীভূতকরণ দলিলে স্বাক্ষর করার বিষয় জানতে পেরে ২০ মার্চ ভারতীয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে একটি চিঠি লিখেন উইক্লিব। এ চিঠিতে উইক্লিব প্রধানমন্ত্রী নেহেরুকে নংস্তৈন রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণা করার বিষয়টি উল্লেখ করে অনুরোধ জানান, নংস্তৈন রাজ্যে আসাম সরকারের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কর্মকাÐ বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার যেন আদেশ দেয়।পরবর্তীতে নির্বাসিত নেতা হিসেবে ঢাকাতে অবস্থান নিয়ে বৈশ্বিক সমর্থনের লক্ষ্যে ২৪ মার্চ জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব ট্রিগভেলিকে একটি টেলিগ্রাম পাঠান বলে দ্য স্টেটসম্যানের ২৮ মার্চ সংখ্যায় একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। টি রেংগেইড তার ‘উ উইক্লিব সিম’ বইয়ে দাবি করেন, বৈশ্বিক সমর্থনের উদ্দেশে জাতিসংঘের সদর দপ্তরেও গিয়েছিলেন উইক্লিব। তবে শেষ পর্যন্ত উইক্লিবের একক স্বাধীকার সংগ্রামম ব্যর্থ হয় ও নংস্তৈন ভারতের অঙ্গরাজ্যের অংশ হিসেবেই থেকে যায়। একীভূতকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে খাসি রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ এবং বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে কর্তৃত্ব দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো রাজ্য ইন্সট্রুমেন্ট অব মার্জারে (ওহংঃৎঁসবহঃ ড়ভ গবৎমবৎ) স্বাক্ষর করে পূর্ণাঙ্গভাবে ভারতের অংশ হয়নি।

উইক্লিবের জীবন: উইক্লিব সিম ১৯০৯ সালের ১৫ আগস্ট নংস্তৈনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালে গুজরাটের বরোদা কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে খাসি জাতিগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রথম প্রকৌশলী হন। পরবর্তীতে লন্ডন থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে নিজ রাজ্যে ফিরে এসে ১৯৪০ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং উইং কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাসিত হওয়ার পর উইক্লিব তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্থায়ী হয়ে প্রকৌশলী হিসেবেই নিজের নতুন কর্মজীবন শুরু করেন বলে জানান তার ছেলে এন্ড্রু সলোমার । এন্ড্রু বলেন, সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জ সার কারখানা, চট্টগ্রামের মিতসুবিশি মোটর ফ্যাক্টরি, জয়পুরহাট সুগার মিলসহ নানা প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। ১৯৭১ সালে অবসরে যাওয়ার সময় তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টেকেরঘাট চুনাপাথর প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ১৯৮৮ সালের ২১ অক্টোবর, নির্বাসিত জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নংস্তৈনের এই উপ-রাজা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী এই নেতা তার প্রতিজ্ঞায় অটল ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তাকে রাজাই গ্রামে সমাহিত করা হয়। তার এক স্ত্রী ও বংশধররা এই গ্রামেই বসবাস করছেন এবং অপর স্ত্রীর পক্ষের বংশধররা বর্তমানে মেঘালয়ে আছেন। উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা খাসি রাজা তিরোত সিং ও খাসি মুক্তি সংগ্রামী উ কিয়াং নাংবাহ এর মতো উইক্লিব সিমও খাসি জাতিগোষ্ঠীর এক বিপ্লবী চরিত্র। ইতিহাসবিদ ও নতুন প্রজন্ম তাকে হায়নিউইট্রিপ জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেই বিবেচনা করে এবং প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন নংস্তৈন ও মেঘালয়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

২৪ঘণ্টা রাসেল

Feb2

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ( ১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে আলোচনায় আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে আজ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহ। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপিত চারার মধ্যে রয়েছে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, ঝাউ, হিজল, বহেরা, চিকরাশি ও মেহগনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বন বিভাগের আওতায় প্রায় ১৮ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৭ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বন বিভাগে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০, উপকূলীয় বন বিভাগে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৫ হাজার ২৮৯টি চারা রোপণ করা হবে।

এ ছাড়া সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৬ হাজার গাছ লাগানো হবে।

গাছের সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক সচেতনতা। এই গাছ আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাকালে আমরা অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের গাছ মনে করে এসব চারার পরিচর্যা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা ভাগ্যবান যে এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও তো পদ্মলোচন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার কষ্ট হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশেপাশে কাদেরকে বসিয়েছেন? ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। তিনি দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে তিনি বলেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে—এগুলো মিথ্যা, আর ভুয়া।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। আমার করুনা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত এসমস্ত ভুলভাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চষবে না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।