খুঁজুন
, ,

রাউজানের স্কুলছাত্রী অভিমানী রুনার এ ঘুম আর ভাঙবেইনা !

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 7 November, 2019, 5:28 pm
রাউজানের স্কুলছাত্রী অভিমানী রুনার এ ঘুম আর ভাঙবেইনা !

হালকা-পাতলা গঠনের মেয়েটিকে ঘিরে নিম্নবিত্ত পরিবারটির ছিল আকাশ সমান স্বপ্ন। পরিবারে অভাব-অনটান লেগে থাকলেও মেয়ের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নটা ঠিকই আশার বেলুন হয়ে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে আব্দুল মন্নানের পরিবারে। মেয়েটি একদিন কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকে সমাজে পরিবারের মুখ উজ্জল করবে আরো কত্তো রঙিন স্বপ্ন উঁকি দিত চিকদাইর মাওলানা বদিউর রহমান বাড়ির ঝরাজীর্ণ এক কুটিরে।

না, মেয়েকে নিয়ে বাবা-মা’র সেই স্বপ্ন আর কোনোদিন পূরণ হবেনা। অনেকটা বুকভরা অভিমান নিয়ে পরিবারের আদুরে মেয়েটি চোখ দুটো যে বন্ধ করলেন চিরদিনের জন্য সেই চোখজোড়া আর কখনো আলোর মুখ দেখবেনা।

বাবা-মা, পরিবারের স্বজনদের চোখের জলে ভাসিয়ে বুধবার সকালে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বুকের মানিকধনকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় মা নয়ন বেগম।
নিজের চোখের কাছে মেয়ের ব্যাথাতুর ছয়মাসের যে দৃশ্যপট তা কিন্তু কোনোদিন ভুলতে পারবেন রুনা আকতারের মা! তাইতো তার বুকফাঁটা আহাজারিতে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে বাড়ির আশপাশে।

গতকাল বুধবার সকালে চিকদাইর শাহাদাৎ ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ছাত্রী রুনা আকতারের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন থাকায় রুনা আকতারের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে রাউজান থানা পুলিশ।

ময়না তদন্ত শেষে তার লাশবাহী গাড়ি যখন রাত আটটার দিকে বাড়িতে প্রবেশ করে তখন শেষবারের মতো মেয়েটিকে দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ ছুটে আসে তার বাড়িতে। তখন বাড়িজুড়েই কান্নার রোল। রাত এগারটার দিকে নামাজে জানাজা শেষে তাকে এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলছাত্রী রুনা আকতারের সাথে প্রতিবেশী রুবেলের আত্মীয় পটিয়া শিকলবাহা জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান বাড়ির কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম অভির সাথে তার প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল। গত ৩ এপ্রিল চিকদাইওে নেওয়াজ গাজীর ওরশ উপলক্ষে মেলায় অভির সাথে ঘুরতে যান রুনা। বিষয়টি এলাকার কিছু যুবকের দৃষ্টিগোচর হলে টের পেয়ে মেলা থেকে সটকে যান অভি। এ সময় মেলায় প্রতিবেশী নুরুল আমিনের ছেলে মঞ্জুর হোসেন (২২), কবির আহম্মদের ছেলে কফিল উদ্দিন (২০) মো. বশিরের ছেলে হেলাল (২০) ফয়েজ আলীর ছেলে বেলাল (১৯) সহ অজ্ঞাতনামারা উত্তক্ত্য করেন বলে তার পরিবারের সদস্যদের জানান। মেলার আশপাশে একটি বোরকা পরা মেয়েকে বিচলিতভাবে ঘুরতে দেখে চিকদাইর শাহাদাদ ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকের হোসেন মাস্টার মেয়েটিকে কাছে ডেকে পরিচয় শনাক্ত করে তার পরিবারের স্বজনদের খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেন। বিষয়টি নিয়ে রুনা আকতারকে তার পিতা প্রচন্ড বকাঝকা করেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে রুনা আকতার গোয়ালঘরে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকালে তাকে সেখান থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরিমধ্যে এলাকার কয়েকজন যুবকের নাম উল্লেখ করে মেয়েকে উক্ত্যক্ত করার ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন স্কুল ছাত্রী রুনার বাবা আব্দুল মন্নান। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই। আরিফুল ইসলাম অভিকে মামলায় সাক্ষী করে আসামি বেলালকে অব্যাহতি দিয়ে করা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের সাব ইন্সপেক্টর মো. কামাল আব্বাস মামলাটি তদন্ত করে ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে রুনা আকতারকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় প্রতিবেশী নুরুল আমিনের ছেলে মঞ্জুর হোসেন (২২), কবির আহম্মদের ছেলে কফিল উদ্দিন(২০) বাশির উদ্দিনের ছেলে হেলাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে চমেকের নিউরো সার্জারি বিভাগে ৯ মে পর্যন্ত ১ মাস ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রুনাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে মুমুর্ষ অবস্থায় দীর্ঘ ছয়মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকা মেয়েটি গতকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

Feb2
Feb2

চিকিৎসক মেহেদী-শেফাতুজ্জাহান’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 31 July, 2026, 2:27 pm
চিকিৎসক মেহেদী-শেফাতুজ্জাহান’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান ও ডা. শেফাতুজ্জাহানকে উদ্দেশ্যে করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হসপিটাল মেডিকেল কলেজ টিসার্স এসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন।

সংগঠনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. অসিম কুমার বড়ুয়া ও জেনারেল সেক্রেটারি ডা. রানা চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপি নিম্নরূপঃ

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি কিছু অননুমোদিত অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান, সহযোগী অধ্যাপক, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগ এবং ডা. শাফাতুজ্জাহান, পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক, সিমশ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ এবং অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

উক্ত সংবাদসমূহে উপস্থাপিত তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য গ্রহণ কিংবা যথাযথ তথা যাচাই না করেই এসব মানহানিকর সংবাদ ও প্রচারণা পরিচালিত হয়েছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের অপপ্রচারের উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করা, তাঁদের পরিবারকে মানসিকভাবে হয়রানির শিকার করা এবং একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণ দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছেন। করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকটময় সময়ে তাঁরা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের এই অনন্য অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রতি নয়, সমগ্র চিকিৎসক সমাজের প্রতিও চরম অসম্মানজনক।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি এ ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের অপপ্রচার চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনমনে অযথা বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে।

আমরা সকল গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন এবং দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারে সহায়ক ভূমিকা পালন করুন।

আরও বেড়েছে মাছ-মুরগি-ডিমের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 31 July, 2026, 12:15 pm
আরও বেড়েছে মাছ-মুরগি-ডিমের দাম

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে গরুর মাংস বাদে চলতি সপ্তাহে আরও এক দফা বেড়েছে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। তবে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাছের বাজার। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের একেবারেই নাগালের বাইরে; হাজার টাকার নিচে মিলছে না কোনো সামুদ্রিক মাছ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজি মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের কেজি এখন ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়া মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজন ভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও টেংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাকে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

পাহাড়তলী বাজারের মাছ বিক্রেতা খোকন জানান, বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেশ চড়া। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, রূপচাঁদা (সাদা) ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও মাছের আকারের ওপর ভিত্তি করে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে তিনি জানান।

মাছের পাশাপাশি দাম বেড়েছে ডিমেরও। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়। গরুর মাংসের দাম স্থির থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। আর খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

অন্যদিকে মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ব্যবসায়ী মাহবুব বলেন, ‘এ সপ্তাহে মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে। প্রতিদিন কেজিতে ৫-১০ টাকা ওঠানামা করে। আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি।’

মাছ কিনতে আসা মোরশেদ রনী নামের এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘মাছের দাম নাগালের বাইরে। প্রতিটি মাছের দামই বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা খুব কষ্টে আছে।’

আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:20 pm
আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

আনোয়ারায় কর্ণফুলী টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক ছেড়ে দোকানে ঢুকে পড়েছে। এ সময় দোকানের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা অন্তত ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাকে চাপা দেয় বাসটি। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার বাসিন্দা পলি দত্ত (৩৫) ও ইফা শীল (৪০)।আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রাতে টানেল মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় দোকানের সামনে থাকা অন্তত ছয়টি অটোরিকশা ও রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দোকানের ভেতরে ও বাইরে থাকা অনেকেই চাপা পড়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন।আহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।